জাবি ভিসিকে লাল কার্ড দেখালো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, ভিসির সংবাদ সম্মেলন


Published: 2019-10-01 22:14:24 BdST, Updated: 2019-10-18 22:47:14 BdST

জাবি লাইভঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এবার নতুন নিয়মে আন্দোলনে মাঠে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে। বলেছেন সময় থাকতে গদি ছেড়ে সম্মান নিয়ে চলে যান। তা নাহলে নাসির সাহেবের অবস্থা হবে। দুর্নীতি-অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন টানা ৮ম দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

মঙ্গলবার দুপুরে ভিসির প্রতি লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সভায় ভিসির প্রতি লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।

লাল কার্ড প্রদর্শন

 

আজকের মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন। তিনি বলেন, ভিসিকে আজকের মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়া হলেও তিনি তা করেন নি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হবে।

এই আয়োজনে অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, জামাল উদ্দিন রুনু, মির্জা তাসলিমা সুলতানা ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিসির সংবাদ সম্মেলনঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে আজ মঙ্গলবারের মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়া হলেও ভিসি পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বিচার-বিভাগীয় তদন্তের যে দায়িত্ব আমাকে আন্দোলনকারীরা দিয়েছে, সেটি অযৌক্তিক। আমি নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বা চাইতে পারি না। এটি সরকার অথবা বিচার বিভাগ চিন্তা করবে। এখানে অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আমাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগে আহ্বান করা হচ্ছে।

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম

 

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, যেহেতু তাদের দাবিতে যুক্তি নেই। তাই পদত্যাগে আমি ইচ্ছা প্রকাশ করছি না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আমি যেতে পারি না। আমি আন্দোলনকারীদের আইনি বিশেষজ্ঞের মতামত জানিয়েছি। এছাড়া ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার পক্ষে তো এটিই করা সম্ভব। তদন্তের বিষয়ে ইউজিসি কোন চিঠি দেয়নি বলেও জানান তিনি।

দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, আচার্যের কাছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে খবর যাবে। যদি তারা মনে করে তদন্ত করা উচিত, তাহলে অবশ্যই তারা করবে। সেক্ষেত্রে আমার দিক থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব আমি করবো। এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় ভিসির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে ভিসির ব্যক্তিগত বিষয় বলে জানিয়ে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন অনুপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ০১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।