অশ্লীল ভিডিও: পদত্যাগ এইউএসটির সেই দুই শিক্ষকের, আগেও নজির আছে!


Published: 2019-10-30 21:45:57 BdST, Updated: 2019-11-20 03:30:58 BdST

 

এইউএসটি লাইভঃ এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা নতুন নয়। এটি একটি পুরানো অভ্যাস বলতে পারেন। এর আগেও আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ের (এইউএসটি) বেশ ক’জন শিক্ষক অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। আগে আরও দুজন শিক্ষকের ব্যাপারেও রয়েছে এমন অভিযোগ। তারাও চাকরি হারিয়েছেন। সহকারী প্রক্টর মাহফুজ ফেরদৌস বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে বেশী নম্বারের টোপ দিয়ে যৌন হয়রানি করেন। তিনি গ্রেফতার হন। পরে চাকরি হারান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রশাসন রহস্যজনকভাবে বরাবরই থাকেন নিপীড়নকারী এবং যৌন হয়রানিকারীদের পক্ষে।

এবারও কোন ব্যতিক্রম হয়নি। শিক্ষার্থীরা ভিসি ও অশ্লীল ভিডিওর সাথে জড়িত দুই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবী তুলে আন্দোলনে মাঠে নেমেছেন। তবে, ওই ভিডিও ফেসবুক লাইভে প্রচারের পর অভিযুক্ত দুই শিক্ষক মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করা একজন শিক্ষক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও তারা উভয়ে আছেন ছুটিতে। অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে ক্যাম্পাস টু ক্যাম্পাসে।

এর আগে বিভিন্ন মহল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়া নেয়নি প্রশাসন। অশ্লীল ভিডিওটির বিষয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তবে গত সোমবার ও মঙ্গলবার দিনভর আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ভিসির পদত্যাগসহ নয়দফা দাবি রয়েছে তাদের। আন্দোলনকারীদের সাথে বুধবার সকালে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. ভিসিকে প্রশাসনিক সব পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তার দায়িত্বকালে নেয়া সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

২. বর্তমান ভিসির জন্য যে ১০ সিনিয়র ফ্যাকাল্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে তাদেরকে স্ব-সম্মানে ফিরিয়ে আনতে হবে।

৩. প্রতি সেমিস্টার বাবদ নেয়া অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তা অথরিটিকে জানাতে হবে।

৪. ক্লিয়ারেন্সে টাকা দেয়ার নতুন আরোপিত নিয়ম বাতিল ও ক্যারি ক্লিয়ারেন্সে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৩ করতে হবে।

৫. ইউনিভার্সিটিতে এলাইমনাই অ্যাসেসিয়েশন গঠনে সম্মতি দিতে হবে।

৬. সেমিস্টারে এস্টাবলিস্টমেন্ট এবং ডেভোলপমেন্ট ফি নেয়া হলেও তার সব সুবিধা দেয়া হয় না, এ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ল্যাব সুবিধা, ক্লাস রুম উন্নয়ন, ওয়াশ রুম সংস্কার, নিরাপত্তা জোরদার, ক্যান্টিনের খাবার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, যাতায়াত ব্যবস্থা ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।

৭. ভিসি ড. কাজী শরিফুল আলম যখন ইনচার্জ ছিলেন তখন ১ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল সিভিল বিভাগের সরঞ্জমাদির জন্য, কিন্তু সেই সরঞ্জমাদিগুলো এখনো আসেনি। তাই ওই টাকার হিসাব দিতে হবে ভিসিকে।

অন্যদিকে এর বেশ কিছুদিন আগে মাহফুজ ফেরদৌস নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বশে কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের ফলে বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টির সকল ক্লাস, পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওই বিভাগের ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিল।

কিন্তু ওই শিক্ষক সেই ছাত্রীকে চাপ দিয়ে মিথ্যা বিবৃতি আদায় করেন। এ জন্য আন্দোলনকারীরা ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে তাই হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহফুজ ফেরদৌস কয়েকজন ছাত্রীকে পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়ার কথা বলে যৌন হয়রানি করেন।

আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ের ভিসির রুমে তালা

 

এদিকে, আহছানউল্লাহ্ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. কাজী শরিফুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন অবৈধভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্বেচ্ছাচারীভাবে পরিচালনা করছেন ড. কাজী শরিফুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত ভিসির পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবারও করবেন। নয়দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন তারা।

কিন্তু কিছু দিন পরেও তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে একমাস করে ছুটি দেয়া হয়েছে। পদত্যাগ করা একজন শিক্ষক জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করতে হল।’ এর আগে শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন পর্ন তৈরিতে অভিযুক্ত নারী শিক্ষকের স্বামী।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে তার বাসার গেটে একটি সাদা খাম দেখতে পান। খাম খুলে দেখা যায় একটি সিডি। সিডি চালিয়ে দেখেন তার শিক্ষক স্ত্রী অপর এক পুরুষ লোকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন পুরুষ ওই লোকটি আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক। অপর এক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুরুষ শিক্ষকের স্ত্রীও ওই ভিডিওটি দেখেছেন এবং সত্যতা যাচাইয়ের পর তার শিক্ষক স্বামীকে তালাক দিয়েছেন।

পর্ন ভিডিওতে অভিযুক্ত নারী শিক্ষক আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার আগে বিতর্কিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন বলে জানা যায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট। জানা যায়, অভিযুক্ত নারী শিক্ষকও কয়েকদিন আগে তার স্বামীকে তালাকনামা পাঠিয়ে দেন। আর অভিযুক্ত পুরুষ শিক্ষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট। এনিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে।

জানা যায়, গত আগস্টে নিয়মিত ভিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ভারপ্রাপ্ত ভিসি পদে আছেন ড. কাজী শরিফুল আলম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. কাজী শরিফুল আলমের চ্যান্সেলর কর্তৃক ভিসি নিযুক্ত হওয়ারও সুযোগ নেই। কারণ, তিনি বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের। আর বিধান অনুযায়ী এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রযুক্তি অথবা বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের অধ্যাপককে ভিসি নিয়োগ করতে হবে।

এছাড়া অনৈতিক কাজে লিপ্ত দুই শিক্ষককে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে বরখাস্ত অথবা বহিষ্কার না করায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। অভিভাবকরা মন্তব্য করেছেন, ‘এমন ঘৃণ্য কাজের পরও তারা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকেন?’ এটা চলতে দেয়া যায় না।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. কাজী শরিফুল আলম জানান বিষয়টি ‘নিতান্তই ব্যক্তিগত’ এবং একপক্ষ থেকে অভিযোগ আসা একটি ঘটনা মাত্র। ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. কাজী শরিফুল আলম আরো জানান, ‘ভিডিওটি আমাদের হাতেও এসেছে। বিষয়টি তাদের ব্যক্তিগত এবং তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।’ তদন্ত শেষ হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ‘অনৈতিকতার প্রশ্ন আসে না।

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।