কুবির 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা, অনিয়মের অভিযোগ


Published: 2019-11-08 15:57:58 BdST, Updated: 2019-11-15 17:25:14 BdST

কুবি লাইভ: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের 'এ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় থেকে বেলা ১১টায় পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ ১৮টি কেন্দ্রে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ কোন প্রকার ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। এমন সিদ্ধান্তের পরেও কুমিল্লা নগরীর ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজ (ডিগ্রী শাখা-২) কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল, ব্যাগসহ হলে ঢুকতে দেখা যায়। এমনকি শিক্ষার্থীদের তল্লাশী ছাড়াই ভবনে ঢুকতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা­ ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজ (ডিগ্রী শাখা-২) কেন্দ্রের সমন্বয়ক মেহেদী হাসান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'প্রশাসনের সহযোগীতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ম্যানেজমেন্ট এর ত্রুটির কারণে এমনটা হয়েছে। বিকেলের পরীক্ষায় যেন কোন অভিভাবক কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে এবং পরীক্ষার্থীরা ব্যাগ এবং মোবাইল না নিতে পারে সে বিষয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।'

এই কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'বিষয়টি আমার নজরে আসে নাই। এগুলো প্রশাসন এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিরা দেখবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'সংবাদটি পাওয়ার সাথে সাথে আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল জব্দ করেছে। আর পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে বিষয়টি নিয়ে সবাই সজাগ থাকবে।

এদিকে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ থেকে দশ মিনিট পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আসলেও ডুকতে দেওয়া না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৮ মিনিট পর এক নারী শিক্ষার্থীকে মানবিক বিবেচনায় প্রবেশ করার অনুমতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী।

এতে বেশ কয়েকজন অভিবাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবার জন্য একই রকম নিয়ম হওয়া উচিত, পাঁচ মিনিট পরে আসলেও অনেক শিক্ষার্থী প্রবেশ করতে পারেনি আবার ১৮ মিনিট পর এসে পরীক্ষা দিতে পারে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এমন অনিয়ম হতাশা জনক।

সার্বিক বিষয়ে 'এ' ইউনিটের প্রধান ড. সজল চন্দ্র মজুমদার বলেন, দু'একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতীত সার্বিক দিক থেকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যে যে কেন্দ্রে বিশৃংখল ঘটনা ঘটেছিল তা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং কেন্দ্র সমন্বয়কের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছি।

পরীক্ষায় উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো আমাদের কাছে পুর্ণাঙ্গ তথ্য আসেনি। তবে আনুমানিক ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, এবছর ‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ) সাতটি বিভাগে ৩৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন ২৬ হাজার ৯৭৫ জন শিক্ষার্থী।

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।