স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রীর লাশ, বয়ফ্রেন্ডকে খুঁজছে পুলিশ!


Published: 2019-12-06 19:56:07 BdST, Updated: 2020-09-25 15:01:54 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বয়ফ্রেন্ডের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রুম্পার সঙ্গে সৈকত নামে এক ছাত্রের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় রুম্পাকে এড়িয়ে চলছিলেন ওই ছাত্র। বয়ফ্রেন্ডের প্রতারণার বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না রুম্পা। ওই ঘটনার বিষয়ে বয়ফ্রেন্ডের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে তাকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে আটক করতে পারলে ঘটনার মোটিভ উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এদিকে রুম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে নাকি অন্য কোন ঘটনা ঘটেছে সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ময়না তদন্তে তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার আগে তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া মিলেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তার বাম স্তনে কামড়/আচড়ের দাগ রয়েছে। তবে কারা ওই কাণ্ড ঘটিয়েছে সেটি স্পষ্ট নয় পুলিশ। রুম্পার বয়ফ্রেন্ডের দিকে আঙ্গুল তুলছেন অনেকেই। হত্যার সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বুধবার রাতে লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়। পরিচয় না পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুম্পার স্বজনরা মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। তার বাবা রোকন উদ্দিন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি হবিগঞ্জে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। রাজধানীর শান্তিবাগে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন রুম্পা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রুম্পার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, লাশের শরীরের আঘাত দেখে মনে হয়েছে, ওপর থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

রুম্পার স্বজনরা জানান, দুই ভাইবোনের মধ্যে রুম্পা ছিলেন বড়। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। রুম্পা শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের ২৫৫ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে মা-ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসা থেকে ৪-৫ মিনিট দূরত্বের একটি ফ্ল্যাটে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকেলে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রাইভেট পড়াতে যান। এক ঘণ্টা পড়ানোর পর বের হয়ে বাসার নিচে গিয়ে রুম্পা তার মাকে ফোনে বলেন, চাচাতো ভাইকে দিয়ে বাসার নিচে তার একজোড়া স্যান্ডেল পাঠাতে। ১০ বছরের চাচাতো ভাই একজোড়া স্যান্ডেল নিয়ে নিচে নামে। ওই স্যান্ডেল পরিবর্তন করে পায়ে দেন রুম্পা। এরপর তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন, আংটি, হাতঘড়ি ও ব্যাগ চাচাতো ভাইয়ের কাছে দেন। তাকে বলেন, আম্মুকে বলিস আপু একটু পরে বাসায় ফিরবে। রুম্পা সেখান থেকে চলে যান। মোবাইল ফোন, আংটি, হাতঘড়ি ও ব্যাগ বাসায় পাঠোনোর উদ্দেশ্য কী ছিল তা বলতে পারছেন না স্বজনরা। রাতে বাসায় না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি পড়ে ছিল দুটি ভবনের পেছনে এবং একটি ভবনের সামনের গলিতে। তিনটি ভবনের যে কোনো একটি থেকে তাকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।


ঢাকা, ০৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।