পুলিশের এস আই স্বামীর নির্যাতন: স্ত্রীর আবেগঘন স্ট্যাটাস


Published: 2020-03-28 16:24:15 BdST, Updated: 2020-05-31 19:15:59 BdST

চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাইভ: পুলিশ বলে কথা। নির্যাতনের মাত্রাটাও ভিন্ন। স্বামীর এসআই এর নির্যাতন নিরবে সয়েছেন। কারো কাছে মুখ খুলেননি। কিছু বলেননি কারো কাছে। বাবার পরিবারের কাছেও তিনি রেখেছেন গোপন। ধৈর্য্য ধরছেন কেবল সংসার টিকে থাকার সার্থে। এমন একটি অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানার শিবগঞ্জ থানার এক এস আইয়ের বিরুদ্ধে। তিনি তার স্ত্রীকে অমানবিক ও অমানসিক নির্যাতন করেছেন। এসব কিছু সইতে না পেরে অবশেষে তিনি ফেসবুক আইডিতে তুলে ধরেছেন নির্য়াতনের চিত্র।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, তাদের এটি পারিবারিক বিষয়। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেননি। শাহনাজ পারভিন জানিয়েছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। কোন মন্তব্য করেননি।

জানা গেছে ওই এসআই তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী শাহনাজ পারভিন। তিনি গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তুলে ধরেছেন নির্যাতনের নানান রুপ। পাঠকদের সুবিধার্থে তা তুলে ধরা হলো:

শাহনাজ পারভিন তিনটি ছবি পোস্ট করে তাতে ক্যাপশন লিখেন- ‘আর কত, আমিও মানুষ আজ ১৪ দিন থেকে সইতেছিলাম। এর আগেও চুপ ছিলাম এবার চুপ থাকতে চেয়েছিলাম কিন্তু আর না। কারন কুকুর কোন দিন ভাল হয় না। পুলিশের চাকুরি করে। বে আইনি কাজ করে। আর সইতে পারবো না। ওর বোনের বা ভাই বা ওকে কেউ এমন করলে কি করতো?’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় কর্মরত এসআই তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বাগমারা উপজেলার মৃত সাহেব আলীর ছেলে। প্রায় ৬ বছর আগে ১০ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করেন একই উপজেলার আপন খালাতো বোন শাহনাজ পারভিনকে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে সংসারে তৈরি হয় কলহ। এ নিয়ে মারধর করা হয় বলে জানান তার স্ত্রী।

এরপর বিচার চেয়ে যোগাযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে। শাহনাজ পারভিন শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে দেখতে এসেই বিয়ে করেন খালাতো ভাই তৌহিদুল ইসলাম।

এর কিছু দিন পর যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আমাদের কাছে। আমার সংসার টেকাতে সে সময় তাকে নগদ ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপর বগুড়ায় চাকরির সুবাদে সেখানে গিয়ে আদম দিঘির চাপাপুর গ্রামের রিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন তৌহিদুল ইসলাম।

সে বিয়েটি আমাকে মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। আমি তার দ্বিতীয় বিয়ে না মানায় প্রায়ই আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরপরও সাড়ে তিন বছরের একটি বাচ্চা থাকায় নিরবে তার নির্যাতন সহ্য করে গেছি।’

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি দ্বিতীয় বউ রিমাকে ঘরে তোলার জন্য আমাকে চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে আমি প্রতিবাদ করায় গত ১৪দিন আগে মেরে আমার বাম পা ভেঙে দেয়। এছাড়াও শরীরে বিভিন্নস্থানে আঘাত করা হয়। পরে আমি কোনো রকমে শিবগঞ্জ থানার গেটের বাসা থেকে বের হয়ে একা শিবগঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাই। দিন দিন আমার স্বাস্থ্যের অবস্থা অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাবার বাড়ি বাগমারায় চলে আসি।’

শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘বিষয়টি শিবগঞ্জ থানার ওসি শামসুল আলম, ওসি তদন্ত আতিকুল ইসলাম ও এসআই আনামকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো তারা আমার স্বামী তৌহিদুলের পক্ষ নিয়েছেন।’

স্ত্রীকে নির্যাতনের ব্যাপারে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার এসআই ও শাহনাজ পারভিনের স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি স্ত্রী শাহনাজ পারভিনকে নির্যাতন করিনি। সিড়ি হতে পড়ে তার পা ভেঙে গেছে।

এছাড়া তিনি দ্বিতীয় বিয়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, শাহনাজের মাথায় সমস্যা আছে। শরীরে আঘাতের চিহ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো ইনজেকশনের দাগ। এলার্জি থাকায় শরীরের বিভিন্নস্থানে দাগ পড়ে গেছে। এছাড়াও তিনি সংবাদিকদের মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাবও দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানান আরোচনা ও সমালোচনা চলতে থাকে।

ঢাকা, ২৮ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।