ঢাবির মৃত্তিকা বিভাগের অকৃতকার্য ৩৪ শিক্ষার্থী!


Published: 2019-07-22 20:05:21 BdST, Updated: 2019-08-25 21:33:15 BdST

ঢাবি লাইভ: দীর্ঘ ৭ মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে ১৭ জনসহ ৩৪ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

মৌখিক পরীক্ষাতে ১৭ জন শিক্ষার্থীর ফেল বিভাগটির ইতিহাসে প্রথম নজির বিহীন ঘটনা বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। কেননা এর আগের ইতিহাসে ভাইভাতে কোন শিক্ষার্থীর ফেল নেই। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে এবার ফেল করিয়েছেন দুই শিক্ষক।

এদিকে গত বছর অক্টোবরে বিভাগটিতে শুরু হওয়া ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষায় ১২৯ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। নিয়মবহির্ভূতভাবে ৭ মাসের বেশি সম পর গত ১১ জুলাই দেয়া রেজাল্টে ৩৪ জন শিক্ষার্থী ফেল করে। যাদের এখন নতুন করে প্রথম বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই। তাই তাদের আবারও দুইবার পুনঃভর্তি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা জানা যায়, ৩৪ জন এত বড় পরিসর শিক্ষার্থীদের ফেলের পিছনে বিভাগটির দুজন শিক্ষক দায়ী। তাদের দাবি অধ্যাপক জুলফিকার স্যারের ১০৪ নম্বর কোর্স ও সিরাজুল হকের ১০১ নম্বর কোর্সের খাতায় তাদের সঠিকভাবে মুল্যায়ন করা হয়নি এবং এই দুজন শিক্ষকই ভাইভা নিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে প্রফেসর সিরাজুল হক ইচ্ছে করে শিক্ষার্থীদের ফেল করান। তিনি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আতংকের নাম। তার সাবজেক্টে কেউ একবার খারাপ করলে তার জীবন ধংসের সন্নিকটে চলে যায়। তার বিষয় একাধিকবার পরীক্ষা দিয়েও সহজে কেউ পাশ করতে পারেনা।

শিক্ষার্থীদের দাবি প্রফেসর সিরাজুল হক অনেক কঠিন প্রশ্ন করেন ও খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেন না। তাই শিক্ষার্থীরা ফেল করে। প্রফেসর জুলফিকারও ঠিক একই কাজ করেন। তাই এই দুই শিক্ষকের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও অনেক বলে জানান তারা।

অভিযোগ রয়েছে বিভাগটিতে ৫ বছর ধরে এদের দুজনের জন্য প্রথম বর্ষের গন্ডি পেরোতে পারেনি কয়েকজন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ভালো পরীক্ষা দিয়েও পাশ না করতে পারা এক শিক্ষার্থী মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে বিভাগ ছেড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানান, মৃত্তিকা,পানি ও পরিবেশ বিভাগ, প্রথম বর্ষের ফলাফল প্রকাশ হয় ১১জুলাই। এতে ৩৪ জন রিএড, তাদের কোনো রেজাল্ট ই আসে নি।ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) তে ফেইল করেছে ১৭ জন ছাত্রছাত্রী।

ভাইভাতে যারা ফেইল করেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশের থিওরি কোর্সগুলা এবং ল্যাবে কোন ফেইল নেই।শুধু ভাইভাতে ফেইল।

এখন নীতিগত দিক থেকে বলেন ,এই যে এতোগুলা ছাত্রছাত্রী যারা ভাইভাতে ফেইল করলো তাদের ফেলের মাধ্যমে ঠিক কি কি প্রমাণ হয়?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২য় বর্ষের ছাত্র ক্যাম্পাস লাইভকে বলেন, আমাদের বিভাগে পরীক্ষার ইম্প্রুভ দেওয়ার সিস্টেম নেই। পরীক্ষায় যারা ফেইল করছে, তারা আবার প্রথম বর্ষে ফিরে যেতে হবে। সমস্যাটা হলো প্রথম বর্ষের ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। রেজাল্ট দেরিতে দেরিতে দেওয়ার ফলে ফেল করা শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে।


ঢাকা, ২২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।