চবিতে আইন ভঙ্গ করে পিএইচডি কোর্সের সুপারভাইজার নিয়োগ!


Published: 2020-10-25 01:03:44 BdST, Updated: 2020-11-27 14:17:14 BdST

লাইভ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কি চলছে। নিয়ম নেই, কোন শৃংখলা নেই। চলছে নানান আয়োজন। এবার আইন ভঙ্গ করে পিএইচডি কোর্সের সুপারভাইজার নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে।সংশ্লিস্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল ও পিএইচডি কোর্সের গবেষণার নীতিমালার ১১নং ধারার (চ)-তে উল্লেখ করা আছে, একাডেমিক এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে দুর্নীতি করার দায়ে যে সকল শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় চাকুরি থেকে অপসারণ/বরখাস্ত করা হয় বা বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয় অথবা চাকুরিরত অবস্থায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়, সে সকল শিক্ষক এমফিল ও পিএইচডি কোর্সের ছাত্র-ছাত্রীদের সুপারভাইজার, যুগ্ম সুপারভাইজার, পরীক্ষা কমিটির কনভেনর বা পরীক্ষা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজে নিয়োজিত থাকলে তাদেরকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু এর ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গ করে সুপারভাইজার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়,অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনকে ২০০৮ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবহির্ভূত কাজ করা, বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল কাজ থেকে ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন শাস্তি মওকুফের আবেদন করলে ২০১২ সালের ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ৫ বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে বিরত রাখার শাস্তি ২০১২ সালের ১৫ মার্চ থেকে রহিত করে তাঁকে পুনরায় পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ করার সুযোগ দেয়। কিন্তু ওই সিন্ডিকেটে ফরিদ উদ্দীনের এমফিল ও পিইচডি’র সুপারভাইজার হওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সুপারভাইজার হওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যদি পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তদানুয়াযী শাস্তি পান, তাহলে ওই শিক্ষক আর কখনো এমফিল ও পিএইচডি কোর্সের সুপারভাইজার হতে পারবেন না।

তবে তিনি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীনের ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলতে অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান জানান,এটা অন্যায় আমরা বুঝতে পেরেছি। কিন্তু এই অনুমোদন হয়েছিলো সাবেক ভিসির সময়। তখন সংশ্লিষ্ট পর্ষদ হয়তো বিষয়টি খেয়াল করেন নি। পূজোর ছুটি শেষ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

তবে যার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ সেই অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন তার দায় অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, সব নিয়ম মেনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পরই শিক্ষার্থীরা তার অধীনে গবেষণা করছেন। এখানে অনিয়ম হলে তার দায় কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জিএস ওয়ান

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।