ঢাবির বহিষ্কৃতদের বিষয়ে প্রক্টর বললেন, ‘তালিকাটি খুবই ‘সেনসেটিভ’


Published: 2020-01-31 21:44:47 BdST, Updated: 2020-04-06 19:00:45 BdST

মনিরুজ্জামান মাজেদ, ঢাবিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি ও ডিজিটাল জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকায় স্থায়ী বহিষ্কৃত ৬৩ জনের তালিকা দিচ্ছে না প্রক্টর গোলাম রাব্বানী। এমন অভিযোগ করেছেন অনেকেই। বলেছেন ওই অভিযুক্তদের কাছে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন সখ্যতা।

ভর্তি ও ডিজিটাল জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকায় গত মঙ্গলবার ৬৩ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর তাদের নাম প্রকাশের বিষয়ে কথা বলতে চাইলেন তিনি। প্রক্টরের ভাষ্য নাম দিয়ে কি হবে। এরা বহিস্কার হয়েই গেছে।

নাম প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রক্টর ক্যাম্পাসলইভকে বলেন, ‘তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কে? তোমরা তালিকা প্রকাশের জন্য বার বার চাপ দিচ্ছো?’ শিক্ষার্থীরা বহিষ্কৃতদের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিতর্ককে থোড়াই কেয়ার করি না।’ আমরা যা ভাল মনে করি তাই হবে।

প্রসঙ্গত গত মঙ্গলবার ভর্তি জালিয়াতি ও ডিজিটাল জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সিন্ডিকেট। তবে জালিয়াতির সাথে যুক্ত হওয়া এসব শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশে অনীহা দেখিয়ে আসছেন প্রক্টর বার বার।

গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তালিকা প্রকাশের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। তার কাছে তালিকা নেই বলেও জানান। তবে ভিসির আদেশের পর তালিকা নিজের কাছে আছে বলে স্বীকার করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সদিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি এ তালিকা প্রকাশে গড়িমসি করায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ও জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। তখনও বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ করেছিল প্রশাসন।

এরপরে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হলে তাদেরও তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে এবারের তালিকা প্রকাশ না করার বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, বহিষ্কৃতদের মধ্যে প্রক্টরের আশির্বাদপুষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকায় তাদের তালিকা প্রকাশে কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ওইসব শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দিতে পারবেন বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে। একজন মাস্টার্স এর শিক্ষার্থী জানান নাম প্রকাশ করলেই তো সমস্যা। কারণ তাদেরকে পুনরায় আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধায় মেলাতে পারবেন না। তাই কৌশল হিসেবে নাম প্রকাশ করা হচ্ছেনা। তাহলে বহিস্কৃতদের পুনরবাসন করতে পারবে প্রক্টর।

তবে এই প্রসঙ্গে প্রক্টর গোলাম রাব্বানী আরও বলেন, ‘তালিকাটি খুবই ‘সেনসেটিভ’। এটা এখন প্রকাশ করা যাবে না।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তালিকা প্রকাশের বিষয়ে সদিচ্ছা প্রকাশ করেন। আমি এনিয়ে ভাবছি কি করা যায়।

ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বহিস্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় যেসব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে তাদের তালিকা প্রকাশ করতে কোন ধরনের দ্বিধা প্রশাসনের নেই। আমি প্রক্টরকে বলে দিচ্ছি। তিনি তালিকা দিয়ে দেবেন।’

তবে ভিসির আদেশের পর প্রক্টরকে বললেও তালিকা দিতে রাজি হননি প্রক্টর গোলাম রাব্বানী। তার সাফকথা এটি ‘সেনসেটিভ’। প্রকাশের সময় হয়নি।

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।