বুয়েটের আবরার হত্যা : যেভাবে গ্রেফতার হলো অমিত সাহা...


Published: 2019-10-10 17:22:25 BdST, Updated: 2019-10-22 19:26:01 BdST

বুয়েট লাইভঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় অবশেষে সেই ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের সাথে অমিত সাহা

 

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ডিএমপি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও উল্লেখ করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, বুয়েটের শেরে বাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; সেই কক্ষটি অমিত সাহার।

তার বিরুদ্ধে আবরারকে হত্যার অভিযোগ থাকলেও মামলায় তাকে আসামি না করায় এবং তিনি গ্রেফতার না হওয়ায় সমালোচনা চলছিল। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো। মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হেলালউদ্দিন বলেন, ২০১১ নম্বর কক্ষটি অমিত সাহার।

ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে বেদম মা’রধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান। এর আগে ফেসবুকে ভারতের সঙ্গে বন্দর, গ্যাস ও পানি চুক্তি নিয়ে স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে রোববার রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

সোমবার রাতে আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে ওই রাতেই হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে অমিত সাহাকে মামলায় না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবরারের বাবা। তিনি বলেন, পুলিশের তৈরি এজহারে আমি কেবল এজহারে স্বাক্ষর করেছি। পরে দেখি ঘটনার মূল হোতা অমিতের নামই নেই ওই এজহারে।

এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, এজাহারবহির্ভূত গ্রেফতাররা হচ্ছেন- অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও শামসুল আরেফিন আরাফাত। প্রাথমিক তদন্তে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে।’

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অমিত সাহার কক্ষ

 

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়; সেই কক্ষটি অমিত সাহার। তার বিরুদ্ধে আবরারকে হত্যার অভিযোগ থাকলেও মামলায় তাকে আসামি না করায় এবং তিনি গ্রেফতার না হওয়ায় সমালোচনা চলছিল।

আবরার ফাহাদ হলে আছেন কিনা সে বিষয়ে প্রথম খোঁজ নিয়েছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক অমিত সাহা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অমিত সাহা আবরারের এক বন্ধুকে ইংরেজি অক্ষরে 'আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা' মেসেজ দেন।

মেসেজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শেরেবাংলা হলের তথাকথিত সিনিয়র ভাইয়েরা অর্থাৎ ছাত্রলীগ নেতারা তাদের সহপাঠীদের আবরারের ১০১১ নম্বর কক্ষে পাঠিয়ে তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে বুয়েটের টর্চার সেল বলে খ্যাত শেরে বাংলা হলের ২০১১ কক্ষে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই অমিতের ব্যাপারে বক্তব্য রেখেছেন। বলেছেন সে পরে ঢুকেও আবরারকে ফেসবুকের স্ট্যাস্টাস নিয়ে নানান আকাঁ বাকা প্রশ্ন করেছেন। পিটিয়েছেন ইচ্ছামত। ওই রুমে থাকা একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেছেন অমিত একটু দেরী করে ফোন পেয়েই আসেন। তিনি এসে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন আবরারকে। বলেছেন তার লেখালেখির বিষয়ে অনেক কথা। এক পর্যায়ে তিনি স্ট্যাম্প নিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছেন।

আলোচিত সেই ছাত্রলীগ নেতারা

 

বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু বলেন, আবরারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল এবং উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা।

এদিকে ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১১ নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

আসছে অমিত সাহাকে নিয়ে আরও কাহিনী...

ঢাকা, ১০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.ম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।