পাল্টে যাচ্ছে শাবিপ্রবি, ৯ শতাধিক কোটি টাকার প্রকল্পে যা আছে


Published: 2019-07-10 00:50:19 BdST, Updated: 2019-09-15 18:54:28 BdST

শাবি লাইভ : পাল্টে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য বিরাট অংকের বাজেট পাশ হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১ম সভায় ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ পাল্টে যাবে। এছাড়া সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নত মানবসম্পদ তৈরি করা সামনে রাখা হয়েছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকর উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ নামে এই প্রকল্পটি পাশ হয়। এতে ২০টি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্প অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ২টি আবাসিক হল, গ্র্যাজুয়েট ও বিদেশী ছাত্রদের জন্য ১টি ৭ তলা হল নির্মাণ করা হবে। এতে ২১০০ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। বর্তমানে ছাত্রদের ৩টি এবং ছাত্রীদের ২টি আবাসিক হল রয়েছে এতে সর্বমোট ২১৬১ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ছাত্রীদের ২টি হলের অধীনে বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাহিরে ৫টি ভাড়া বাসায় ৪৩৯ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ১১তলা ৪টি আবাসিক ভবন এবং কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা আবাসিক একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। ৫টি আবাসিক ভবন নির্মাণের ফলে প্রায় ২০০টি পরিবারের আবাসন ব্যবস্থা হবে বলে প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ৩টি ভবন ও ১টি ডরমেটরি রয়েছে। প্রকল্পের অধীনে হল গুলো নির্মিত হলে আবাসিক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে চারতলা ও তিনতলা বিশিষ্ট দুইটি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। জায়গা স্বল্পতার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ৩য় প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্পে।

ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগ সমূহের জন্য দুইটি ১০তলা একাডেমিক ভবন, ভৌত বিজ্ঞান, কৃষি ও খনিজ বিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগ সমূহের জন্য ১০তলা একটি একাডেমিক ভবন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন, বাংলা, ইংরেজি বিভাগ ও আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের জন্য ১০তলা একটি ভবনসহ সবমোর্ট চারটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় ওয়ার্কশপ নির্মাণ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের জন্য ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবন নির্মাণ, ছাত্রদের হল সমূহের মাঝামাঝি স্থানে ৪তলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্যারেজ বর্ধিত করণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কের উভয় পাশের ১৫ মিটার স্প্যানের দুইটি ব্রিজ নির্মাণ এবং ৩৩/১১ কেভি ১০ এমভিএ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়ার শেষ সময় ২০১৭ সালে ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৭-২০২০’ নামে ২০০ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা একটি প্রকল্প একনেকের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পূর্বে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়)-এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো ছিল সৈয়দ মুজতবা আলী হলের অবশিষ্ট অংশ নির্মাণ, তৃতীয় ছাত্রী হল নির্মাণ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার নির্মাণ, সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দ্বিতীয় ব্লক নির্মাণ, এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের পঞ্চম থেকে দশম তলা নির্মাণ, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, লিফট, সাময়িকী, আসবাব ও বইপত্র, সিসিটিভিসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্রয়, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে এ অর্থ ব্যয় করার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছিল। বর্তমানে সীমানা প্রাচীরের কাজ বেশির ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

ঢাকা, ১০ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।