করোনার লাশের মিছিলে যুক্তরাষ্ট্রে ৭০ বাংলাদেশী


Published: 2020-04-06 12:22:58 BdST, Updated: 2020-06-06 00:34:50 BdST

মৃদুল ব্যানার্জি: করোনাভাইরাস। একটি নাম। একটি প্রাণঘাতি আতঙ্ক। যে আতঙ্ক আজ সারা দুনিয়াকে নাড়া দিয়েছে। তছনছ করে দিয়েছে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির নাম- নিশানা। গত ৫ মাসেও কোন প্রতিশোধক আবিস্কার করতে পারেনি বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা। গোটা বিশ্ব আজ দিশেহারা। এই ভাইরাস ই্উরোপ, এশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকেও কাবু করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। একই সঙ্গে বাড়ছে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা।

এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘন্টায় নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ জন বাংলাদেশি। এ নিয়ে নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৬৫ জন। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৭০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কে ৬৩ জন। অন্য দুজন হলেন মিশিগান ও নিউজার্সিতে। তবে এর প্রকৃত হিসাব কেউ জানে না।

সাবেক এমপি ও বিডি সোসাইটির সভাপতির মৃত্যু:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বারের সফল সভাপতি কামাল আহমদ আর নেই (ইন্নাইলাহি...রাজিউন)। তারা দু'জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম শনিবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে কামাল আহমদ আমেরিকায় একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার সময় (এল মহার্স্ট ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম

 

এ বিষয়টি জানিয়েছেন সিরাজুল ইসলামের জামাতা সুনেল হক । তিনি জানান, তার শ্বশুর দীর্ঘদীন থেকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

সিরাজুল ইসলাম মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসন থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা থেকে তিনি ভোটের রাজনীতিতে আসেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও ছিলো তার অসামান্য অবদান। যুক্তরাষ্ট্রের এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মহান মুক্তিযুদ্ধেও ছিলে তার অসামান্য অবদান। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশ সোসাইটির দুই বারের সফল সভাপতি কামাল আহমদ আমেরিকায় শনিবার ভোর ৪ টা ৩০ মিনিটের সময় (এল মহার্স্ট) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি আজিমুর রহমান বোরহান।

কামাল আহমদ

 

বৃহত্তর সিলেট বিয়ানীবাজার উপজেলার বাউর বাগ গ্রামের কৃতি সন্তান ছিলেন কামাল আহমেদ। যিনি দীর্ঘ কয়েকযুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি হিসেবে বসবাস করছিলেন। তার কর্মময় জীবন ছিল নিউইয়র্কের সকল প্রবাসিদের ঘিরে। এ জন্য কমিউনিটির অত্যন্ত প্রিয় মুখ ছিলেন তিনি। মরহুম কামাল আহমেদ বাংলাদেশ সোসাইটির যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি ছাড়াও ছিলেন- জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইনক, এবং বিয়ানী বাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির সাবেক সভাপতি।

পুলিশের সাবেক এসপির মৃত্যু:
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সুপারের (এসপি) মৃত্যু হয়েছে। ১ এপ্রিল, বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ওই মৃত ব্যক্তির নাম জিল্লুর রহমান (৭০)। মৃতের ভাই ডা. পম্পে রহমান এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।

জিল্লুর রহমান

 

এ বিষয়ে ডা. পম্পে রহমান জানান, গত কয়দিন আগে জ্বর-কাশি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন জিল্লুর রহমান। গত বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা ধরে পড়ে বলেও জানান তিনি।

জিল্লুর রহমান বেনাপোল পৌরসভার গাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ও ৩নং বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মমিন উদ্দিনের বড় ছেলে। ২০০৮ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি

সাংবাদিক এ হাই স্বপনের মৃত্যু:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক এ হাই স্বপন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যামাইকাতে একটি হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে এগারোটায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

সাংবাদিক এ হাই স্বপন

 

জানা গেছে, গত শুক্রবার করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন স্বপন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। দুই বছর আগে নিউইয়র্কে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। এরপর তার কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় তা ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে তিনি মানবজমিন এর সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি দৈনিক বাংলাবাজারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

মুয়াজ্জিনের মৃত্যু:
নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একেএম মনির উদ্দিন (৬৩) নামের এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। তিনি সেখানে ট্যাক্সিক্যাব চালাতেন এবং স্থানীয় মসজিদে আজান দিতেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

একেএম মনির উদ্দিন

 

এর আগে পাঁচদিন তিনি এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃতের পারিবারিক ঘনিষ্ঠজন বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান জানান, মনির জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ি সংলগ্ন মসজিদে স্বেচ্ছায় মাঝেমধ্যে আজান দিতেন। ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবন ধারণ করতেন। জানা যায়, গত ১৩ মার্চ জুম্মার দিনে শেষ আজান দিয়েছিলেন মনির। তখন তিনি বলেছিলেন, আমাদের অনেক ভাই করোনায় আক্রান্ত। এই মহামারি থেকে রক্ষা পেতে সবাই নিজ নিজ গৃহে থেকে ইবাদত করব।

মির্জা হুদা সোহাগ সহ ৪ জনের মৃত্যু:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের এলমহার্স্ট হাসপাতালে মীর্জা হুদা সোহাগ নামে আরেক বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি …… রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। মির্জা হুদা সোহাগ স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করতেন। যশোরের মির্জা বদরুল হুদা সোহাগ শহরের আরবপুর এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান বৃদ্ধ মা, ভাই বোনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহত মির্জা হুদার সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান

 

এদিকে, নিউইয়র্কে একইদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তারা হলেন, বিজিত কুমার সাহা (৩৮), জায়েদ আলম(৪৬) এবং মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী (৭৮)।

৮ বাংলাদেশির মৃত্যু:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কে ২৯ ও ৩০ মার্চ দুইদিনে আরো ১৪ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ও ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম, কুইন্স হাসপাতাল, জ্যামাইকা হাসপাতাল, এলমহার্স্ট হাসপাতাল এবং ব্রুকলিনে ব্রুকডেল হাসপাতালের উদ্ধৃতি দিয়ে কমিউনিটি লিডার মাজেদ এ উদ্দিন এবং কাজী আজম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

৭৫ বছর বয়সী আনোয়ারুল আলম চৌধুরী করোনায় চিকিৎসা নিচ্ছিল ব্রুকডেল হাসপাতালে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা হেলাল মাহমুদের শশুর আনোয়ারুল মারা গেছেন। জ্যাকসন হাইটসের প্রিমিয়াম সুইটসের কর্মী নিশাত চৌধুরী (২৪) কে মৃত ঘোষণা করা হয় সেই সোমবার সকালে। কিশোরগঞ্জের ইটনা পেজেলার খালেদ হাসমত (৬৩) কেও সোমবার সকালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে যারা মারা গেলেন তারা হলেন, কায়কোবাদ ইসলাম, শফিকুর রহমান মজুমদার, আজিজুর রহমান ও মো. শিপন হোসাইন। এ নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি এবং সলগ্ন এলাকার হাসাতালে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৩১ বাংলাদেশির প্রাণ গেল।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইব্রাহীম। ৩০ মার্চ আমেরিকায় আরও সাতজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্কে ৫ জন, নিউজার্সিতে একজন ও মিশিগানে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

৩১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বিএনপির নেতা তানভীর হাসান, মুনিম চৌধুরী, নুসরাত মজুমদার ও সুরুজ খান। নিউজার্সির প্যাটারসনে ৭২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম জানা যায়নি।

নিউইয়র্কে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত প্রায় প্রতিটি পরিবারের কোনো স্বজন বা পরিচিত মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারে অনেকেই অজানা আতঙ্কে ভুগছেন। অনেকেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরছেন বা ঘরে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে ৩০ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কুইন্সে ওজনপার্কের বাসিন্দা জ্যামাইকার হিলসাইডে বসবাসরত নিশাত চৌধুরী (৩০), ব্রুকলিনের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. ইব্রাহীম, নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত আলী আকবর নামের এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

এখনও শতাধিক প্রবাসী হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গেছে। এরমধ্যে নিউ ইয়র্ক পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। দু’জন বাংলাদেশি ডাক্তার সংক্রমিত হয়েছেন করোনায়। মুসলিম উম্মাহ নেতা মাহতাবউদ্দিন, বিএনপি নেতা খালেদ আকন্দ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সপরিবারে।

তিন বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু:
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক বাংলাদেশি নারী মারা গেছেন। তার নাম আমিনা ইন্দ্রালিব তৃষা (৩৮)। তিনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার শাসনগাঁও গ্রামের বোরহান হাওলাদারের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্র জানায়, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার হাইল্যান্ড এভিনিউর পাশে টিলারি পার্কের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তৃষা।

এক সপ্তাহ আগে জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি জ্যামাইকা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। গত সোমবার বিকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তৃষার লাশ দেশে আনার ইচ্ছে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল গ্রেভ ইয়ার্ডের বাংলাদেশ সোসাইটির কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নিহত আমিনা ইন্দ্রালিব তৃষার সঙ্গে তার স্বামী ও ২ সন্তান

 

এদিকে নিউইয়র্কের বাইরে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ড্রেটয়েট সিটি ও নিউজার্সির প্যাটারসনে দুই বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। তাদের বিস্তারিত নাম ও ঠিকানা জানা যায়নি।

অন্যদিকে ২৪ মার্চ মারা যান চার বাংলাদেশি। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আব্দুল বাতেন নামক ৬০ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর শ্বাসনালী ফেটে গিয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলায়।

নিহত কয়েকজন বাংলাদেশী

 

ব্রুকলীনে ব্রুকডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার রোহেনা আকতার। তার এক ভাগ্নেও চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও রোহেনা (৪৩) বাঁচতে পারলেন না। ২৪ মার্চ দুপুরে তার মৃত্যু হয়েছে। ৭০ বছরের নুরজাহান বেগম, ৪২ বছরের এক নারী এবং ৫৯ বছরের এ টি এম সালামও মারা গেছেন।।

২৫ মার্চ মারা যান ব্রুকলিন এলাকার ৪৫ বছরের মোছাম্মদ আক্তদারি। ২৬ মার্চ মারা যান ৭৭ বছরের ব্রংক্স এলাকার এক বাংলাদেশী। ২৭ মার্চ নিউইয়র্কে মারা গেছেন ৬৩ বছরের ক্যাবচালক এ কে এম মনির উদ্দিন। একই দিন মারা যান সফিউদ্দিন বেপারী নামে ৫৮ বছরের আরেক ব্যক্তি।

দুই ভাইয়ের মৃত্যু:
এই ভয়াবহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক শহরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ইকবাল হক ভূঁইয়া প্রিন্সের। এক সপ্তাহ আগে প্রিন্সের বড় ভাই শিপন আহমেদও দেশটির একটি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

নিহত ইকবাল হক ভূঁইয়া প্রিন্স ও শিপন আহমেদ

 

জানা গেছে, এই দু'জন এস্টোরিয়ার বাসিন্দা। তাদের বাড়ি ঢাকার গোপীবাগে। এছাড়া অনেক বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক শতাধিক।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম পৃথিবীর অসংখ্য দেশের মানুষের মধ্যে মৃত্যুভয় জাগিয়ে তুলেছে কোভিড-১৯ রোগ। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর দিনে দিনে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেশটির প্রায় সব অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে করোনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে।

করোনাভাইরাস এখন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বাংলাদেশির এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর লোকমুখে শোনা গেলেও ঠিক কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।

কোভিড-১৯ রোগীর উপচেপরা ভিড় হাসপাতালগুলোতে। নিউইয়র্কে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সেখানে হাসপাতালে আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না৷ স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

বাংলাদেশসহ ২০৫টি দেশে এ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবা পড়েছে। আক্রান্তের চেয়ে বেশি মানুষের মনে জন্মেছে আতঙ্ক। মনের এই আতঙ্ক রোগকে ঠেকানোই এখন অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর সব মানুষের ভেতর এক ধরনের চাপা আতঙ্ক কাজ করছে।

ঢাকা, ০৬ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।