ফুঁসে উঠছে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সড়ক অবরোধ


Published: 2019-06-18 22:46:21 BdST, Updated: 2019-12-11 06:24:19 BdST

বুয়েট লাইভঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা টানা চতুর্থ দিন ধরে আন্দোলনে আছেন। তারা বেশ কিছু যৌক্তিক দাবী নিয়ে মাঠে আছেন। নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের অপসারণসহ ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনে মঙ্গলবার তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. সাইদুর রহমানের কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর আগে, গতকাল সোমবার দাবি মানা না হলে ৬ নম্বর গেট (প্রশাসনিক ভবন) এবং ভিসি ভবনের গেটে তালা ঝুলানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিতে ভিসি অফিসে গেলে সেখানে ভিসিকে দেখা পাননি। উল্টো অফিসের ভেতর থেকে তালা লাগানো ছিল বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন। পরে তারা ১৬ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি সহকারী ডিএসডব্লিউ মোস্তফা আলীর হাতে তুলে দেন। এরপর তাঁরা এই হুঁশিয়ারি দেন।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী ব্যাচ ১৫-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। প্রশাসনও নীরব! দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। চলতে পারে দীর্ঘদিন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- বুয়েট গেটের জন্য সিভিল-আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে এবং ডিজাইনের জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আয়োজন করার অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে, বিতর্কিত নতুন ডিএসডাব্লিউকে (ছাত্রকল্যাণ পরিচালক) অপসারণ করে ছাত্রবান্ধব ডিএসডাব্লিউ নিয়োগ দিতে হবে।

ছাত্রী হলের নাম ‘সাবেকুন নাহার সনি হল’ হিসেবে নামকরণ করতে হবে, ১০৮ ক্রেডিট অর্জনের পর ডাবল সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার যে পদ্ধতি গত টার্মে চালু হয়েছিল সেটা পুনর্বহাল রাখতে হবে, আবাসিক হলগুলোর অবকাঠামোগত যেসব কাজ উপাচার্যের অফিসে আটকে আছে সেটা ক্লিয়ার করতে হবে।

সিয়াম-সাইফ সুইমিংপুল কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য উপাচার্যের সিগনেচারে নোটিশ দিতে হবে, নির্মাণাধীন টিএসসি ভবন ও নেম ভবনের কাজ শুরু করতে হবে, নিয়মিত শিক্ষক মূল্যায়ন প্রোগ্রাম চালু করতে হবে, বুয়েটের যাবতীয় লেনদেনের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার অফিশিয়াল উদ্যোগ নিতে হবে।

নির্বিচারে ক্যাম্পাসের গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে, কেন গাছ কাটা হয়েছে সেটার ব্যাখ্যা দিতে হবে, যতগুলো গাছ কাটা হয়েছে তার দ্বিগুণ গাছ উপাচার্যকে উপস্থিত থেকে লাগাতে হবে, গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক মেইল আইডি দিতে হবে, বুয়েট ওয়াইফাই আধুনিকায়ন করতে হবে, ব্যায়ামাগার আধুনিকায়ন করতে হবে, বুয়েট মাঠের উন্নয়ন করতে হবে এবং পরীক্ষার খাতায় রোলের পরিবর্তে কোড সিস্টেম চালু করতে হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা ১৬ দফা দাবি আদায়ে গত শনিবার থেকে আন্দোলন শুরু করে। বুয়েট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শহীদ মিনারের পাদদেশে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন তারা।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ শেষে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিনের আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। বুধবার ফের অবস্থান কর্মসূচি করার কথা রয়েছে।

বিক্ষোভের বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান সরোয়ার সৈকত বলেন, দাবির বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। আলটিমেটাম দিলেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরব না। মৌখিক আশ্বাস নয়, দাবির বাস্তবায়ন চাই আমরা।

ঢাকা, ১৮ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।