এমপিও বাতিলের দাবি চবি কলেজ শিক্ষার্থীদের


Published: 2019-10-24 21:28:12 BdST, Updated: 2019-11-19 03:46:53 BdST

চবি লাইভঃ সারাদেশে অনেক দিন থেকেই এমপিও ভুক্তির জন্য আন্দোলন করছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। কিন্তু উল্টো চিত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমপিও পেয়ে তা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি কলেজ।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজের সামনের রাস্তায় আন্দোলন ও রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় আরও পাঁচটি দাবি জানায় তারা। কলেজের শিক্ষকরাও তাদের এই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।

দাবিগুলো হলো
১.অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ফজলুল হককে অপসারণ।
২.সার্বিক বিষয়ে অধ্যক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে।
৪. কলেজে শিক্ষক সংকট পূরণ।
৪.অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ।
৫.টেস্ট পরীক্ষা না দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার অনুমতি প্রদান করতে হবে।

এসময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বালুর বস্তা, বিদ্যুতের খুঁটি এবং গাছের ডাল ফেলে তিন ঘন্টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখেন এবং প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন থেকে সরে আসেন।

শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে ইংরেজি বিষয়ের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ড মিজানুর রহমান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। আমরা চাই এমপিও না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজটি পরিচালিত হোক। এই সময় তিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে বলেন, আমরা তার পদত্যাগ দাবি করি।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা প্রশাসনের কাছে দাবিগুলো সম্পর্কে জানিয়েছি। প্রশাসন আমাদেরকে দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। ভর্তি পরীক্ষার পর আবার প্রক্টর অফিসে যোগাযোগ করবো। ততদিনে যদি আমাদের দাবি পূরণ না হয় তাহলে ৩ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আবেদন চালিয়ে যাবো।

রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রিফাত রহমান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ভর্তি পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবে না বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট খোলার প্রাক্কালে কলেজ থেকে ১৬ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছিল। কিন্তু তাদের অনুমোদন ছিল না।

অনুমোদন না থাকায় ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ জুন সকালে ওই ১৬ শিক্ষককে চিঠি দিয়ে কলেজে যোগ দিতে বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সুপারিশ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সিন্ডিকেট মিটিং সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চবি প্রশাসন বরাবর একটি চিঠি পাঠায়।

চিঠিতে চবি ল্যাবরেটরি কলেজ থেকে ১৬ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগে নিয়োগের বিষয়ে সংস্থাটির অনুমোদন নেই বলে জানায়।পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবেও তাদের ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকায় তাদের ফের ওই কলেজে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করে ইউজিসি।

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।