ভয়ংকর গার্লফ্রেন্ড, প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ১০ লাখ হাতানোর ফন্দি!


Published: 2020-02-21 17:59:28 BdST, Updated: 2020-04-05 21:16:21 BdST

নরসিংদী লাইভ : মন্টি আক্তার। রূপের জালে তিনি ধনাঢ্য তরুণদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার রাসেল নামে এক এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণের পর মুক্তিপণের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এবিষয়ে র‌্যাব-১১ সদর দফতরে অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগি ওই যুুবক রাসেল হাসান। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়। অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তার ছেলে তিনি। এদিকে রাসেলের বিরুদ্ধে মন্টি ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগে ওই যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিযোগে রাসেল জানান, ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিবারকে না জানিয়ে মন্টিকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি সৌদি আরবে চাকরি নিয়ে চলে যান। বিদেশ গিয়ে বাবা আবদুল হককে বিয়ের কথা জানান রাসেল। সৌদি আরব যাওয়ার পর রাসেলকে তার স্ত্রী মন্টি জানান, তিনি অন্ত:সত্ত্বা। কিন্তু রাসেলের মা-বাবা জানান, মন্টি তাদের না জানিয়ে নরসিংদীতে তার বাবার বাড়ি চলে গেছেন। যাওয়ার সময় গয়না, মোবাইল ফোন নিয়ে গেছেন। এ খবর পেয়ে রাসেল গত ১৩ সেপ্টেম্বর আবার দেশে আসেন। মন্টির বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, তার গর্ভপাত হয়েছে। এর চার দিন পর নরসিংদী সদর থানায় রাসেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন মন্টি আক্তার।

রাসেল অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, ওই মামলার পর নানাভাবে রাসেলকে হয়রানি করতে থাকে মন্টির পরিবার। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে পাপ্পু মিয়াসহ কয়েক ব্যক্তি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ওঠানোর সঙ্গে সঙ্গে সিটের নিচে ফেলে মারধর করা হয়। তৃষ্ণায় আমি পানি চাইলে সেভেন আপ দেওয়া হয়। কিন্তু সেভেন আপ পানের পর আমি চেতনা হারিয়ে ফেলি।

রাসেল বলেন, চেতনা ফেরার পর দেখেন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তিনি একটি কক্ষের মেঝেতে পড়ে আছেন। এর কিছুক্ষণ পরই রাসেলকে পেটানো শুরু করেন পাপ্পু। পরে পাপ্পুর বন্ধু অভিকও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভিডিও ধারণ করে রাসেলের পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ওই ভিডিও দেখে দেড় লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। রাতে বিকাশে ৬০ হাজার টাকা পাঠায় রাসেলের পরিবার। বাকি ৯০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা হয়। এই টাকা নিতে ২৯ ডিসেম্বর রাতে রাসেলকে মাইক্রোবাসে তুলে পাপ্পু ও তার দলের লোকজন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে মাইক্রোবাসটি নরসিংদী শাপলা চত্বরে আসার পর অপহরণকারীরা প্রস্রাব করতে নামেন। রাসেলও প্রস্রাবের কথা বললে তাকেও নামানো হয়। একটি পিকআপ ভ্যান সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় রাসেল চিৎকার শুরু করেন। তখন অপহরণকারীরা তাকে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যান। এরপর রাসেল সারা রাত নরসিংদী রেলস্টেশনে কাটান। পরদিন সকালে কুমিল্লায় বড় বোনের কাছে চলে যান। সেখানে মুক্তি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান। গতকাল বুধবার সে র‌্যাব-১১ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এদিকে নরসিংদী সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান হাসান জানিয়েছেন, রাসেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসআই আরও বলেন, মারধর ও মুক্তিপণের ঘটনার রাসেল হাসান পুলিশকে জানাননি।

র‌্যাব-১১এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, রাসেল হাসানের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।