আ'লীগ নেতা হানিফের পাশেই ফাহাদের বাড়ি, রাজনীতি নিরপেক্ষ পরিবার


Published: 2019-10-07 13:58:59 BdST, Updated: 2019-10-22 19:25:26 BdST

কুষ্টিয়া লাইভ : বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার পর তার রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে প্রতিক্রিয়াশীল সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। তাদের অভিমত ফাহাদ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে ফাহাদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তার পরিবারের সদস্যরা কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নন। তার চার চাচা সরকারি চাকরি করেন। এছাড়া ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ব্র্যাকে চাকরি করতেন। তিনি এখন রিটায়ার্ড। ফাহাদের ছোটভাই ঢাকা কলেজে পড়েন। ফাহাদের বাসা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ির পাশেই। কুষ্টিয়া শহরেই তাদের বাসা। শহরের একবাড়ি পরেই ফাহাদদের বাসা। তারা রাজনীতি নিরপেক্ষ পরিবার হলেও আওয়ামী লীগ ঘরানার বলে জানা গেছে। ফাহাদও কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এদিকে ফাহাদ নিহত হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফাহাদের মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র ছিলেন আবরার ফাহাদ। একদিন আগেই তিনি কুষ্টিয়ার বাড়ি থেকে ক্যোম্পাসে ফেরেন।

আবরারের মামাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আবরারের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। সে কুষ্টিয়া থেকে গতকাল বিকেলে ঢাকায় এসে হলে উঠে। তারপর মধ্যরাতে খবর পাওয়া যায়, ভাই মারা গেছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছি। আমরা দেখছি কারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। এটি যে হত্যাকাণ্ড, এতে সন্দেহ নেই।’ তিনি বলেন, ‘কয়েকটি সিটি সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিচার বিশ্লেষণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাকুক, যে জড়িত থাকবে তাকেই তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, আবরারকে হত্যার ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল এবং সহ সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদকে আটক করা হয়েছে। নজরদারিতে আছে আরও কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা।

এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রাত ২টা ৬ মিনিটের পর আর কোন ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ফুটেজ পেলে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী মোবাইলে ভিডিও করার কথা শোনা গেলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে মিহি নামে বুয়েটের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজের জন্য প্রভোস্টের রুম অবরুদ্ধ করে রেখেছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হবে আমরা এই জায়গা ছাড়বো না।’

এদিকে বুয়েট ছাত্র হত্যার ঘটনায় এক ছাত্রকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদেরেকে যেতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে আটক ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, রোববার রাত তিনটার দিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে আবরার ফাহাদ (২১) নামে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। আবরার ফাহাদ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মৃত্যুর ৮ ঘন্টা আগে তিনি ভারতের সঙ্গে পানি, গ্যাস ও বন্দর নিয়ে চুক্তির বিরোধীতা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়।

চকবাজার থানার ওসি সোহরাব হোসেন ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।