‘তামাশা’! ''প্রধানমন্ত্রী হয়তো জানতেন না''


Published: 2020-04-03 08:48:44 BdST, Updated: 2020-05-30 03:47:52 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: তামাশা! একে অনেকেই ঠাট্রা বলেও আখ্যায়িত করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন এসব হচ্ছে অবৈধ টাকার গরম! আবার অনেকেই বলেছেন গায়ে মানে না আপনি মড়ল! তবে তরুণরা বলেছেন এটা এক ধরণের ভাব! বুঝাতে হবে আমি কি? টাকা ছিটানো বা টাকা উড়ানোক কেউই ভাল চোখে দেখছেন না। এটাকে এক ধরনের ধৃষ্টতা বলেও মন্তব্য করেছেন নগরবাসি। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাধারণ ছুটির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয়ের পথ। রাজধানীতে চলছে অঘোষিত লকডাইন!

যেখানে ৩ ফুট দুরত্ব বা সামাজিক দুরত্বের কথা বলা হচ্ছে সেখানে পুলিশের নাগের ডগায় এসব কি হচ্ছে। তিনি জেনে বুঝেই হয়তো এমনটি করছেন। অথবা ক্ষমতার দাপটে তিনি মহিয়ান হয়ে ছিনিমিনি খেলছেন মানুষের জীবন নিয়ে। তবে তিনিও আছেন রিস্কে। এই পরিস্থিতিতে নগদ টাকা বিতরণের নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুলের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে টাকা ছিটানোকে অনেকেই 'তামাশা' বলে মন্তব্য করেছেন।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকার সড়কে দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ করেন শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুল। এই কালচার তিনি কোথায় শিখলেন। গরীবদের নিয়ে এসব তিনি কি করছেন। এধরনের আচরণকে অমানবিক ও শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে আখ্যাযিত করেছেন অনেকেই।

নগদ টাকা বিতরণ করেন শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুল

 

নগদ টাকা বিতরণের সময় মানুষের ভিড়ে হিমশিম খেয়ে একপর্যায়ে ১০০ টাকার অনেকগুলো নোট ছিটিয়ে দেন তিনি। তখন নোটগুলো কুড়িয়ে নিতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে নোট ধরতে পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন এই মানুষগুলো। এটি আসলে অসহায় ও গরীবদের সঙ্গে রীতিমত তামাশা ছাড়া কিছুই না।

ওই কর্মকর্তার এই ধরনের বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, একটি কালো রঙের গাড়ির ভেতর থেকে কেউ একজন টাকা বিলাচ্ছেন। খেটে খাওয়া ও দরিদ্র অনেক মানুষ সেই গাড়ির জানালা দিয়ে টাকা নেওয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। আর গাড়ি ওয়ালা ভেতর থেকে অবলিলায় ছিটিয়ে যাচ্ছেন টাকার নোট!

অপর একটি ছবিতে দেখা যায়, মাটিতে অনেক টাকা ফেলা হয়েছে। হতদরিদ্র সেসব মানুষ ঐ টাকাগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছেন। ফেসবুকে এই ছবিগুলো শেয়ার করে অনেকে লিখেছেন, ‘ত্রাণ বিতরণের নামে এমন আচরণ নাগরিকদের সঙ্গে তামাশা। এ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই কর্মকর্তার শাস্তিরও দাবী তুলেছেন কেউ কেউ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র প্রফেসর বলেছেন ওই কর্মকর্তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন দেখে না। তার টাকার গরমের উত্তাপ কি তাদের গায়ে লাগেনি। আমরা দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে লজ্জা পেয়েছি। কষ্ট পেয়েছি। আমাদের দেশের কর্ণধার প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা দরকার এসব কিছু। কারণ রাস্ট্রের কেউ এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর স্মরণাপন্ন হতে চাই। তাকে জানাতে চাই এসব কর্মকর্তার কুকীর্তির কিছু দিক।

সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেছেন, এটা কেমন কথা। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গরীবদের সঙ্গে নয় বরং রাস্ট্রের সঙ্গে তামাশা করেছেন। কারণ টাকাতো রাস্ট্রের। এর মালিকানা ব্যক্তির নয়। তাই ওই টাকা নিয়ে যা খুশি তা করতে পারেন না একজন নাগরিক।

এটা কি সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা? তার কি শাস্তি হবে না?

 

দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়তো এসব ব্যাপারে কিছুই জানেন না। কারণ এধরনের গর্হিত কাজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুলের মতো একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা করতে পারন এটা বিশ্বাস করা মুশকিল। কিন্তু তিনি সত্যি এমনটি ঘটিয়েছেন। তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন সমাজেন বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ।

ঢাকা, ০৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।