স্ট্যামফোর্ড ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ভার্সিটিকে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা


Published: 2019-10-30 18:48:14 BdST, Updated: 2019-11-12 04:51:05 BdST

 

লাইভ প্রতিবেদকঃ অবশেষে ধরা খেল দুটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। অতিরিক্ত অর্থের মোহে ও বেশী চালাকি করতে গিয়েই তারা ধরা খেয়েছেন বলে দাবী শিক্ষার্থীদের। তারা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে কতজন ভর্তি করা যাবে সেই নির্দেশনা আগে থেকেই দিয়ে দেয়া ছিল। কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একজন উপমন্ত্রীর স্বজনরা ও অপরটির সঙ্গে একজন এমপি জড়িত থাকায় বিষয়টি তারা তেমন আমলে নেননি। ওই ক্ষমতাধর বিশ্ববিদ্যালয় দুটি হলো- স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)।

জানাগেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে সেমিস্টার প্রতি ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে ছিল দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। একারণে ১০ লাখ টাকা করে জারিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে জরিমানার ওই ২০ লাখ টাকা বারডেম হাসপাতালে নিয়মিত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিটে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্তির জন্য আসন্ন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ফরম পূরণের নির্দেশ দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একারণে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় এসব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্ট আইনজীবীরা।

এদিকে মামলায় বার কাউন্সিলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মশিউজ্জামান। অপরদিকে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্তির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগে দেশের প্রায় ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দিতে সিদ্ধান্ত জানায় বার কাউন্সিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ভুক্তভোগী প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী পৃথক পৃথক রিট দায়ের করেন। সেসব রিটের শুনানি নিয়ে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এদিকে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে বার কাউন্সিল থেকে আবেদন করা হয়। ওই আবেদন মঞ্জুর করে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং আবেদনগুলোর ওপর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করে দেন। যার ধারাবাহিকতায় মামলাগুলো আজ বুধবার আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

এদিকে ভিন্ন একটি সূত্রে জানা গেছে ১১ বিশ্ববিদ্যালয় এবারও গোপনে গোপনে ভর্তির কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে।

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।