বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাজেট ভাবনা


Published: 2020-07-05 19:21:27 BdST, Updated: 2020-08-07 23:50:01 BdST

বাজেট। এটি সব জায়গাতেই প্রয়োজন। কোথাও কম আবার কোথাও লাগে বেশী। কিন্তু এই বাজেট নিয়েই যতসব আলোচনা। সকল সমস্যার পেছনের খবর থাকে এই বাজেটে। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ৫ লক্ষ্য ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সমাজের সব চাইতে উচু শ্রেণী থেকে নিম্নবিত্ত সমাজের মানুষের নানামুখী ভাবনা রয়েছে। এনিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা, জল্পনাকল্পনা ও চিন্তাভাবনা। করোনাকালীন সময়ে টিকে থাকার পরিকল্পনায় প্রস্তাব করা বাজেট নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনেরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

তবে ২০-২১ অর্থবছরে বাজেট নিয়ে কি ভাবছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা? বাজেটে কোন খাতকে কম আর কোন খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত? শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্যখাতে কেমন বরাদ্দ দেওয়া উচিত? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি? বাজেট নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন আমাদের ক্যাম্পাসলাইভ প্রতিনিধি আর এস মাহমুদ হাসান

 

মারজুকা রায়না

 

মারজুকা রায়না, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুন কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি জানালেন, গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মুস্তফা কামাল অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন এবারের বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। স্লোগান:-"অর্থনেতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা"। বাজেট একটি রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম ও প্রধান অনুষঙ্গ। বলতে গেলে গোটা দেশবাসীর এক বছরের জীবন-জীবিকার রূপরেখা। বাজেট ঘিরে জাতির অনেক আশা থাকে। এবারের বাজেট নিয়েও এদেশের কৃষক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার নিম্ন-মধ্য ও উচ্চবিত্তের মানুষের অনেক আকাঙ্ক্ষা। রাষ্ট্রীয় বাজেট সেই আশা কতটা পূরণ করতে পারবে সেটা বাজেটের রূপরেখা দেখেই বোঝা যায়।

২০২০-২০২১ অর্থবাজেট সর্বদিক দিয়ে যোগপযোগী হলেও স্বাস্থ্যখাতে মোটেও আশার আলো দেখা যায়নি এবং উপযুক্ত বলে মনে করছিনা কারণ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিশ্বের প্রায় সব দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা তথা স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, পাল্টে দিয়েছে জীবনযাত্রা। তাই স্বাস্থ্যখাতে অধিক পরিমাণে বরাদ্দ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করছি।

স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর কথা সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছি। কিন্তু বাজেট পেশ করার পর গোটা জাতি স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে হতাশ হয়েছে। এবারের অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোটা বাজেটের ৫.১ শতাংশ। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য খাতের যে দুর্বলতা, অসঙ্গতি ও অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে বাজেটে সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার মতো সমর্থপূর্ণ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে রোগীদের পকেটের টাকায় চিকিৎসা খরচ হয় সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবায় সরকারের খরচ হয় ২৮ শতাংশ বাকি ৭২ শতাংশ ব্যয় নাগরিকদের পকেট থেকে বহন করতে হয়। অথচ বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছে।

একইভাবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কোনো সরকার নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিত করতে পারেনি। এবারের বাজেটেও সে রকম কোনো ইঙ্গিত নেই। বিশ্বের অনেক দেশে স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক হলেও অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকার পরও বাংলাদেশে এখনো তা কার্যকর হয়নি। গত ১২ বছরে সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবার ভালো প্রসার হয়েছে। কিন্তু সেটাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার মানও তেমন উন্নত করা করতে পারেনি।

যেটা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে স্থানীয় হাসপাতালগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। তাদের অনেক দুর্বলতা মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জেনেছি। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ৮টি শয্যা আছে। অন্যদিকে দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য একটিও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স নেই। এটা আজ এই করেনাকালে প্রমানিত হয়েছে। এসব দিকে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৮ হাজার ৪৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে। উচ্চশিক্ষায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণায় জন্য ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মূল বাজেটে ৬৬ কোটি ৬৫ লাখ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। গতবছরের তুলনায় বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, পূর্ণ কমিশন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ইউজিসি’র জন্য ৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে। গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এ অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

এবারের শিক্ষাখাতে তুলনামূলক সঠিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে মনে করছি,গত অর্থ বছরের তুলনায় তিন হাজার কোটি টাকার মতো বেশি যা শিক্ষার মান ও গবেষণার জন্য যোগপযোগী। তাছাড়া ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের খরচ বৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণের উপড় বাড়তি চাপ হয়েছে বলেও মনে করছি।

 

আব্দুর রউফ

 

আব্দুর রউফ, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সারা পৃথিবী যখন থমকে গেছে। সেই সময়ে আমাদের দেশে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট পাস হয়েছে, সেটা অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক বাজেট। যাকে অর্থনীতিবিদরা স্বপ্নবিলাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ করোনা মহামারী পরবর্তী বিশ্ব যেখানে দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কর্মসস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাবে । তখন বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি নির্ভর বাজেট জনগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।

করোনা প্রকোপে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে বেহাল দশা তা দূশ্যমান হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিলো। তেমনি শিক্ষাখাতে এই অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬৬ হাজার ৪০১ কোটি টাকা শিক্ষায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের ১১.৬৯ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দ ছিল ৬১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১১.৬৮ শতাংশ।

ফলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে পাঁচ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়লেও শতাংশে তেমন একটা বাড়েনি।করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শিক্ষার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় মোট বরাদ্দের অন্তত ১৫ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দের দাবি তুলেছিলেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি মিলিয়ে মোট বাজেটের ১৫.১ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও একক খাত হিসেবে শিক্ষায় বরাদ্দ ১১.৬৯ শতাংশ।

ইউনেস্কো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলে আসছে। তবে গত তিন বছর ধরেই শিক্ষায় বরাদ্দ ১২ শতাংশের আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছে।যার অধিকাংশ অর্থ চলে যাচ্ছে উন্নয়ন খাতে। অর্থাৎ শিক্ষক, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন প্রদানে। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর আবাসন,যাতায়াত,অবকাঠামো ও গবেষণা খাতে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে যে বাজেট দেওয়া হচ্ছে সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অপ্রতুল।

দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থাকে চলমান রাখার জন্য অনলাইন একমাত্র মাধ্যেম বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদগণ। আর বিনা আয়োজনে এই অপরিপক্ব পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার সমলোচনা করছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।তাই শিক্ষা এবং প্রযুক্তিখাতকে একত্রে বরাদ্দ না দিয়ে পৃথক বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে আহবান করছি।

 

তানবির আলম খান

 

তানবির আলম খান, সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেছেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গবেষণা এবং কৃষি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো উচিৎ ছিল। বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এসব খাতে তুলনামূলক বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও বাজেটে গুরুত্ব দেওয়ার ধরণটা গতানুগতিকই বলা যায়। স্বাস্থ্য খাতে চলতি অর্থবছরের মূল বরাদ্দের চেয়ে মাত্র ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশে গবেষণা খাত বরাবরই অবহেলিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কাজই হল গবেষণা করা। এখাতে বরাদ্দের অভাবে উচ্চশিক্ষার মান তলানিতে এসে ঠেকেছে। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৬ হাজার ৪০১ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১৫.১০ শতাংশ। এরমধ্যে বিদ্যুৎখাত সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। শুধু শিক্ষাখাত হিসাব করলে ১১.৬৯ শতাংশ।

উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ৩৩ হাজার ১১৭ কোটি। শিক্ষায় সামগ্রিক বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বাজেট দেওয়া হয়, তাঁর কমবেশি প্রায় ৯০ ভাগই থাকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও সেবায় তথা আবর্তক ব্যায়ে। গবেষণায় থাকে খুব সামান্য। বশেমুরবিপ্রবির গবেষণায় বরাদ্দ মোট বাজেটের ১.৫ শতাংশ প্রায়।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে জর্জরিত। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হলগুলোতে থাকে। ক্রমবর্ধমান অনিয়ন্ত্রিত বাসাভাড়া বৃদ্ধিতে মাথাপিছু খরচ কমাতে ব্যাক্তি মালিকানার মেসগুলোতেও গাগাদির একই চিত্র। একারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত রিসোর্স এবং শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতার অভাবে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি বিমুখ হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছেনা। ফলে অনলাইন ক্লাসের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকা দরকার ছিলো। শিক্ষাখাতের বরাদ্দের ক্ষেত্রে গবেষণা, করোনা পরিস্থিতি, আবাসন ও লাইব্রেরি সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়েই বরাদ্দ বাড়ানো দরকার ছিল।

 

এস. এম কামরান আশরাফ

 

এস. এম কামরান আশরাফ, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশ। এ বাজেট কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় সাহায্য করবে সেই সাথে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।

এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৩ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে নতুন অর্থবছরের শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লে প্রবৃদ্ধি বাজেটের শতকরা হিসেবে মাত্র .০১ ভাগ। তবে গবেষণার জন্য এক্ষেত্রে শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেটের পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি। এ বাজেটে জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ ধরা হয়েছে যা আমার মতে কিছুটা উচ্চাভিলাষী।

তবে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এদেশের মানুষের জীবনধারণের মান আরো উন্নত হবে বলে আমি মনে করি। এ বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি এবং শিক্ষা এ তিনটি খাতে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। কারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণে এ তিনটি খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং এ খাতে বাজেট বৃদ্ধিতে মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবে। এছাড়া আমরা জানি বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সুতরাং আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত যা এ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সহায়তা করবে।

 

মো: মিজানুর রহমান

 

মো: মিজানুর রহমান, মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে জানান,২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকা শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সবোর্চ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করলেও তা জিডিপির অনুপাতে সামান্যই। আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, একটা দেশের শিক্ষা খাত জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ পেলে তা আদর্শ ধরা হয়। সবমিলিয়ে শিক্ষা খাতে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে দেশ ও জাতির জন্য সুফল আরও বয়ে আনবে। গবেষণা খাতকে আরও সম্প্রসারিত ও উন্নতির লক্ষ্যে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আবাসন সংকট, আবার যেগুলো আছে সেগুলো যথেষ্ট স্বাস্থসম্নত নয়। আবাসন একটা বড় সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে।

লাইব্রেরী ও যথেষ্ট বই, ও সবার পড়ার ব্যবস্থা এখনো নেই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। বাসের ব্যাপার হচ্ছে যে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং এসব খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো গেলে শিক্ষার সার্বিক অবস্থা অনেকটা উন্নতি হবে বলে আমি মনে করি। মূলত, বাজেট সঠিকভাবে ব্যবহারে করতে পারার উপর নির্ভরশীল নতুন সংস্কার। এটাই বড় চ্যালেঞ্জ আমার কাছে মনে হয়।

অবশ্যই বলবো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্বাস্থ্য খাতে বড় একটা সমস্যা সুশাসনের। সরাসরি যারা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত তাদের নীতি নির্ধারর্ণী পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাহলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার হবে বলে মনে করি।

ঢাকা, ০৫ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএএই্চ//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।