গার্লফ্রেন্ডের ফ্লাটে রাতেও থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আশিক!


Published: 2019-05-28 12:37:16 BdST, Updated: 2019-09-18 09:11:23 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : শেখ ফারিহা কলি ও নুসরাত আঞ্জুম রাজধানীর কুড়াতলিতে একট ফ্লাট ভাড়া নিয়ে থাকেন। তারা পড়াশোনা করেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। দুই রুমের ওই ফ্লাটে প্রায়ই যাতায়াত ছিল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশিক ই এলাহির। অনেক সময় রাতেও থাকতেন আশিক। সেই ফ্লাট থেকেই আশিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ২১ মে। তবে সেই রাতে আশিক ওই ফ্লাটে ছিলেন কিনা এনিয়ে সঠিক কোন ব্যাখ্যা নেই।

কলির রুমমেট নুসরাত আঞ্জুমের দাবি কলি তার পাশের রুমে থাকেন। ওই রুমে আশিকের যাতায়াত ছিল। রাতেও অনেকসময় আশিক ওই রুমে গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে থাকতেন। তবে ২০ মে রাতে আশিক ওই রুমে ছিলেন কিনা তিনি তা জানেন না। সকালে তিনি শুনেন আশিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য দিয়েছেন নুসরাত। তাকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রয়োজনে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে গ্রেফতার হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আশিকের গার্লফ্রেন্ড ফারিহা কলি পুলিশকে জানিয়েছে, সেদিন সকালে আশিক তার ফ্লাটে যায়। বিয়ে নিয়ে আশিক তার সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করলে তিনি ফ্লাট থেকে বেরিয়ে যান। ফিরে এসে দেখেন আশিকের লাশ ঝুলছে জানালার সঙ্গে। গলায় বেল্ট প্যাচানো। আশিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও কলি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

এদিকে আশিকের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে কলির অন্যকোন বয়ফ্রেন্ডের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। একারণে তারা আশিকের লাশের ময়নাতদন্ত করিয়েছেন। তবে রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, আশিকের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে আর কলির বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে। বাড়ি দুই জেলায় হলেও বন্ধুত্ব থেকে তাদের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গার্লফ্রেন্ড কলির বাসা থেকে আশিক নামে ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর এর নেপথ্যে কাজ করেছে কলির একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি। একাধিক বয়ফ্রেন্ড আছে কলির এমন সন্দেহ থেকেই আশিকের সঙ্গে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। সেটি অবশেষে ভয়ংকর পর্যায়ে চলে গেছে। বয়ফ্রেন্ড আশিককে হত্যার অভিযোগে কলি এখন কারাগারে রয়েছেন। একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে রিমান্ডে কলির কৌশলী উত্তরে পুলিশ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাই তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। লাশ উদ্ধারের পেছনে কলির কোন ফ্রেন্ডের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সেটি নিশ্চিত হতে চায় পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ছাত্রী ফারিহা কলির সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশিকের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও সেটি ভাঙনের পর্যায়ে ছিল। কলির একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ক্যাম্পাসে কলির চলাফেরা নিয়ে আশিকের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল। এরই মাঝে কলির ফ্ল্যাট থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে ১০জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে এখনও কোন নির্ভরযোগ্য ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ।

পুলিশের আরেকটি সূত্র বলছে, ফারিহা কলির সম্প্রতি এক চিকিৎসকের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। তাই কলি আশিকের কাছ থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আশিক। তাই হয়তো তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে আশিক কলির বাসায় রাতে প্রবেশ করেছে নাকি ভোরে প্রবেশ করেছে, কিভাবে বাসায় প্রবেশ করেছে তার কোন সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অনেকটা ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে।

এদিকে ফারিহা কলির রিমান্ড শেষ হয়েছে রোববার। তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ফারিহার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালাত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। নিহত আশিকের বড়ভাই আল-আমিনের দায়ের করা মামলায় কলিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত আশিক এলাহির লাশ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে দাফন করা হয়েছে। তবে তার ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।

আশিকের চাচা ও টবগী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি উজ্জ্বল হাওলাদার বলেন, আমার মেধাবী ভাতিজাকে যে বা যারাই হত্যা করে থাকুক তাদের কঠোর শাস্তি চাই।

আশিকের বড় ভাই আল-আমিন বলেন, ভাটারা থানা পুলিশ মঙ্গলবার আত্মহত্যার প্ররাচণা ও পরিকল্পিত হত্যা এমন বিষয়ের অভিযোগ নিয়েছে। আশা করি আমার ভাই হত্যার সঠিক বিচার পাব।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলামিন কাওসার অপু ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, ফারিহার রুমমেট নুসরাত আঞ্জুম জানিয়েছেন ওই ফ্লাটে আশিকের যাতায়াত ছিল। রাতেও অনেকসময় থাকতেন আশিক। তবে সেদিন আশিক ওই ফ্লাটে ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না নুসরাত। তিনি বলেন, কলিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আবারো তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কলির একাধিক বয়ফ্রেন্ড ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। আশিকের লাশ উদ্ধারের পেছনে কলি ছাড়া তার অন্য ফ্রেন্ডের হাত আছে কিনা তা এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে পুরোপুরি ঘটনাটি বোঝা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা, ২৮ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।