এসব কি করছে ঢাবির বিজনেস ফ্যাকাল্টি!


Published: 2020-02-22 15:59:39 BdST, Updated: 2020-04-07 10:43:19 BdST

ঢাবি লাইভঃ সান্ধ্য কোর্স। একটি লাভজনক কোর্স। আর এই কোর্স নিয়ে ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন বিজনেস ফ্যাকাল্টি। তারা ওই কোর্স নিয়ে শুরু করেছেন দেন দরবার। চলছে নানা ধরনের তদবীর ও প্রভাব সৃস্টির কাজ চলছে।

জানা গেছে ওই কোর্স বন্ধের সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত যখন শিগগিরই আসছে তখনই দেখা গেছে সংশ্লিস্টদের নাড়াছাড়া। তখন বিষয়টি চালু রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিস)। এর পক্ষে একটি সুবিধাবাদী গ্রুপ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স চালু করেছিল ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। যা পর্যায়ক্রমে এই অনুষদের সবগুলোসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে চালু হয়।

ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে এসব কোর্সের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন নিয়মিত শিক্ষার্থীরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের কোর্সের যৌক্তিকতা যাছাই করতে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারাও কাজ করছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। সান্ধ্য কোর্স নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিস্টরা জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাতে নীতিমালা না হওয়ার আগ পর্যন্ত সান্ধ্য কোর্স বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে। যা নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদের তুলনায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে এ ধরনের কোর্স বেশি হওয়ায় তা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিস্টারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত কমিটিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সান্ধ্য কোর্স চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলের সভার আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য অনুষদের শিক্ষকদের (সান্ধ্য কোর্স সংশ্লিষ্ট) জরুরি সভার আহ্বান করে ‘এসএমএস’ পাঠান অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মঈন।

গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় অনুষদের হাবিবুল্লাহ কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষককে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় একই সম্মেলন কক্ষে সান্ধ্য কোর্স নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়ে এসএমএস করেন।

আগে সান্ধ্য কোর্স নিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের সভা আহ্বান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্রিয়াধীন বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ সভা আহ্বান করা যুক্তিসংগত কি-না, জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মঈন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সান্ধ্য কোর্সর যৌক্তিকতা যাছাই কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আমি কমিটি গঠন করেছি। সে কমিটির আহ্বায়ক আমি।

আমাদের কাজ আমরা শেষ করেছি। ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। সেটা ওনি কোথায় নেবেন, কী করবেন, কী সিদ্ধান্ত নেবেন, ওটা ওনার এখতিয়ার।
ব্যক্তি উদ্যোগে সভা আহ্বান করার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত না।

এ রকম উদ্যোগ নেওয়াটা সমীচীন কি-না ওনি ভালো বুঝতে পারবেন। কারণ এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আগানো উচিত। আমি জানি না। ওনি মিটিং ডেকেছেন কি-না। আবার সেই মিটিংয়ের আলোচ্যসূচি কী, আমি অবহিত না।

আমি যেটুকু অবহিত, তা হলো, ভাইস চ্যান্সেলর ২৪ তারিখে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করেছেন। সেখানে দুইটি এজেন্ডা আছে। একটি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা। আরেকটি সান্ধ্য কোর্স।

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।