শ্রমিক হত্যায় দুই শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ, সমালোচনার ঝড়


Published: 2020-03-27 10:05:53 BdST, Updated: 2020-04-05 11:51:42 BdST

দিনাজপুর লাইভ: মানুষ হত্যায় এখন আর কোন রাজনৈতিক দল কোন প্রতিবাদ করে না। কিন্তু দিনাজপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করলো শিক্ষার্থীরা। তারা সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে শ্রকিদের অধিকার আদায়ে মাঠে নেমেছেন। ওই নির্মম ঘটনার সুস্টু তদন্ত দাবীও করছেন। বলেছেন কোন ধরনের তদন্ত ঠাড়াই পার পেয়ে যাচ্ছে খুনিরা।

প্রসঙ্গত দিনাজপুরের বিরলে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় এককভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইর না হওয়ার নিষেধাজ্ঞার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মাঠে নামা ও টহল, র্যাব-পুলিশের টহলের মধ্যেও তারা এমন কর্মসূচি পালন করেছেন। এই ঘটনা অনেকেরই নজর কেড়েছে।

এলাকাসি জানান, বৃহস্পতিবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে তারা এককভাবে এ প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাদের হাতে লেখা ছিল ‘রাষ্ট্র তুমি কার? মেহনতী মানুষের না কেবল শোষকের? বিরল জুট মিলে শ্রমিক হত্যা কেন? তারা নিরবে নিবৃতে প্রতিবাদ করলেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ওই দুই প্রতিবাদী শিক্ষার্থী বিরল রুপালী বাংলা জুট মিলে পুলিশের গুলিতে একজন নিহতের ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে বিচার, বিরলসহ সারাদেশের সকল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পূরণ করা এবং সারাদেশে সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানায়। এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ দিনাজপুর শাখার সমন্বয়ক একরামুল হক আবির ও সদস্য হারুনুর রশিদ হিমেল। তারা বলেন, একজন শ্রমিক বকেয়া বেতন নেয়ার জন্য মিলগেটে অবস্থান নেবে এটা স্বাভাবিক।

কিন্তু এতে করে গুলি বর্ষণের ঘটনা দুঃখজনক। কোনোভাবেই একজন শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেয়ার এমন ঘটনা মেনে নেয়ার মতো নয়। তাই এ ঘটনায় যারা জড়িত প্রকৃতভাবে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেলে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি।
এতে করে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাঙচুর শুরু করে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে সুরত আলী নামে একজন পান দোকানি নিহত হয়।

এ ঘটনায় প্রায় ১৪/১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর পুলিশ দাবি করেছে, এ ঘটনায় তাদের ৬/৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভা এলাকার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় পান দোকানদার। এই ঘটনায় ক্রমেই ফুসে উঠছেন এলাকাবাসী।

ঢাকা, ২৭ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।