ডেঙ্গু : প্রশাসনের মুখে সুন্দর সুন্দর কথা!লাশের মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক মেধাবী মুখ


Published: 2019-08-12 01:40:46 BdST, Updated: 2019-10-17 23:32:07 BdST

ঢাবি লাইভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরো একটি মেধাবী মুখ বিদায় হলো। নিরবে ঝড়ে গেল সকল স্বপ্ন। মা-বাবার লালিত আশার ঘর যেন মুহুর্তেই তছনছ হয়ে গেল। আর ফিরবে না রিফাত হোসাইন।চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হোসাইন অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তিনি ফিরবেন না। তাকে দেখা যাবে না ক্যাম্পাস আড্ডায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষে পড়তেন। রাজধানীর অ্যাপোলে হাসপাতালে লাইফ সার্পোটে থাকা অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়েছে।মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ড. একেএম গোলাম রব্বানী জানান, ডেঙ্গু ধরা পড়ায় রিফাত তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন আগে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ঈদের আগের দিন তার মৃত্যু হলো।

তিনি আরো জানান, রিফাতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ নিয়ে তার পরিবারে কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

এদিকে কয়েকদিন আগে মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে। দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুজ্বরে। ২৬ জুলাই শুক্রবার রাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফিরোজ কবির স্বাধীন। এঘটনার ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই খবর এল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মারা গেছেন ডেঙ্গুজ্বরে। আক্রান্ত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

এরাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে

 

জানা গেছে, স্বাধীন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪১৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন স্বাধীন। তিনি গত ১৮ জুন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে তার পরিবার এসে তাকে দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফের ঢামেকে আনা হয়।

সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে নেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা ততক্ষণে জানিয়ে দেন রোগী ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশন ওভারকাম করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এরপর পরিবার আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ২২ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে পড়াশোনা করতেন উখিংনু রাখাইন। শনিবার তিনি মারা যান। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আক্রান্ত হওয়ার মাত্র দশদিনের মাথায় তিনি মারা গেছেন। উখিংনু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের (৪৮ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ও প্রীতিলতা হলের আবাসিক ছাত্রী ছিলেন। তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা মংবা অং মংবার মেয়ে।

জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় উখিংনুকে সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করে সহপাঠিরা। সেখানে টেস্ট করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে তাকে বাড়িতে (কক্সবাজার) আনা হয়। গত বৃহস্পতিবার উখিংনুকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের জানান, উখিংনু ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। এ অবস্থায় সেখানে দুই দিন তার চিকিৎসা চলে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। কিন্তু চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ নামক স্থানে গেলে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা, ১১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এবিএম

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।