তিতুমীর কলেজ ছাত্রী সাদিয়ার বাঁচার আকুতি


Published: 2019-08-21 16:27:18 BdST, Updated: 2019-09-17 17:03:09 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া। কিছুদিন পূর্বেও মরণব্যাধি ‘ক্যানসার সচেতনতা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান’ কর্মসূচি করেছিল সাদিয়ে। নিজেও একাধিকবার মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দেয় সে।

স্বেচ্ছায় রক্তদানের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাঁধনের কার্যক্রমে সঙ্গে জড়িত ছিল তিতুমীর কলেজ ছাত্রী সাদিয়া। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীই আজ মরণব্যাধি ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। অসহনীয় ব্যথা ও ক্যানসারের যন্ত্রণায় কিছুক্ষণ পরপর ছটফট করছে। সাদিয়ার বাঁচার আকুতি ও বাবা মায়ের বুকফাটা আর্তচিৎকারে ভারী হচ্ছে রাজধানীর মিরপুরের আলোক হেলথ কেয়ারের পরিবেশ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোলন ও ওভারি ক্যানসার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই মুহূর্তে অর্থ যোগানের বিকল্প নেই। শিগগিরই তিনটি কেমোথেরাপি বিদেশ থেকে আনতে হবে। যার একেকটিতে ব্যয় পড়বে ৬ লাখ টাকা।

গত ২০১৮ সালে মে মাসে পরীক্ষার কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে উত্তরা মহিলা মেডিকেল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে উত্তরার আর এম সি হাসপাতালে জরুরি অপারেশন করা হয়। অপারেশনে কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে।

বর্তমানে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান বিদ্যুতের তত্ত্বাবধানে এখন আলোক হাসপাতালে একুশ বছর বয়সী সাদিয়ার চিকিৎসা চলছে।

সাদিয়ার মা কামরুন নাহার জানান, ৮টি কেমোথেরাপির পর আরও একটি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে ক্যানসার সমস্ত পেটে ও জরায়ুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মাঝে আমরা কোলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় আবার দেশে চলে আসি।

এখন মেয়ের পা ফুলে মোটা হয়ে গেছে। পেটও ফুলে গেছে। ব্যথ্যায় অস্থির হয়ে গেছে। এক ঢোব পানি ছাড়া কিছুই খেতে পারছে না। আমার মেয়েটা সব সময় মানুষের সেবায় কাজ করেছে। মানা করলেও অন্যকে রক্ত দিত।

এ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের ভিটেমাটিটাও বিক্রি করে দিয়েছি। আর কোলাতে পারছি না। বাধ্য মেয়ের জীবনের জন্য সবার দারস্থ্য হতে হচ্ছে। ডাক্তাররা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এত ব্যয়বহুল চিকিৎসার ভারে অসহায় হয়ে পড়ছি। এখন হাসপাতালে প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয় ও সিট ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ কোনভাবেই মেটাতে পারছি না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিনীতভাবে সাদিয়ার মা জানান, উনি যদি আমার মেয়েটার দিকে তাকাতেন!’

ক্যানসারে আক্রান্ত সাদিয়া সুলতানার সহপাঠী মারজিয়া আফরোজ মিলি জানান, তারা কলেজের বন্ধু বান্ধব মিলে প্রায় লাখ খানেক টাকা ইতোমধ্যে জোগাড় করেছে। যা দিয়ে চিকিৎসার খরচ চলছে। সহপাঠীরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম। তার ওয়ার্ডেই দীর্ঘদিন ধরে থাকেন সাদিয়ার পরিবার। কাউন্সিলর নিজেও আর্থিক সহায়তার জন্য সকলের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় মেধাবী এই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সম্ভব। আমাদের একটু সহযোগিতায় ক্যানসারকে জয় করে আবারও প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠতে পারে সাদিয়া।

ক্যানসারে আক্রান্ত সাদিয়া সুলতানাকে আর্থিক সহায়তায় ০১৯৭৭১০৮৩৮৩ বিকাশ (এজেন্ট)। ব্যাংক হিসাব কামরুন নাহার (সাদিয়ার মা) -আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক (খিলক্ষেত শাখা) ৯৯০১১৮০৫৯৯৫৬৭। মোবাইল: ০১৬৮৮৫১৮৩৪৫।


ঢাকা, ২১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।