ঢাবিতে নিহত বাংলাদেশীদের গায়েবানা জানাজা


Published: 2020-01-25 18:51:01 BdST, Updated: 2020-02-23 00:14:37 BdST

ঢাবি লাইভ: সম্প্রতি নওগাঁ এবং লালমনিরহাট সীমান্তে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ৫ জন এবং দুই দিনের ব্যবধানে মোট ৭ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সারা ফেলে। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিহতদের গায়েবানা জানাজা আদায় করেছে।

গায়েবানা জানাজায় অংশ নেয় সর্বস্তরের জনগণ। তারা হেন ঘটনার পেছনে বর্তমান সরকারের দুর্বলতাকে উল্লেখ করেছে। তারা আরও উল্লেখ করে, ভারত-নেপাল সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে নেপালী যুবকের মৃত্যু ঘটলে নেপালে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু বাংলাদেশে হরহামেশাই নির্বিচারে সীমান্তে মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে ভারত। তার কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে না বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে।

তারা আরও উল্লেখ করেন বিশ্বের কোন সীমান্তে এমন হত্যাকান্ড ঘটে না এমনকি খোদ ভারত-পাকিনস্তান সীমান্তেও না। তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও কেন সীমান্তে এত হতাহতের ঘটনা ঘটছে? পাকিস্তান, চীনের সাথে ভারতের অনেক খারাপ সম্পর্ক থাকার পরেও কেন পাক-ভারত সীমান্ত কিংবা ভারত-চীন সীমান্তে এত হতাহতের ঘটনা ঘটছে না। এই ঘটনাকে সরকারের দুর্বলতা এবং ভারতের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্ভরশীলতা বলে উল্লেখ করেছে আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া তারা বলে, বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রেই ভারতীয় আগ্রাসন উল্লেখযোগ্যহারে লক্ষণীয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের চাকরি বাজারে বাংলাদেশীরা চাকরি না পেলেও ভারতের এক বিশাল জনগোষ্ঠী চাকরি করছে বাংলাদেশে। বিশাল অঙ্কের মুনাফা চলে যাচ্ছে ভারতে। এসময় তারা তিস্তা চুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির প্রতি ভারতের উদাসীনতা এবং বাংলাদেশ সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন।

গায়েবানা জানাজার পর তারা মিছিল নিয়ে তারা ঢাবি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় "দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা", "সীমান্তে হত্যা কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই" শ্লোগানে মুখরিত ছিলো ক্যাম্পাস।

তারপর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের, জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী।

প্রসঙ্গত, ক্রমাগত সীমান্ত হত্যা বেড়েই চলেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১৯ সালে ৩৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। যা আগের বছরগুলোর তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। অন্য একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে শারীরিক নির্যাতনসহ ২০১৯ সালর সীমান্তে মোট ৪৩ জনকে হত্যা করেছে বিএসএফ।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের চৌধুরীহাট সীমান্তে চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়ায় নিহত কিশোরী ফেলানীর মরদেহ দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলছিলো।
সেই ঘটনার পর বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর ফেলানীর লাশ ফেরত নিতে দু'দিনব্যাপী দফায় দফায় পতাকা বৈঠক করতে হয়েছিল বিএসএফ এর সাথে।

এ সময় ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীন চৌধুরীহাট বিওপির কোম্পানি কমান্ডারের এফআইআরের ভিত্তিতে দিনহাটা থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে এরই ভিত্তিতে ওইদিন একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করা হয়।

বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হয় ফেলানী হত্যাকারী অমিয় ঘোষকে। সেখানে দুই দফা বিচারের পর খালাস পেয়ে যায় ফেলানী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষ।

এরপর ন্যায়বিচার চেয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বারবার রিট করা হলেও আজও শুনানি হয়নি। ফেলানী হত্যাকান্ড নিয়ে ভারতেও অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ফেলিনী হত্যার বিচার নিয়ে অনেকে অনেক প্রশ্ন তুলেছে।

তারপরেও থামেনি সীমান্ত হত্যা। সম্প্রতি উদ্বেগজনকহারে সীমান্ত হত্যা বৃদ্ধি পেলে বিজিবির অপারেশন বিভাগের পরিচালক লে: কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারাও উদ্বিগ্ন। তবে এসব ঘটনার ব্যাপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

২০২০ সালে জানুয়ারীর ২৩ তারিখ পর্যন্ত বিএসএফ ১৫ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। সর্বশেষ নওগাঁ এবং লালমনির হাটে ৪৮ ঘন্টায় ৭ জন বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।


ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।