জবিতে ২০টির অধিক স্পটে চলে মাদক সেবন


Published: 2020-02-05 19:59:59 BdST, Updated: 2020-04-06 17:04:22 BdST

রেজওয়ান ইসলাম, জবিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) আয়তনে ছোট হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রয়েছে অসংখ্য মাদক সেবনের জায়গা। একমাত্র অনাবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ২০টির অধিক মাদক সেবনের স্পট।

সকাল থেকে রাত যেকোন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে হরেক রকমের মাদক সেবন। প্রশাসনের তেমন কোন বাধা ধরা না থাকায় দিন-রাত এসকল স্পটে চলে অবাধে মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের আনাগোনা।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কিছু স্থানসহ সদরঘাট ফুটওভার ব্রিজ ও জবি টিএসসিতে সন্ধ্যার সময় চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। ক্লাস চলাকালীন সময় থেকে শুরু করে সারারাত ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে মাদকসেবীদের আনাগোনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদকসেবনের স্পট গুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু স্পটের মধ্যে শুধুমাত্র বিবিএ বিল্ডিং এ রয়েছে প্রায় ৬-৭ টি স্পট। এর মধ্যে অডিটোরিয়ামের দ্বিতীয় গেইটের পাশে, বিবিএ বিল্ডিং এ প্রবেশ করতে একদম ডান পাশের কর্ণারে, বিবিএ বিল্ডিং এর নিচতলার টয়লেট, ক্লাস চলাকালীন সময়ে মার্কেটিং ও ফিন্যান্স এর ওয়াশরুম, বিবিএ বিল্ডিং এর ছাদে। আন্ডারগ্রাউন্ডে সন্ধ্যা বেলায় চলে ফেন্সিডিল সেবন। এছাড়াও ক্যাম্পাস চলাকালীন সময়ে গেইটের বাইরে রাখা দোতলা বাসের উপরের তলায় চলে অবাধে গাজা সেবন।

কলা ভবনের আশেপাশেও রয়েছে কয়েকটি মাদক স্পট। এর মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগের পিছনে, রেভেনাস ক্যান্টিনের পিছনে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্ণারে সন্ধ্যা হলেই মাদকের পসরা বসে। এছাড়াও বিজ্ঞান অনুষদেও রয়েছে কয়েকটি নির্দিষ্ট স্পট। তন্মধ্যে রাতে পার্ক করা জবির বাস গুলোর চিপায়, ভুগোল বিভাগের আশেপাশে, বিজ্ঞান অনুষদের নিচতলায়। সন্ধ্যার সময় এই জায়গা গুলো তুলনামূলক অন্ধকারাচ্ছন হওয়ায় মাদক সেবীদের জন্য খুবই নিরাপদ জায়গা হয়। দিনের বেলায় চারুকলা বিভাগের ছাদেও অবাধে চলে মাদক সেবন ও আড্ডা।

শুধুমাত্র যে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরেই চলে মাদক সেবন তা কিন্তু নয়। নির্মাণাধীন ছাত্রী হলে চলে অবাধে ইয়াবা, গাজা, মদ ও ফেন্সিডিল সেবন। সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায় নির্মাণাধীন কয়েকটি ফ্লোরে পড়ে রয়েছে গাজা সেবনের উপকরণ, মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও ফেন্সিডিলের খালি বোতল। এছাড়াও ক্যাম্পাসের বিপরীতে জবি টিএসসির হোটেল গুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে ফলে অনেক মাদকসেবী সেখানেও মাদক সেবন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসকল মাদকের জোগানদাতা পুরান ঢাকা ও এর আশেপাশের কিছু মাদকব্যবসায়ী। এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাদক সেবী শিক্ষার্থীদের মধ্যস্ততা করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থীরা। ফলে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে এসকল মাদক বিক্রিতে। তাঁতীবাজার, কলতাবাজার, লক্ষ্মীবাজার, মুরগীটোলা মোড়, সদরঘাটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা জোগাড় করেন এসকল মাদকদ্রব্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা বা গেঞ্জাম-ফ্যাসাদের সৃষ্টি হয় যার অন্যতম কারণ হচ্ছে মাদক সেবন। এসকল মাদক সেবনের প্রতিবাদ করতে গেলেও আমাদের হতে হয় হয়রানির স্বীকার। তারা আরো বলেন, শুধু মাত্র প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেই এই পরিস্থিতির সমাধান হবে না, মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের সঠিক কাউন্সিলিং প্রয়োজন। যাতে করে তারা এই পথ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে।

এব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, এ বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডি অবগত আছেন। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রেখেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা গুলোতে দ্রুতই আলোর ব্যবস্থা করা হবে।

কোতয়ালী থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মাদক বিক্রেতাদের ব্যাপারে আমরা সব সময়ই সজাগ রয়েছি। এছাড়াও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনছি, এছাড়াও সমাজের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সাথেও পরামর্শ করে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

ঢাকা, ০৫ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজে

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।