শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারকে ছুটিতেশিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, প্রমাণও মিলেছে


Published: 2019-09-01 16:01:08 BdST, Updated: 2019-12-15 13:24:24 BdST

লক্ষ্মীপুর লাইভঃ ৫ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রমাণ মিলেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে গোটা এলাকায় চলছে নানান গুঞ্জন। সমালোচনা। ওই শিক্ষক প্রথমে নিজেকে নির্দোশ বললেও পরে তা প্রমানিত হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নবম শ্রেণির পাঁচ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

ওই কমিটি শনিবার সন্ধ্যায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এনিয়ে এলাকায় চলছে টান টান উত্তেজনা।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান জানান, ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।

তদন্তকালে ওই পাঁচ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের বিভিন্ন কৌশল ও টেকনিকও জানাগেছে যা দু:জনক ও লজ্জাজনক।

উপাধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান আরোও জানান, লক্ষ্মীপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকার দীর্ঘদিন ধরে ৯ম-১০ম (ভোকেশনাল) শ্রেণির ছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানের সামনের ঘরে প্রাইভেট পড়াতো।

আর এই সুযোগে প্রায়ই ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষায় ফেল করে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে পাঁচ ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ১৯শে আগষ্ট অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিচার চেয়ে পাঁচ ছাত্রী অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে।

ওই অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মো. মির্জা ফিরোজ হাসানকে প্রধানকে করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মাহাবুবুর রশিদ তালুকদার।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের চীফ ইনস্ট্রাক্টর ইলেকট্রনিক্স মো. আরিফুর রহমান ও লাভলী ত্রিপুরা।

কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেন দেন অধ্যক্ষ।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। তারা আরও জানান, তা নাহলে ওই এলাকার লোকজন ভয়াবহ কর্মসূচী ঘোষণা করবে বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ওই শিক্ষার্থীরা। ছেড়ে দিয়েছে লেখাপড়া ও খাওয়া-দাওয়া। ইতিমধ্যে তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর। 

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মাহাবুবুর রশিদ তালুকদার। এছাড়া অধ্যক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক লিটন চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আনা লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এর আগে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শামীম হোসেন ও আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারীর অভিযোগ ওঠে। তখনকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান কোন ব্যবস্থা না নিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সহায়তার করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ প্রতিষ্ঠানে একের পর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছেন উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৫ শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে শাস্তি পেতে হবে ওই শিক্ষককে। 

 

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।