বুয়েটের ‘টিউশন বয়’ শামীম বিল্লাহর ভয়ংকর হয়ে উঠার গল্প!


Published: 2019-10-13 13:12:24 BdST, Updated: 2019-11-22 08:14:45 BdST

সাতক্ষীরা লাইভ : গ্রামের মেধাবী ‘সুবোধ’ বালক ছিলেন শামীম বিল্লাহ। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আবরার হত্যা মামলার আসামি’ হয়েছেন তিনি। সেই রাতে আবরারকে হত্যার ভয়ংকর কাহিনী শুনে শিউরে উঠছেন সবাই। টিউশনি করিয়েই পড়াশোনার খরচ চালাতেন শামীম বিল্লাহ। আবরারকে হত্যার রাতে তাকে সেই টর্চার সেলের কক্ষ থেকে কয়েকদফা বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। আবরারকে মারধরে তিনিও অংশ নেন।

জানা গেছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ইছাকুড় গ্রামের ট্রাক চালক আমিনুর রহমান ওরফে বাবলু সরদারের ছেলে শামীম বিল্লাহ। বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামিমবিল্লাহ বুয়েটে এসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বড়ভাইদের নির্দেশ মানতে গিয়ে ভয়ংকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। হয়েছেন আবরার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে আটক করেছে।

শামিমবিল্লাহর বাবা বাবলু সরদার জানান, ২০১৫ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল তার ছেলে। ২০১৭ সালে ঢাকার সেন্ট জোসেফস থেকেও গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। এর আগে অষ্টম শ্রেনিতে বৃত্তি লাভ এবং পঞ্চম শ্রেণি সমাপনীতেও সে সেরা ফলাফল করেছিল। তাকে লেখাপড়া করাতে বাবার কোনো টাকা খরচ হয়না জানিয়ে তিনি বলেন তার ছেলে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে গরিব ও মেধাবী হিসাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। ঢাকায় সে একজন সচিবের বাড়িতে টিউশন পড়ায়। সেখান থেকে যে টাকা সে পায় তা নিজের খরচে লাগিয়েও বাড়িতে পাঠায়। এরই মধ্যে সে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন সবই কিনেছে নিজের আয় করা টাকায়।

তিনি বলেন তার জমানো আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সম্প্রতি সে একটি এফজেড মোটর সাইকেল কিনেছে। এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আবরার ফাহাদ যেদিন খুন হন সেদিন রাত ৯ টার দিকে ২০০৪ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা শামিমবিল্লাহ প্রাইভেট পড়িয়ে একটি নতুন হেলমেট কিনে শেরে বাংলা হলে ঢুকছিল। সেখানে অনেকটা হাঙ্গামা দেখতে পায় সে। ওই মুহুর্তে তার বন্ধুরা তার হেলমেটেটি মাথায় পরে হাসি তামাসাও করে। তিনি জানান এর কিছুক্ষণ পর হলের বড় ভাইরা ওদের সবাইকে ডাকে। এমন ১০/১৫ জনের মধ্যে শামিমবিল্লাহও একজন। বড় ভাইরা কি সব পরামর্শ নাকি দিয়েছিল তাদের। এরপর শামিম রুমে চলে যায়।

বাবলু সরদার ছেলের বরাত দিয়ে আরও জানান আবরার হত্যার পরদিনও শামিমবিল্লাহ হলে ছিল। কিন্তু দারোয়ান তাকে ডেকে বলে বাবা তুমি তো পাশের রুমে থাকো। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয়। এরপর শামীম ওঠে একজন সচিবের বাসায়। সেখান থেকে সে সরাসরি গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় চলে আসে। এর পর কোনো কিছু বুঝে উঠবার আগেই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। শামিমের একমাত্র বোন শারমিন শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

শামিমের মা হালিমা খাতুন বলেন আমার ছেলে কারও সাথে ঝগড়াও করেনি কোনোদিন। সবাই তাকে ভালো বলে। আমরা ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছি। কিন্তু এ কোন বিপদের মুখে পড়লো আমার সোনার ছেলেটি।

বাবা বাবলু সরদার জানান আমি কিস্তিতে একটি ট্রাক কিনে সেটা চালাই। আমার ভাই লাভলু ঢাকা পরিবহনের চালক। আমার বাবা আতিয়ার রহমান একটি ইটভাটায় চাকুরি করেন। সব মিলে আমার পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখছিল। এর মধ্য দিয়ে ছেলেটি লেখাপড়া শিখে বড় হচ্ছিল। কিন্তু মাঝখানে এ কেমন ছেদ পড়ে গেলো।

তিনি বলেন একজন বাবা হিসাবে আমি চাই যারা আবরারকে হত্যা করেছে তারা যেনো শাস্তি পায়। এমনকি আমার ছেলে দোষী হলে সেও শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ নিরপরাধ কোনো ছেলে যেনো কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রের শিকার না হয় সেটাও চাই।

এদিকে আবরার হত্যার সেই রাতে শামীম বিল্লাহকে বেশ কয়েকবার সেই টর্চার সেল থেকে বের হতে দেখা গেছে। এমনকি নিস্তেজ আবরারকে চাদরে মুড়িয়ে নিচে নামানোর সময়ও শামীম বিল্লাহকে দেখা গেছে চাদর ধরে রাখতে।

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।