নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক শ্রীঘরে


Published: 2017-06-13 16:48:09 BdST, Updated: 2019-09-19 22:36:18 BdST

 

 

লাইভ প্রতিবেদক: মার্কিন মুল্লুকে বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেপ্তার নিয়ে তোলপাড় চলছে। কেন তিনি গ্রেপ্তার হলেন এর নেপথ্যে কোন রহস্য কাজ করছে এ নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ওই কূটনীতিকের পুরানো অভ্যাসের কারনেই তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা আরো বলছেন, তিনি গৃহকর্মী ও গৃহকর্তীকে প্রায়শই মারধর ও নির্যাতন করতেন। 

তবে ভিন্ন একটি সূত্র বলছে, রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের কারণে এর আগেও বেশ কয়েকজন গৃহকর্মী বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হবার আশায় নির্যাতনের অভিযোগ করেন। 

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের কথিত অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

শাহেদুল ইসলাম আদালত থেকে জামিন পেলেও ২৫ হাজার ডলার পরিশোধ করতে না পারায় সোমবার কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। জামিনের অর্থ পরিশোধ না করায় বাংলাদেশের একজন কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক থাকার ঘটনাটি নিয়ে কমিউনিটিতে নানা রকম কানাঘুষা শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শাহেদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের ছেলে। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০১১ সালে তিনি নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগ দেন। 

জানা গেছে, প্রায় ১৩ মাস আগে শাহেদুল ইসলামের বাসার গৃহকর্মী রুহুল আমিন বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ শাহেদুল ইসলামকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গৃহকর্মী রুহুল আমিনকে ন্যায্য বেতন দেননি এবং তার ওপর নির্যাতন করেছেন। শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গৃহকর্মী রুহুল আমিন। 

রুহুল আমিনের মত গৃহকর্মী পালিয়ে যাবার ঘটনা নিউইয়র্কে নতুন নয়। রাজনৈতিক আশ্রয়লাভের কারণে এর আগেও বেশ কয়েকজন গৃহকর্মী বাসা থেকে পালিয়ে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হবার আশায় নির্যাতনের অভিযোগ করেন। সর্বশেষ কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ এসেছিল। পরে ‘কূটনৈতিক সুবিধা’ গ্রহণ করে মামলা থেকে অব্যাহতি পান। 

একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগদানের আগে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে প্রথমে তিনি ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসাবে যোগ দেন। পরে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হন শাহেদুল ইসলাম। গৃহকর্মী রুহুল আমিনকে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছিলেন। 

নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্কের বার্তা সংস্থা এনা জানিয়েছে, শাহেদুল ইসলামকে সোমবার বিকালে জ্যামাইকার একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে শাহেদুল ইসলামকে জামিন প্রদান করেন ২৫ হাজার ডলার  নগদ এবং ৫০ হাজার ডলার বন্ডে। ২৫ হাজার নগদ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শাহেদুল ইসলামের জামিন হয়নি।

 

ঢাকা, ১৩ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।