যেসব কারণে ডাকসুর ভিপি পদে ছাত্রলীগ সভাপতির পরাজয়!


Published: 2019-03-13 12:38:24 BdST, Updated: 2019-09-22 16:42:38 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভনের পরাজয় নিয়ে দলের ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ আর অসন্তোষ দানা বাঁধছে। দলেল শীর্ষ নেতার এমন পরাজায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। ২৮ বছর পর সোমবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। অথচ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর জিএস পদে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। নিরঙ্কুশ জয় এসেছে আরও ২২ টি পদে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নুর ‘জামাত শিবিরি’। ভিপি হিসেবে সে নির্বাচিত না হয়ে অন্য যে কেউ নির্বাচিত হলে তারা মেনে নিতেন। কিন্তু নুরকে ভিপি মেনে নেয়া তাদের জন্য কিছুতেই সম্ভব নয়। গভীর রাতে ফল ঘোষণার পরপরই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার সকাল থেকে সাধারণ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন। যদিও পরে শোভন নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করে জানান তিনি তার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চান। আদতে নুর ও শোভনের এমন আলিঙ্গনের পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে তাদের মাঝে।

ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ভিপি পদে শোভনের পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে তারা পাঁচটি বিষয় চিহ্নিত করেণ। কারণগুলো হলো :

১. ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং-লবিং।
২. কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের পিছিয়ে থাকা।
৩. সোমবার ভোট চলাকালে সাতসকালে কুয়েত মৈত্রী হলে ‘জাল ব্যালট পেপার’ উদ্ধার।
৪. ছাত্রলীগ কর্তৃক নুর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে- এমন অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনকে বিষিয়ে তোলা।
৫. সর্বোপরি মিডিয়ায় নুরকে হাইলাইট করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জানান, বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি উত্তরবঙ্গের। নেতৃত্ব হাতছাড়া হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। সবাই ছাত্রলীগের জন্য অন্তঃপ্রাণ বলা হলেও ভেতরে ভেতরে আঞ্চলিকতার কারণে গ্রুপিং-লবিংয়ে ব্যস্ত থাকায় তা নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। অনেকেই বলেছেন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় স্বাভাবিক কারণেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগবিরোধী একটি বিশাল গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এটিও নির্বাচনের ব্যালটে প্রভাব ফেলেছে।

ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্রলীগ ইচ্ছা করেই নুরুল হক গংদের হাতে তুলে দিয়েছিল। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা নেতৃত্বে না এসে নুরুল হক গংদের সামনে এগিয়ে দিয়েছে। ফলে ওই সুযোগে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে ঠাঁই করে নিয়েছে। যার প্রভাব ডাকসু নির্বাচনে পড়েছে। এছাড়া ডাকসুর ভিপি পদ হারানোর পেছনে মিডিয়াও দায়ী বলে মনে করছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

ঢাকা, ১৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।