বাজেট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা


Published: 2020-07-12 12:55:45 BdST, Updated: 2020-08-08 00:39:47 BdST

মোঃ আবু সাহেবঃ "অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা" এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিলগ্নে দেশের মানুষের জীবনের কথা ভেবে স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সর্ব সম্মতিতে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়। ১লা জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হয়।

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল। প্রতিবছরই সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনার ইতিহাস থাকলেও এবার আলোচনা হয়েছে মাত্র দুই দিন।করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার বাজেট অধিবেশন ছিল অন্য যে কোনো সময়ের সময়ের চেয়ে ভিন্ন।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ হাজার ৪৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।এর মধ্যে, ৫ হাজার ৪৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব বাজেট এবং ৫৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট রয়েছে। এ বছর রাজস্ব বাজেটে বরাদ্দ ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর মাধ্যমে বাজেট প্রদান করা হয়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে বাজেট দেওয়া হয়, তা বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন পরিমান বাজেট নির্ধারন করা হয়।এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উচ্চশিক্ষা গবেষণায় জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে মূল বাজেটের ৬৬ কোটি ৬৫ লাখ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

বাজেট সম্পর্কে কি ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে উপযুক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না,আগামী অর্থ বছরের জন্য শিক্ষা খাতের বরাদ্দ কেমন দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে এ অর্থবছরের বাজেট কোন খাতে কেমন বরাদ্দ দেওয়া উচিত -এ বিষয় নিয়ে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাজেট পরবর্তী ভাবনা তুলে ধরা হল:

দেশের করোনার মহামারী এই পরিস্থিতিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটকে স্বাগতম জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যায়েদ আহমেদ। উচ্চশিক্ষা গবেষনার খাতকে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়ে বলেন, গবেষণা খাতে সরকার যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করলেও তা অপ্রতুল। করোনাকালে এই স্বাধীন বাংলায় যে ঘাটতি পড়েছে তা থেকে পুনরুদ্ধার পাওয়ার জন্য গবেষণায় বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল।

তাছাড়াও বর্তমানে এই দেশের শিক্ষার্থীরা গবেষণার দিকে যথেষ্ট পরিমাণ ঝুঁকে পড়েছে। তাই দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার পরিবেশ তৈরী করতে পারলে তা জাতির জন্য উপকারী হবে। সম্প্রতি গ্লোবে বাংলাদেশের তিনজন গবেষক করোনার ভেক্সিন নিয়ে কাজ করে সফলতা পেয়েছেন। অতএব অর্থ প্রয়োজন পরিবেশ তৈরী করার জন্য।

তিনি গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও অধিক প্রয়োজনীয় মনে করে বলেন,করোনার এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশেের মধ্যে রাখার জন্য শিক্ষা খাতপর প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে "ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ" প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করতে হবে।

পরিশেষে তিনি বরাদ্দের চেয়ে ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন। তিনি জানান, আপনি যদি ছিদ্রওয়ালা কলসে যতোই পানি ঢালেন, কলস কোনো দিন ভরবে না। কাজেই যতোই বাজেট বরাদ্দ করেন কোনো লাভ হবে না, যদি না এর পর্যাপ্ত ব্যবস্হাপনা করা যায়। কাজেই সরকারের কাজে আমার বিনীত আরজ সকল খাতে ঠিকমতো বাজেটের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা এর দিকে নজর দেন। অন্যথায় স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে।

প্রত্যেক দেশের শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করা উচিত বল মনে করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মোঃ আবু তাহের। তিনি জানান, যেহেতু শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড,সে হিসেবে এই বাজেটকে আমি উচ্চাভিলাষী বলে মনে করি না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানের হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে বাজেট আরো বাড়ানো উচিত।

তাছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নতমানের ল্যাব না থাকার কারনে আমরা গবেষণাখাতে অনেক পিছিয়ে আছি তাই গবেষণাখাতে বেশি করে বিনিয়োগ করা উচিত। তাছাড়া বাজেট বরাদ্দ করার পাশাপাশি সেই বাজেট কে স্বচ্ছতার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা উচিত।

করোনার মতো এই মহামারী থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আসার পর তা সচল রাখার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, করোনা দেশের শিক্ষা, অর্থনীতি সহ সব খাতে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছে, সেখান থেকে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে তিন থেকে পাঁচ বছর লেগে যেতে পারে।তবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নিতে হবে এখনই।

দেশের সব স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমকে চলমান রাখতে শিক্ষা খাতের প্রতি অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বা নির্মান খাতের চেয়ে গবেষণা ও শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করা উচিত বলে মনে করি।দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষা ও উন্নত প্রযুক্তিসহ গবেষণামূলক কার্যক্রমের কোন বিকল্প নেই। তাই একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে মনে করি বাজেটের সর্বোচ্চ পরিমান শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে বিভিন্ন ফি কমিয়ে রাষ্ট্রকৃত অনুদান প্রয়োজন মনে করে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান জানান, শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। আর এই মেরুদণ্ড বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে দুর্বল হতে চলেছে।এমন পরিস্থিতিতে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গত বছরের চেয়ে বাজেট বেড়েছে মাত্র ৩৯৭ কোটি টাকা যা বাজেটের ১ শতাংশ। তা অবশ্যই নগণ্য।

মোট বাজেটের মধ্যে সিংহভাগ শিক্ষার্থীরাই বহন করে বিভিন্ন হল ফি,পরীক্ষা ফি, বিদ্যুৎ- পরিবহণ ফি,কেন্দ্র ফি'র মাধ্যমে।শিক্ষার্থীদের থেকে বাড়তি ফি কমিয়ে রাষ্ট্রের অনুদান বৃদ্ধি একান্তই প্রয়োজন।গবেষণার জন্য ল্যাব,কক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ আবাসিক সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি না করলে বৈশ্বিকভাবে পিছিয়ে পরবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ দিকে অর্থাভাবে শিক্ষার্থীরা গবেষণা করতে পারে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সেল গড়ে তুলতে হবে এবং যারা গবেষণা করতে চায় তাদের প্রয়োজন মত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিভিন্ন পত্রিকা থেকে জেনে থাকি অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের গবেষণায় ৫০/৭০ শতাংশ চুরি করা।তা অন্তত দুঃখজনক বিষয়। শিক্ষক থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মও গবেষণা চুরির সাথে সম্পর্কিত হচ্ছে।এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে এবং অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গবেষণায় মনযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ গবেষণা-ই একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের সার্বিকদিক বিবেচনা করে বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ অধিকতর স্বচ্ছতার সাথে সর্বোচ্চ সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমান বাড়ানোর উচিত ছিলো কর্তৃপক্ষের বলে মনে করছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার সুমনা। তিনি জানান, শিক্ষা বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত মিলেয়ে বরাদ্দ ১৫.১০ শতাংশ হলেও শিক্ষা খাত মূলত আগের ধারাতেই প্রবাহমান। নতুন এই বাজেট গবেষণা দ্বার উন্মোচনে কিছুটা ঘাটতি বলে মনে হয়েছে। বরাবরের ন্যায় শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা রয়েই গেল।

করোনা পরিস্থিতির পরবর্তী সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে খাতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটি হলো স্বাস্থ্য। এই অর্থ বছরের প্রস্তাবিত মোট বাজেটের ৭.২ শতাংশ অর্থাৎ ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ স্বাস্থ্য খাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরের তুলনায় তিন হাজার কোটি টাকার মতো বেশি। এরকম একটা কঠিন সময় থেকে উত্তরণের জন্য এবং দেশের অর্থনীতি কে সচল রাখার জন্য কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা জরুরী বলে মনে করি। সরকারের এক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধি বেশি বলে মনে হয় না। কৃষি খাতে বরাদ্দ ২.৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৮৯ শতাংশ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট বাজেটের ১৪.২১ শতাংশ।

বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এক খাতের মধ্যে অন্য খাতের প্রকল্প কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর চাপ রয়েছে সেসবে বাড়ানোও হয়েছে। এসবের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ তেমন না বাড়িয়েও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত বলা হয়েছে। শিক্ষা খাতে গত কয়েক বছরের মতো ১০-১২ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। সব থেকে আসল বিষয় সব খাতের বাজেট ঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হওয়া। পরিশেষে তিনি স্ব স্ব খাতের বাজেট স্বচ্ছতার সাথে যেন বাস্তবায়ন হয় এ বিষয়টি প্রশাসনকে গভীরভাবে নজর দেওয়ার কথা জানান।

সাধারন অর্থ বছরের মতো ২০২০-২১ অর্থবছরের মতো স্বাভাবিক মনে করছে না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান অলিন। তিনি জানান, সামনের বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরসের কারণে বর্তমানে সারা বিশ্বে জরুরী অবস্থা চলছে। কাজেই আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আসলে সামনে কি দিন আসবে এবং আমাদের কি করতে হবে প্রকৃত অর্থে।

শিক্ষাখাতে বাজেট অবশ্যই বাড়াতে হবে, বিশেষ করে গবেষণা খাতে। করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার জানামতে ৫ থেকে ৬ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নমুনা পরীক্ষা করছে, এর মধ্যে- ঢাবি, নোবিপ্রবি, চবি, যবিপ্রবি অন্যতম। আর বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করার সামর্থ্য থাকলেও বিভিন গবেষণামূলক যন্ত্রের কারনে তা হচ্ছে না।

তাই বাজেটের গবেষণা খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বাজেট পর্যাপ্ত না রাখলে শিক্ষাখাত আলোর মুখ দেখবে না। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

২০২০-২১ অর্থ বছরকে অন্যান্য অর্থ বছরের মতো এক পাল্লায় দেখছে না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার আঁখি। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব সুস্পষ্ট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ, উৎপাদন সবকিছু নিম্নমুখী। ফলে অনেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে, কর্মজীবীরা চাকরি হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বেকার বাড়ছে আর বাড়ছে দরিদ্র ও হতদরিদ্রের সংখ্যা।

এই মূহুর্তে মানুষের জীবন রক্ষা আর জীবিকা সংস্থান একটা সময়ের দাবি। প্রতিটি বাজেট শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সহ প্রতিটি মৌলিক অধিকার পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এটাই প্রত্যাশা। বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো বাংলাদেশও সংকটপূর্ণ অবস্থা বিদ্যমান। এই সংকট থেকে কিভাবে উত্তরণ ঘটানো যায় সেটাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করি।

তিনি আরো জানান, করোনা মহামারীর কারণে মার্চ ২০২০ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সবকিছু বিপর্যস্ত।বাংলাদেশ সরকার জাতীয় বাজেটের ১৫-২০ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। যদিও ২০২০-২১ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত বাজেট সেই অঙ্গীকারের আওতায় পড়ে নি।

তবে যেটুকু বাজেট শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা হয়েছে সেটার স্বচ্ছতার সাথে যথার্থ ব্যবহার আগে নিশ্চিত করতে হবে।এই বাজেট আমার উচ্চাভিলাষী মনে হয় নি। যেহেতু গবেষণা খাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অবদান আশানুরূপ নয় তাই এই খাতকে আশার আলো দেখাতে হলে যথার্থ বরাদ্দ এবং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা, ১২ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএস//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।