"আবারও ২৮ বছরের মতো ঝুলে থাকতে পারে ডাকসু"


Published: 2020-03-11 18:20:56 BdST, Updated: 2020-04-06 03:52:36 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবিঃ ডাকসু নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলেও নতুন নির্বাচনের কোন তোড়জোড় নেই। আশঙ্কা প্রকাশ করে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'হয়তো আবারো ২৮ বছরের মতো ঝুলে যেতে পারে ডাকসু নির্বাচন।'

২৩ মার্চ শেষ হবে ডাকসুর মেয়াদ। ডাকসু'র সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ৬-এর (গ) ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না হলে ডাকসুর কার্যক্রম আরো ৯০ দিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলবে। ভিপি নূরুল হক নূর ডাকসুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রলীগ ও ভিসির অনীহার অভিযোগ তুলে ডাকসু নির্বাচন আদৌ হবে কি না তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেন।

ভিপি আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে একটু হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গেস্টরুম নির্যাতন একটু হলেও হ্রাস পেয়েছে। শিক্ষার্থী বান্ধব নানা কর্মসূচী হয়েছে। ডাকসু না থাকলে সেটাও হতো না। ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হতে থাকলে ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাই রুটিনমাফিক নির্বাচন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ২৮ বছর পর একটি ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এতেই আত্মতৃপ্ত থাকার সুযাগ নেই। এটিও মনে রাখা উচিত- ডাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো করুণা বা বদান্যতা নয়। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি বলেন, আমরা চাই ডাকসু নির্বাচন একটি ক্যালেন্ডার ইভেন্টে পরিণত হোক। প্রত্যেক বছর আমরা বার্ষিক পরীক্ষা দিই, সেই হিসেবে প্রত্যেক বছর ডাকসু নির্বাচন হবে। আমাদের চাওয়া, ডাকসু নির্বাচনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অনতিবিলম্বে যাতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

ডাকসু গঠনতন্ত্রের ৮(ই) ধারায় বলা হয়েছে, ‘ডাকসুর সভাপতি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নির্বাচনের দিন, তারিখ ও ভোটগ্রহণের সময় ঠিক করে সবাইকে জানাবেন।'

কিন্তু নতুন নির্বাচন নিয়ে ভিসি কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, সময় হলে জানানো হবে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব তুলেছিলেন সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। তখনও বিষয়টি নিয়ে ভিসি কোনো মন্তব্য করেননি।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি যাতে ডাকসু নির্বাচন একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের মতো ডাকসু নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত নতুন নির্বাচনের কোন তোড়জোড় দেখছি না। এটা নিয়ে আমরা শংকিত। আজকে ডাকসু বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট মিছিল করেছে। আমরাও আমাদের কর্মসূচী চালিয়ে যাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, যদিও আমরা ডাকসু নির্বাচনের অস্বচ্ছতা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তবে আমরা চাইবো নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সময়মতো নির্বাচন না দিলে আন্দোলনে যাবেন বলে জানান তিনি।

ঢাকা, ১১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআর//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।