কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দায়িত্ব কার?


Published: 2019-04-01 19:06:43 BdST, Updated: 2019-12-07 03:36:21 BdST

কুবি লাইভঃ কে নেভাবেন আগুন। হঠাৎ আগুন কোথাও লেগে গেলে কে ধরবে এর হাল? কে এগিয়ে যাবে ফায়ার ব্রিগেডের কাছে? এমন প্রশ্নের কোন জবাব নেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে। এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

অতি সম্প্রতি রাজধানীর চকবাজার ও বনানীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আতঙ্ক কাজ করছে সবার মাঝেই। এ থেকে ব্যতিক্রম নয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

সরেজমিনে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থার নাজেহাল দশা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে কোন দফতরের অধীনে এটি নিয়ন্ত্রিত হয় সেটাই কেউ সঠিক করে বলতে পারেনি। কেউ কোন কথা বলতেও রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ আবাসিক হলগুলোতে নেই আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসব জায়গায় স্থাপন করা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলোর বেশিরভাগই হয় মেয়াদোত্তীর্ণ নয়তো অকেজো।

কোনো কোনো যন্ত্রে নেই মেয়াদের স্টিকার কিংবা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। আবাসিক হলগুলোতে আগুন নিয়ন্ত্রণের মূল্যবান যন্ত্র চুরি হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ক্যাম্পাসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর কোনোটিতেই নেই একাধিক ফটক কিংবা জরুরি বহির্গমনের উপায়।

হাতেগোনা কয়েকটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সক্রিয় থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই জানা নেই এর ব্যবহারবিধি।

২০১৮ সালের এপ্রিলে ফায়ার সার্ভিসের আগুন প্রতিরোধবিষয়ক একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হলেও এরপর এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত সব ব্যাপারে সচেতন থাকা।

আগুন লাগার মতো দুর্ঘটনা যে হারে বেড়ে চলেছে সেই অনুপাতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সিজান মানিক জানান এবিষয়ে আমরা অনেকবার বলাবলি করেছি। কিন্তু এগিয়ে আসেননি। এখন দুর্ঘটনা ঘটলে কি হবে আমরা জানিনা।

এদিকে পাশে নেই কোনো পুকুর কিংবা জলাশয়। অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে নামমাত্র, তবুও এ বিষয়ে সচেতন নয় শিক্ষার্থীরা। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা দুরহ হয়ে উঠবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘শিগগির এ নিয়ে কাজ করা হবে’ এমন দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ দফতরই একে অন্যের উপর দায় চাপিয়েছেন।

এসব বিষয়ে প্রকৌশল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এস এম শহিদুল হাসান বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ ও অকেজো, এটা আমিও দেখেছি। তবে এর সংশ্লিষ্ট দফতর আমার নয়। এটি কোন দফতরের অধীনে সেটাও আমি জানি না।’
তিনি বলেন, এগুলো মেরামত করা জরুরি।

এটি নিরাপত্তা শাখা, নাকি এস্টেট শাখা অথবা পরিকল্পনা দফতর দেখভাল করে তা একটু খোঁজ নিতে হবে। তবে নতুন যে ভবনগুলো হচ্ছে সেগুলোতে যথাযথ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা থাকছে। এবিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. সাদেক হোসেন মজুমদার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র মেরামত তার দফতরের দায়িত্ব নয় বলে অন্য দফতরের উপর দায় চাপিয়ে দেন।

মোদ্দাকথা কেই এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়েই ক্ষান্ত।

ঢাকা, ০১ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।