নৈতিক স্খলনে রাব্বানীর ডাকসু'র জিএস পদ নিয়ে প্রশ্ন


Published: 2019-09-15 12:53:05 BdST, Updated: 2019-10-19 06:09:25 BdST

ঢাবি লাইভ: দুর্নীতি,চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে নৈতিক স্খলনের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে সদ্য পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর জিএস পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে শোভন- রাব্বানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য পদ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

যে অপকর্মের কারণে দল থেকে পদত্যাগের ঘটনা ঘটে, সেই অপরাধে তো ডাকসুর জিএস থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলেও সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ হিল বাকী বলেন,
নৈতিক স্খলনের দায়ে দন্ডিত একজন নেতা কি করে ডাকসুর জিএস পদে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকতে পারে? যার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত। তার স্বেচ্চায় পদত্যাগ করা উচিত।

আরমানুল হক নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, একজন চাঁদাবাজকে সাধারণ ছাত্ররা কখনো আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে মানতে পারিনা। রাব্বানীর পদত্যাগের পাশাপাশি শোভনকেও বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

এদিকে নৈতিক স্খলনের দায়ে ডাকসুর গঠনতন্ত্রে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। কারো পদ বাতিল, স্থগিত বা বহিঃস্কার ডাকসুর সভাপতি তথা উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতা বলে হয়ে থাকে।
সংবিধানের চার নং পৃষ্ঠায় উপাচার্যের ক্ষমতায় বলা আছে, (The president shall have power at any time in the best interest of union to dismiss any office bearer or member of Executive Committee or to dissolve the Executive Committee as a whole and call for fresh election.....)
'সংসদের স্বার্থে সভাপতি চাইলেই যেকোন সময় যেকোনো কার্যনির্বাহি সদস্য, অফিস কর্মচারীদের বহিঃস্কার কিংবা পদচ্যুতি করতে পারবেন। এবং তিনি চাইলে পুরো কার্যনির্বাহি সংসদও ভেঙ্গে দিতে পারেন।'

অন্যদিকে গঠনতন্ত্রের ১২ নং অনুচ্ছেদে কার্যনির্বাহি সংসদের সদস্য পদ সম্পর্কে বলা আছে,
(In case any member of Executive Committee or office bearer tenders his resignation or dies or is removed from office the vacancy shall be filled up for the remaining period of his incumbency by the usual system of election prescribed herein)
যদি কোনো সদস্য কিংবা কর্মকর্তা পদত্যাগ পত্র জমা দেন অথবা কেউ স্বেচ্চায় সরে যেতে চান বা মৃত্যুবরণ করেন। তাহলে নির্বাচন কমিশনের কার্যবিধি অনুসারে খালি পদ পূ্রণ করা হবে।

সুতরাং নৈতিক স্খলনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কিছু এখানে বলা নেই।
অনেকে সমালোচনার সুরে বলেছেন ডাকসুর সভাপতির উচিত তাঁর বিশেষ ক্ষমতাবলে রাব্বানীর জিএসের পদ বাতিল করা। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাত্রলীগের পদও তিনি হারিয়েছে, সেহেতু আমি মনে করি নৈতিকভাবে তার আর এ পদে থাকার অধিকার নেই।

ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, পদত্যাগের বিষয়টা তাদের সাংগঠনিক ব্যাপার। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু করার নেই।
ডাকসু বা শিক্ষার্থীরা যদি কোনো ধরনের অভিযোগ করে, তাহলে আমরা এটা দেখবো।

এর আগে নানা অভিযোগের দায়ে ছাত্রলীগ শীর্ষ দুই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ হারালেন শোভন-রাব্বানী। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিযুক্ত করা ১ নং সহ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে। শনিবার আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহি সভাশেষে এ তথ্য জানানো হয় গণমাধ্যমকে।

 

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।