‘বুয়েট ছাত্রলীগ এভাবেই চলে, সিস্টেমটাই আমাকে ভয়ংকর বানিয়েছে’


Published: 2019-10-15 12:11:51 BdST, Updated: 2019-11-18 05:19:16 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন অনিক সরকার। তিনি নাকি মদ্যপ অবস্থায় আবরারকে সবচেয়ে বেশি পিটিয়েছেন। একজন ভালো ছাত্র থেকে কিভাবে তিনি এমন ভয়ংকর হয়ে উঠলেন এরজন্য তিনি সিনিয়রদের দায়ি করেছেন। দায়ি করেছেন বুয়েটের সিস্টেমটাকে। এখানকার সিস্টেমটাই এমন যে সিনিয়রদের নির্দেশ মানতে হবে। পেটাতে বললে পেটাতে হবে। না পেটালে নিজেকেই নির্যাতনের শিকার হতে হবে।

আদালতে অনিক সরকার বলেন, সিনিয়র জুনিয়র যে-ই হোক, আমরা তাদের আবরারের মতই পেটাতাম। আবরার মারা গেছে দুর্ঘটনাক্রমে। আমাদের মতের সঙ্গে না মিললে কাউকে পিটিয়ে বের করে দিতে পারলে ছাত্রলীগের হাইকমান্ড আমাদের প্রশংসা করত। সিস্টেমটাই আমাদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ অক্টোবর) বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে দেখা যায়, আবরারের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করছেন তিনি। তবে আবরারকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না সে কথাও জানান অনিক।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে অনিক বলেন, আবরারের মৃত্যুর জন্য সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে। কিন্তু আমিতো শুধু সিনিয়রদের নির্দেশনামতো কাজ করছিলাম। সিনিয়ররা আমাকে ভয়ও দেখাচ্ছিল, ব্যর্থ হলে আমাকে এর ফল বহন করতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল। বুয়েটে ছাত্রলীগ এভাবেই কাজ করে।

বুয়েট ছাত্রীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিনকে এজন্য দায়ি করেন অনীক। তিনি বললেন, আমি তো এমন ছিলাম না। নটরডেম থেকে যখন বুয়েটে পড়তে আসি তখন খুব হাসিখুশি ছিলাম। জানি না কীভাবে এমন হয়ে গেলাম।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবরার ফাহাদ বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার চুক্তি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের কারণ জানতে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে আবরারকে বেধরক পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।