অবশেষে চবি ছাত্রলীগে সমঝোতা!


Published: 2020-03-06 01:40:22 BdST, Updated: 2020-04-06 17:22:01 BdST

চবি লাইভঃ অবশেষে সমঝোতায় এসেছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগ। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন এটা সাময়িক। মনের ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে কারো কারো। অনেক নাটকিয়তার পরে অবশেষে সমঝোতার সিদ্ধান্তে নিতে যাচ্ছেন তারা। গ্রুপিং বাদ দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগ করার বিষয়ে এক হয়েছে সকল গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার(৫ মার্চ) রাত নয়টায় থেকে এগারো টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিন আখতারের সাথে বৈঠকের পর সংঘাতে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনীতির ঘোষণা দেন ছাত্রলীগের সকল উপগ্রুপ নেতারা।

জানা যায় ,সংঘাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন মামলা করবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিবে তার ভিত্তিতে প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।

অন্যদিকে হল থেকে বিতাড়িত বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীদেরকে সোহরাওয়ার্দী হলে উঠতে দেওয়া হবে। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে উপাচার্য দেখার আশ্বাস দেন। এছাড়া আটককৃত সকল নেতাকর্মীকেও ছেড়ে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ক্যাম্পাস শান্তিপূর্ণ রাখার ব্যাপারে সকলেই সম্মত হয়েছি। হলেও সকল নেতাকর্মীর সহাবস্থান বজায় থাকবে। আমরা শান্তি চাই। আর এই শান্তি ও সম্প্রতি ধরে রাখতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মনিরুল হাসান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমাদের কাছে শান্তিপূর্ণ রাজনীতি সবসময়ই কাম্য। সকলে সমঝোতায় আসার কারণে আর মামলা করছি না।তদন্তের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য,আলাওল হলের ২৩৮ নম্বর কক্ষে বিজয়ের কর্মী মো. আবদুল্লাহ ও কনকর্ডের কর্মী আরমান হোসেন বসবাস করেন। এ দু’জনের মধ্যে কয়েক দিন ধরে ঝগড়া হচ্ছিল। পরে আবদুল্লাহ বিজয়ের আরেক কর্মী মো. আবিরকে নিয়ে গত সোমবার আরমানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে আরমান সিক্সটি নাইনের নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে আবিরকে মারধর করেন। এর থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এ ঘটনার রেশ ধরে বুধবার বিকেলে সিক্সটি নাইনের এক কর্মীকে মারধর করেন বিজয়ের নেতা-কর্মীরা। ঘটনা জানাজানি হলে সন্ধ্যায় আবারও সংঘর্ষে জড়ায় সিক্সটি নাইন ও বিজয়। রামদা, লোহার রড, কাচের বোতল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নেন বিজয়ের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেয় সিক্সটি নাইন।

এ সময় উভয়ই একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ এসে উভয়কে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পাশাপাশি চারজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ইটপাটকেলে আঘাতে ও পুলিশের ধাওয়ায় তিন উপপক্ষের পাঁচ কর্মী আহত হন।

তাঁদের মধ্যে চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।

ঢাকা, ০৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।