অপরিকল্পিত উন্নয়নের বলি পাহাড়, নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র


Published: 2019-09-06 18:26:43 BdST, Updated: 2019-11-13 11:12:20 BdST

কুবি লাইভ: ‘লাল পাহাড়ের সবুজ ক্যাম্পাস’ নামে পরিচিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। উঁচু নিচু পাহাড়ের মাঝে সবুজের সমারোহে ঘিরে আছে ক্যাম্পাসটি। পরিচিতির উৎস সেই পাহাড় কেটে নির্মাণ হচ্ছে ভবন। প্রশাসনের অপরিকল্পিত উন্নয়নে বলি হচ্ছে এসব পাহাড় মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এদিকে পাহাড় কাটার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনদের দাবি, ভবন নির্মাণের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ যথাযথভাবে পরিকল্পনা করলে পাহাড় না কেটেই উন্নয়ন করা সম্ভব ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিমে পাহাড়ের একটি অংশ কেটে সেই মাটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নির্মাণাধীন সড়কদ্বীপ এবং ডরমেটরির নিচু স্থান ভরাট করা হচ্ছে। এর ফলে যেকোনো সময় পাহাড়টির বাকি অংশ ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত দুই বছরের মধ্যে কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণাধীন ডরমেটরি এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জন্য দুটি পাহাড়ের আংশিক কেটে ফেলা হয়। ওই পাহাড় দুটির বাকি অংশও এখন ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ এর ৬ এর (খ) ধারায় বলা আছে, ‘কোনো পাহাড় বা টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না, তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণক্রমে পাহাড় কর্তন করা যাইবে।'

এই ছাড়পত্রের বিধান থাকলেও পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাদের সাথে কোন কিছু জানায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটার অনুমতি নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শহিদুল হাসান ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, হলের সাথে পাহাড়টি থাকায় যেকোন সময় ধসে পড়ে হলের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া হলের স্যানিটারি ব্যবস্থা ও ড্রেইন নির্মাণের জন্য পাহাড়টি কিছুটা কাটা হচ্ছে। তবে পাহাড়টি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হবে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দাবি, পরিকল্পনা মাফিক হল নির্মাণের আগেই যদি পাহাড়টিকে সংরক্ষণ করা হতো তবে এখন পাহাড়টি এভাবে কাটতে হতো না।

অপরিকল্পিত উন্নয়নে এভাবে পাহাড় কাটায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা ক্যাম্পাসলাইবকে জানান, লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাস খ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে এই পাহাড়গুলো। এসব পাহাড় এভাবে কেটে ফেলা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের জানান, বঙ্গবন্ধু হলের পাশে এ পাহাড়টির কারণে হলের তৃতীয় তলা পর্যন্ত ঢেকে থাকে। যার ফলে হলটিতে সঠিকভাবে আলো-বাতাস প্রবেশ করবে না এবং পাহাড়টি যেকোনো সময়ে হলের ওপরে ধসে পড়তে পারে। এ জন্য পাহাড়টিকে কিছুটা কাটা হচ্ছে। তবে পাহাড়টি পুরোপুরি কাটা হবে না, এটি গার্ড ওয়াল দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে। ’

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।