স্ট্যামফোর্ড ছাত্রীর লাশ : নির্জন ছাদে জুতার ছাপ নিয়ে রহস্য!


Published: 2019-12-07 13:23:28 BdST, Updated: 2020-01-25 03:36:18 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে দুটি জুতার ছাপ নিয়ে তদন্ত চলছে। রুম্পার বাসা থেকে প্রায় দেড় কিমি. দূরে অবস্থিত ১১ তলা ভবনের (আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স) নির্জন ছাদে ওই দুটি জুতার ছাপ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো রুম্পার জুতার। ছাদের সঙ্গে লাগোয়া সামান্য ঢালু ছোট্ট একটি কার্নিশে এই ছাপ পাওয়া যায়। নিচে পড়ার আগে হয়তো সেখানে তিনি সর্বশেষ দাঁড়িয়ে ছিলেন এমনটাই ধরাণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই ছাপ ও জুতার ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।

এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, যদি ওই কার্নিশ থেকে রুম্পা নিচে পড়ে যান তবে স্বেচ্ছায় ভবন থেকে লাফ দিয়েছেন বলে যে ধারণা করা হচ্ছে সেটি জোরালো হবে। তবে তাকে কেউ নিচে ফেলে দিয়েছে কিনা- এ বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির প্রধান গেটের সামনে রুম্পার লাশ পড়েছিল। আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই সময় উপর থেকে বিকট শব্দে কিছু একটা পড়েছিল। পরে বেরিয়ে দেখেন রাস্তায় পড়ে আছে এক তরুণীর লাশ। রুম্পার লাশ যেখানে পড়েছিল ওই রাস্তার এক পাশে চারতলা এবং অপর পাশে পাঁচতলা একটি ভবন রয়েছে। ওই রাস্তার মাথায় রয়েছে একটি ১১ তলা ভবনের (আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স) পেছন দিক। কিছু সমীকরণ মেলায় ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকেই পড়েছেন।

এদিকে সরেজমিন ১১ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ছাদটি অরক্ষিত। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ছাদে হাঁটাচলা করাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদের চারদিকে কোনো রেলিং নেই। মাঝখানে অনেক ফাঁকা জায়গা, সেখান দিয়ে হাঁটাচলা করলে যে কোনো সময় নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ছাদে একটি কবুতরের খামার করেছেন আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোর মালিকের ছেলে ফেরদৌস আলী। ওই খামারের পেছন দিকে ছাদের সঙ্গে লাগোয়া একটি ছোট্ট কার্নিশ। এটি ছাদ থেকে একটু ঢালু। সেখানে সাধারণত কারও যাওয়ার কথা নয়। কারণ সেখানে দাঁড়ালে নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কবুতরের খামারের মালিক ফেরদৌস আলী বলেন, সাধারণত ছাদে আমাদের খুব একটা যাওয়া হয় না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ছাদে কেউ থাকে না। ঘটনার দিন ওই ছাদে কেউ গিয়েছিলেন কিনা এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলামকে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

এদিকে রুম্পার লাশ উদ্ধারের একদিন পর বৃহস্পতিবার তার পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। তিনি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তিনি মালিবাগের শান্তিবাগের একটি বাসায় থাকতেন। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের বিজয়নগর গ্রামে। শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়িতেই রুম্পাকে দাফন করা হয়।

ঢাকা, ০৭ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।