ঢাবির জুনিয়র ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করতেন একই বিভাগের ছাত্র


Published: 2020-04-08 14:29:54 BdST, Updated: 2020-12-05 20:52:41 BdST

ঢাবি লাইভ: নাহিদ শিকদার দিহান। একটি নাম। একটি যন্ত্রনা। তাকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে রয়েছে নানান স্ক্যান্ডেল। তার পছন্দ জুনিয়র নারী শিক্ষার্থীরা। ইনিয়ে বিনিয়ে কখনও নানান চল-চাতুরী করে জুনিয়র ছাত্রীদের পটাতো দিহান। পরে ফেসবুকে বন্ধু হয়ে যৌনহয়রানি ও নানান আপত্তিকর ছবিও পাঠিয়ে দিত ম্যাসেঞ্জারে। এমন অভিযোগ এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক জুনিয়র ছাত্রীকে ম্যাসেজ পাঠাতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ শিকদার দিহান। কিছুদিন ম্যাসেজ পাঠানোর পর অশ্লীল কথা ও ছবি পাঠানো শুরু করে ওই শিক্ষার্থী। নানাভাবে বাঁধা দেয়ার পরও বন্ধ করেননি তার এসব আচরণ। এক পর্যায়ে দিহানকে ফেসবুকে ব্লক দেন ওই ছাত্রী। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।

প্রায়ই দিহান পথে ঘাটে ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করতো। পরে ওই ছাত্রী জানতে পারেন এটা দিহানের নেশা। এই কাজ আগেও অনেকের সঙ্গে করেছে। নানা ধরনের যৌনহয়রানির কারণে অবশেষে ক্লাস করাও বন্ধ করে দেন ওই ছাত্রী। বিষয়টি প্রথমে ওই ছাত্রীর কিছু ঘনিস্টদের জানান। কিন্তু তাতেও তেমন কোন কাজ হয়নি।

রসায়ন বিভাগের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দিহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। অপরদিকে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ২০১৮ সালের জুন মাসে এ হয়রানির ঘটনা ঘটে। হয়রানির প্রায় ১ বছর পর এসে ঘটনা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে জটিলতা হলেও পরে তা জানাজানি হয়ে যায়।

এদিকে হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী বলেন, প্রথমবর্ষে থাকাকালীন সময়ে দিহান ভাই আমাকে ফেসবুকে নক দেয়। বিভাগের বড় ভাই হিসেবে কথা বলি। কিন্তু মাস ছয়েক পর তিনি আমাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দেয়া শুরু করেন। আমি গাবরে যাই। কারণ উনি প্রভাবশালী। উনি রাজনীতি করেন।

ওই ছাত্রী আরো বলেন, শুরুতেই বিভাগের অনেক সিনিয়রকে চিনতাম না। যিনি কথা বলতে আসতো তার সাথে স্বাভাবিক কথা বলতাম। তাছাড়া খুব ছোটবেলা থেকে একটা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় হওয়ার কারণে সবাইকেই আমি তাড়াতাড়ি বন্ধুর মতো আপন করে নিই। আমি খুব সরল সহজ প্রকৃতির হওয়ায় দিহান আমাকে যেন পেয়ে বসে। পরে ভয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হই।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, উনি অনেক ধুর্ত প্রকৃতির। খুবই চালাক আর ফন্দিবাজ। সহজেই মিশে যেতে পারে। আত্মীয় বা আপন কারো সাথে মিল আছে এমন ভান করে মিশে যায়। প্রথমদিকে বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন ক্লাস, টিচার এসব বিষয়ে আলোচনা করতেন। আমিও সবকিছু স্বাভাবিকভাবে নিয়ে কথা বলতাম।

ওই ছাত্রী আরো জানান, তিনি আমার একাকীত্ব নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। ক্যাম্পাসলাইফ এনজয় করতে শেখার জন্য নানা উপদেশ দিচ্ছিলেন। সেটাও আমি ভালোমতোই নিয়েছি, এরকম একটা উপদেশ আমার কাছে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি।

কিন্তু হঠাৎ তার কথার মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। তিনি যেন বদলে গেছেন। উনি আমার সাথে অশ্লীল কথা বলা শুরু করেন। আমি নানাভাবে বাধা দেয়ার পরও তিনি অশ্লীল কথা আমার সাথে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আমাকে কু-প্রস্তাবও দেন। বলেন এখনই সময়। ক্যাম্পাস জীবন উপভোগের। এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। আমাকে নানান ফন্দি করে তার সাথে.........প্রস্তাব দিয়েছেন বেশ কয়েকবার।

যৌনহয়রানির কথা প্রসঙ্গে ওই ছাত্রী বলেন, এত কমপরিচয়ে একটা মানুষ আমাকে এত নোংরা কথা বলতে পারে, সেটা বিশ্বাস করতে পারছি না। পরে আমি এ ধরনের কথা শুনে আইসোলেটেড হয়ে যাই। দীর্ঘদিন স্বাভাবিক হতে পারিনি। আমাকে অনেক অনেক অপরাধী মনে হয়েছে।

নিজেকে সামনে রাখতে পারছিলাম না। একারণেই ক্লাস বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এই ঘটনার পর থেকে ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র তো বটেই, যেকোনো মানুষের প্রতিই আমার একটা অরুচি চলে আসে। টোটালি আইসোলেটেড হয়ে যাই। কোন ছেলে দেখলেই দিহানের কথা মনে পড়ে। তার ব্যবহার আমাকে বিষিয়ে তুলেছে।

এদিকে ওই ছাত্রীকে যৌনহয়রানির ব্যাপারে অভিযুক্ত নাহিদ শিকদার দিহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে একটু আমতা আমতা ভাব নেয়। পরে বিভিন্ন প্রসঙ্গ টানলে বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দিহান। তিনি বলেন, আমি নিজেই ভিক্টিম।

তখন আমার আইডি হ্যাক হয়েছিলো। আইডি হ্যাক হওয়ার কারণে আমি দীর্ঘদিন আইডি ব্যবহার করতে পারিনি। এসময় কে বা কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা তো আমার জানা নেই। আমি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটাইনি। তাকে চেনেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী না চেনার কি আছে?

ঢাকা, ০৮ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।