জাবিতে ‘ছাত্র-শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ’ বাতিলের দাবি


Published: 2019-05-20 20:30:31 BdST, Updated: 2019-09-15 20:41:30 BdST

জাবি লাইভ: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশ ও প্রশাসনের সমালোচনা বন্ধ করতে সম্প্রতি প্রণীত হয়েছে বিতর্কিত ‘ছাত্র-শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ-২০১৮’।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী এ ‘ছাত্র শৃঙ্খখলা বিধি’ বাতিল করে সবার মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীবান্ধব সময়োপোযোগী ও যথাযথ অধ্যাদেশ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব।

গত ৫ এপ্রিল বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত এই অধ্যাদেশের ৫(ঞ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘কোন ছাত্র/ছাত্রী অসত্য এবং তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোন সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ/প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করতে পারবে না।”

এছাড়াও ৫(থ) ধারায় বলা হয়েছে, “কোন ছাত্র/ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশ্যে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টানেটের মাধ্যমে কোন অশ্লীল বার্তা বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্যক্ত করবে না।”

একই সাথে অধ্যাদেশ মতে, ধারা দুটির ব্যত্যয় ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে এবং এজন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার উর্ধ্বে যেকোনও পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব-এর সভাপতি মো. মূসা ও সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান বিন আমিন এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ শৃঙ্খলা বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশ ও প্রতিবাদের ক্ষেত্রকে সংকীর্ণ করার পায়তারা করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশ ও অন্যায়-দুর্নিতির প্রতিবাদ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অসৎ উদ্দেশ্য সাধনকারীদের সুযোগ করে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ শৃঙ্খলা বিধি’র দু’টি ধারাই অস্পষ্ট। এতে ‘তথ্য বিকৃতি’, ‘যোগাযোগ মাধ্যম’ ‘অশ্লীলতা’, ‘উত্যক্ত করা’ প্রভৃতি শব্দের সুস্পষ্ট ব্যাখা কিংবা সীমা পরিসীমা উল্লেখ করা হয়নি। এর ফলে সংবাদকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থীর যে কোনো মতামত প্রকাশ ও প্রতিবাদমূলক কর্মকান্ডকে এ শৃঙ্খলা বিধির আওতায় এনে হয়রানি করার সুযোগ থেকে যায়।

এ ‘শৃঙ্খলা বিধি’কে দুরভিসন্ধিমূলক উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদকর্মীদের জন্য এ আইন চরম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। বিশেষ করে অনুসন্ধান সাংবাদিকতার কোনো সুযোগ থাকবে না।’

এ সময় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিবর্তনমূলক এ শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ বাতিল সহ শিক্ষর্থী স্বার্থবিরোধী সকল কর্মকান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সরে আসার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হয়ে ক্যাম্পাসে মাদক নিয়ন্ত্রন, র‌্যাগিং, যৌন নিপীড়ন, ছিনতাই, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী বন্ধের জন্য উপযুক্ত শৃঙ্খলা বিধি ও বিচার ব্যবস্থা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নের দাবি জানান।


ঢাকা, ২০ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।