সীমান্ত হত্যার বিচারের আশায় আজও বসে সেই শিক্ষার্থীসীমান্ত হত্যা: অবস্থানের ৪০ দিনেও সাড়া মিলেনি!


Published: 2020-03-04 18:06:57 BdST, Updated: 2020-04-06 04:22:46 BdST

মো.মনিরুজ্জামান, ঢাবিঃ গত ২২ জানুয়ারি ভোর থেকে শুরু করে ২৪ ঘন্টায় বিএসএফের গু*লিতে ৫ বাংলাদেশি নিহতের পর ২৫ জানুয়ারি সীমান্ত হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ'র শিক্ষার্থী নাসির আবদুল্লাহ। আজ বুধবার তার অবস্থানের ৪০ দিন হতে চলেছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নাসির আব্দুল্লার সাথে সংহতি জানিয়ে গণস্বাক্ষর ও 'কাঁটাতারের বন্ধুত্ব: বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক' বিষয়ে আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হত্যা জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনার কথা বার বার বলা হলেও তা বন্ধ করা যায়নি। সীমান্তে গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ২০১৯ সালে। বেসরকারি সংখ্যায় সীমান্ত হত্যার সংখ্যা ৪৩ বলা হলেও বিজিবির হিসাবে তা ৩৫।

সীমান্তবর্তী দুটি দেশ বন্ধুরাষ্ট্র হবার পরও দুই দেশের সীমান্তকে রক্তপাতমুক্ত করা যাচ্ছে না কিছুতেই। গত এক দশকে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ।

জাতীয় সংসদ থেকে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সীমান্তে নিহত হন ৬৬ জন। ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে তিনজন। যদিও তাতে ২০১৯ সালের সীমান্ত হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

৪০ দিন যাবত অবস্থানকারী সেই শিক্ষার্থীর সাথে সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা কোন ভাবেই মেনে নেয়ার মত বিষয় নয়। দু-দেশেরই বিচার ব্যবস্থা আছে, কেউ অপরাধ করলে তাকে আটকিয়ে রাখেন, তারপর সে কোন আদালতে যাবে কিন্তু তাকে হত্যা করা যাবে না ।

আমি আমার এ দাবি করেছি রাষ্ট্রের কাছে। সীমান্ত হত্যা যে বন্ধ করতে হবে এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতিতে যেন অন্তর্ভুক্ত হয়। আর রাষ্ট্রের মধ্যে আপনিও আছেন আমিও আছি, এটা কোন দলের বিষয় নয়।

বাংলাদেশে অনেক ইস্যু নিয়ে কাজ হয় কিন্তু সীমান্ত হত্যা নিয়ে মানুষকে জাগানোর কাজ কেউ করে না। আমি চাই এর মাধ্যমে সীমান্ত হত্যা সম্পর্কে মানুষ সচেতন হোক।

তিনি আরো বলেন, আমি অবস্থানের পাশাপাশি বইমেলায়ও মানুষের সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে সীমান্ত হত্যা সম্পর্কে অবগত করার চেষ্টা করেছি। বইমেলায় প্রায় সাত হাজার লোকের সাথে এ নিয়ে সরাসরি কথা বলেছি।

আমরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে ১৩ শ' স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। মন্তব্যলিপি চালু করেছি, সেখানে মন্তব্য আসছে। "সীমান্ত আলাপ" নামক একটা আলাপ চালু করেছি, "কাঁটাতার" নামে একটা পত্রিকা বের করেছি। সামনে আমরা সীমান্তের মানুষদের নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করবো। আমরা তাদের কান্নাগুলো সবার কাছ পৌঁছে দিতে চাই। এছাড়াও আমরা সীমান্ত ট্যুর চালু করতে চাই। আমরা সীমান্ত নিয়ে একটা সামগ্রিক পদক্ষেপ নিয়েছি।

অবস্থানে শিক্ষার্থী নাসির আবদুল্লাহ

 

মোদির আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোদি গুজরাটের মডেল দিল্লিতে নিয়ে এসেছেন। আর দিল্লির মডেল নিয়ে এসেছেন সীমান্তে। তার এ সফর সীমান্তের মডেল বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্যই। মোদি বাংলাদেশে আসবে কি আসবেনা তা সরকারের সিদ্ধান্ত কিন্তু আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে বলবো, মোদি বাংলাদেশে আসতে পারে না।

মোদি যদি সীমান্ত হত্যার বিচার করে আসতে পারে তাহলে আসবে তাছাড়া কসাই মোদি কোনদিনই এদেশে আসতে পারে না।

নাসির আব্দুল্লাহর অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, দীর্ঘ চল্লিশ দিন ধরে সীমান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসির আব্দুল্লাহ। তার এই দাবির সাথে সংহতি জানাই। এই দাবি তো কারো একার নয়, দেশের সকলের।

সেই স্বাধীনতার পর থেকেই এই অন্যায় হয়ে আসছে, ফেলানীকে মৃত্যুর পরেও কাঁটাতারে ঝুলতে হয়েছে। অথচ কোনো অপরাধীর বিচার হয়নি, শাস্তি হয়নি। আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রও কেমন যেনো নিরব। এই সব নিরাবতার বৃত্ত ভাঙ্গতে হবে সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে হবে এই আমার দাবি।

ঢাকা, ০৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।