‘পাঠাও’ মেসেজ ও মোবাইল নাম্বার তাদের সার্ভারে আপলোড করে থাকেইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে, তবে ডাটা রক্ষায় সাবধান!


Published: 2020-06-29 22:37:12 BdST, Updated: 2020-08-14 17:33:06 BdST

আইটি লাইভ: প্রাণঘাতি করোনায় অলস সময় কাটছে। ঘরে বসেই অনেকেই ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত। বিশ্বব্যাপি ওই মহামারির ছোবলে লন্ড-ভন্ড সবকিছু। আর এর খবরাখবর নিতে সকলেই ব্যস্ত। কি আর করা ইন্টারনেটের সাহায্যে সকলেই যে যার মতো নানান বিষয় নিয়ে সময় পার করছেন। এর ফলে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময়ে বেড়েছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ শতাংশ। বর্তমানে, বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে বাসা থেকে অফিসের কাজ, দূরে থাকা প্রিয়জন ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগও চলছে হর হামেশা। এর ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি বাড়িয়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। তাই ব্যবহারকারীকে হতে হবে সতর্ক । চোখ কান খোলা রাখতেই হবে। নইলে যে কোন অঘটন ঘটতে পারে।

আইটি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারে সাবধানী হতে হবে। এই করোনাকালে অনেক কমিউনিকেশন অ্যাপ এসেছে। এর জনপ্রিয়তাও লাভ করেছে। এগুলো মূলত ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ অথবা মোবাইল ভিডিও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীর তথ্য তৃতীয় পক্ষকে কিংবা বাইরে দেয়ার মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে নিজস্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

তারা আরো জানান, কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। যদিও, বর্তমানের প্রতিকূল সময়ে এই অ্যাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু একইসাথে মাথায় রাখতে হবে, এই অ্যাপগুলো রিয়াল টাইমে স্টোর লোকেশন ডাটা প্রসেস করে। তারা ব্যববহারকারীর অনেক কিছুই চুরি করতে পারে। গোপনীয় ও ব্যক্তিগত তথ্য চরিতে তারা যথেস্ট পটু।

অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজস্ব শখের বিষয় নিয়ে এবং পছন্দানুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপ কিংবা কমিউনিটির সাথে যুক্ত হয়। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোও এখন অনেক সক্রিয় এবং এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও মানুষ তাদের প্রয়োজন মেটাতে এগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু, এ পাবলিক গ্রুপগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ব্যবহারীর প্রোফাইলের তথ্য অপরিচিত মানুষকে দিতে পারে। অন্য মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বার্তা স্ক্যান করে প্রাপ্ত তথ্যগুলো টার্গেটিং ও অ্যাডভার্টাইজিংয়েও ব্যবহার করতে পারে। এমন ঘটনা তো হেররোজই ঘটছে।

করোনার এই কঠিন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার এই বৈশ্বিক মহামারির কালে ব্যবহারকারীরা কোন কোন অ্যাপগুলোর ওপর আস্থা রাখবেন, যা একই সাথে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও সুরক্ষিত রাখবে? বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মেসেজিং অ্যাপ রাকুতেন ভাইবার বিভিন্নভাবে ব্যবহারকারীর অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিতে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তবুও মনে রাখতে হবে যা একান্তই দরকার তাই দিতে হবে।

রাকুতেন ভাইবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামেল আগাওয়া বলেন, অন্য অ্যাপের মতো ভাইবার মার্কেটিং ক্যাম্পেইনে ব্যবহারকারীর ডাটা ব্যবহার করে না। তারা কোথাও বিক্রিও করে না। ভাইবারের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনক্রিপ্টেড থাকে এবং তাই ভাইবারের কারও পক্ষে ব্যবহারীর বার্তা বা তথ্য দেখা অসম্ভব। ব্যবহারকারীর পাঠানো প্রতিটি ব্যক্তিগত বার্তা শুধুমাত্র যাকে পাঠানো হয়েছে, সেই শুধু তার ব্যবহৃত ডিভাইসেই পড়তে পারবেন। নিজেদের ডিভাইসের তথ্য সুরক্ষিত করতে ব্যবহারকারীরা কিছু নির্দেশনাও অনুসরণ করতে পারেন।

এক্ষেত্রে, ফোনের প্রাইভেসি সেটিংস দেখে নেয়া যেতে পারে। এখানেই ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন ডিভাইসে কোন কোন অ্যাপ রয়েছে। আর ওই অ্যাপে কোন ডাটা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া আছে। ব্যবহারকারী যদি একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ চিহ্নিত করে তার উপযোগিতা কমাতে চান তাহলে টোগল সুইচে ট্যাপ করে অ্যাপটিকে ডিজ্যাবল করে রাখা যাবে।

ব্যবহারকারী যদি শেয়ারড ডিভাইসে থাকেন, তবে এক্ষেত্রে তার টাইপকৃত সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখতে অটোফিল টার্ন অফ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ ব্যবহারের পর অবশ্যই লগ আউট করতে হবে। এতে করে, পরের ব্যবহারকারী আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইল দেখতে পারবে না। কোন কিছু করতেও পারবেন না।

এছাড়া অ্যাপ ইন্সটল করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক হতে হবে। অ্যাপ স্টোর কিংবা প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করাই নিরাপদ। তবে, এক্ষেত্রেও, দেখতে হবে এগুলো বিশ্বস্ত বা নিরাপদ কিনা। মনে রাখতে হবে, অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ডাটা সংগ্রহ করে থাকে বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ব্যবহার করে। ফোনের প্রতিটি অ্যাপে প্রবেশের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেকটি অ্যাপেরই নিরাপত্তা সমস্যা হতে পারে। ব্যবহারকারী হয়তো নাও ভেবে থাকতে পারেন, কিন্তু ব্যবহারকারীর ছবি এডিটিং অ্যাপ কন্ট্যাক্টস, লোকেশন ও প্রোফাইলে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

ব্যবহারকারীরা যে অ্যাপটি কম ব্যবহার করে তা ডিলিট করাই ভালো। এবং এতে ব্যবহারকারীর ফোনের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে। ভাইবারে ডিফল্ট এনক্রিপ্টেড চালু হওয়ার পর, ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি হওয়া নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ‘রাকুতেন ভাইবার ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য আমরা গর্বিত। আমরা কখনোই ব্যবহারকারীর ডাটা বিক্রি করবো না। এমনকি ব্যবহারীর তথ্য আমরা দেখতেও পাই না,’ বলেন জামেল আগাওয়া।

অনলাইনে সকল ব্যক্তিগত যোগাযোগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর বেশ কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে, তারা যেসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন সে সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করে অনলাইনে ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ইন্টারনেটে তথ্য বেহাত হওয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবেন এবং নিরাপদে পরিচিতদের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন।

অ্যাপ ডাউনলোড:
অ্যাপ তবে ডাউনলোড করা মোটেও নিরাপদ নয়। অ্যাপ নিচ্ছে নানা রকম তথ্য। সম্প্রতি অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ এর বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের গোপনীয় তথ্য নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মুহূর্তে আপনি কোথায় অবস্থান করছেন? জিপিএস এর মাধ্যমে এই অ্যাপ আপনার অবস্থান জানতে পারবে। আপনার স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম, কনফিগারেশন, ব্র্যান্ডের মতো তথ্যগুলো জানতে পারবে।

স্মার্টফোনের স্টোরেজে থাকা ছবি, ভিডিওসহ যে কোনো ধরনের ফাইল দেখতে পারবে। চাইলে সেগুলো সম্পাদনা বা মুছে ফেলতে পারবে। আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলতে পারবে। প্রিয় বন্ধুকে আপনি কি এসএমএস লিখছেন? ব্যাংক থেকে এসেছে লেনদেনের তথ্য? এমন সব এসএমএসই পড়তে পারবে। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ব্রাউজারের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। কোন মোবাইল সংযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন তাও জানতে পারবে পাঠাও অ্যাপ।

এদিকে ফেইসবুক যতো ইনফো নেয় প্রতিটা ডিটেইল বলে দেয় সেই ড্যাটা দিয়ে তারা আসলে কি করতে যাচ্ছে। এমনকি অ্যাড দিবে আপনার কি কি ইনফো ব্যবহার করে সেটাও জানিয়ে দেয় ইউজারকে। একটু এদিক ওদিক করে আইন-আদালাত ফেইস করে আসছে অলরেডি। পাঠাও পার্সোনাল এসএমএস চুরি করেছে। অনেক সময় অ্যাপের ডেভলোপমেন্টের স্বার্থে permission নেওয়া লাগে, কিন্তু personal সব ড্যাটা পাস করে নেওয়াটা গুরুতর অন্যায়।

এই অ্যাপটির গুগল প্লে Content Rating 3+ যেখানে তারা মিথ্যা বলেছে। সেখানে স্পষ্ট একটা টার্ম থাকে "এই অ্যাপটি কি গোপনে ইউজারের ব্যাক্তিগত তথ্য নিবে?" পাঠাও বলেছে "না"। এজন্যই Content Rating 3+ পেয়েছে।
আমার মনে হয়, একটা তদন্ত হওয়া দরকার। লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। অবশ্যই ভুল থাকলে সেটা দ্রুত শুধরে নেবার অনুরোধ জানাই।

পাঠাও কর্তৃপক্ষ অবশেষে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা আপনার আমার মেসেজ এবং মোবাইল নাম্বার তাদের সার্ভারে আপলোড করে থাকে। OTP কিংবা এস এম এস ভেরিফিকেশনের জন্য ইনবক্সের Access নিতেই পারে, সার্ভারে আপলোড করার ক্ষেত্রে পাঠাও যে নিরাপত্তার দাবী দেখাচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভূয়া এবং ফাইজলামি ব্যাতিত আর কিছুই নয়।

তারা এতো লাখ লাখ গ্রাহকের এসএমএস আর কন্ট্রাক্ট নাম্বার তাদের সার্ভারে আপলোড করে রেখেছে, সেটা তারা কি কাজে ব্যাবহার করবে তাও জানি না। কিন্তু সেই সার্ভার যদি কোনদিন হ্যাক হয় তাহলে বাংলাদেশের কোন অনলাইন ব্যাবহারকারীর প্রাইভেসি বলতে কিছুই যে থাকবে না; সে ব্যাপারে নিশ্চিত। পাঠাও এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের সঠিক তদন্ত দাবী করছি। আমার এসএমএস, আমাকে নির্দিষ্ট করে বলে অনুমতি নেওয়া ছাড়া তাদের সার্ভারে আপলোডের কোন অধিকার পাঠাও এর নেই।

ঢাকা, ২৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।