তর্কে যুক্তিতে চিন্তার মুক্তি


Published: 2019-10-25 22:28:30 BdST, Updated: 2019-11-16 05:41:35 BdST

শরীফুল ইসলাম জুনাইদ, চবিঃ আবহাওয়া বরাবরের মতোই উষ্ণ। অনেকের গা বেয়ে ঘাম ঝরছে তো অন্যরা চিন্তার সাগরে মত্ত হয়ে নতুন নতুন যুক্তিতে ধার দিচ্ছে। কেউ সরাসরি ঘায়েলে অভ্যস্ত আবার কেউ ঠান্ডা মাথায় ধরাশয়ী করতে পটু।

এভাবে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে নতুন নতুন চিন্তা, নতুন নতুন যুক্তি উন্মোচন করতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন চিটাগং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস) কর্তৃক আয়োজিত হয়েছিল "ডিএনসি-সিইউডিএস আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

"অন্তরের সীমানা বিস্তার যুক্তিযুদ্ধে সব্যসাচী চেতনায় অনির্বাণ"এই স্লোগান কে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্ট থেকে তাদের প্রতিনিধিরা তাদের যুক্তির ফোয়ারা নিয়ে প্রস্তুত ছিল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে।

দুইদিনের বিতর্কে এক ধর্মই পারে পৃথিবীর সংঘাত দূর করতে, সেলেব্রেটিদের শাস্তির মাত্রা বাড়ানো কমাতে পারে অপরাধ, খনিজ সম্পদের সার্বজনীনতা কমাতে পারে বৈশ্বিক দারিদ্র্য-এমন অসংখ্য বিষয়ে তুমুল যুক্তি উপস্থাপন করে বাংলা বিতর্কের চূড়ান্ত পর্বে উঠে ইংরেজি বিভাগ ও শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউট।

সমাপনী অধিবেশনে বাংলা বিতর্কে শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধানমন্ত্রী আরিফ শাহরিয়ার, মন্ত্রী পূজা রয় এবং এমপি শরীফুল ইসলাম জুনাইদ কে নিয়ে তাদের প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন।

অন্যদিকে বিরোধী দল ইংরেজি বিভাগের দলনেতা নূর হোসেন বিপ্লব, উপনেতা অনিক আহমেদ এবং এমপি রাজেশ বিশ্বাস কে সাথে নিয়ে প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান করেন।

তীব্র বিতর্ক এবং যুক্তিখন্ডনের মাধ্যমে বিরোধী দল প্রমাণ করতে সক্ষম হন আইনের প্রয়োগের চেয়ে সামাজিক সচেতনতাই পারে মাদক কে রুখে দিতে এবং স্পিকার কে প্রস্তাবনা বাতিল করতে বাধ্য করেন। শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরুষ্কার জিতে নেন বিরোধীদলীয় নেতা নূর হোসেন বিপ্লব।

অন্যদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারী বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের "রেদওয়ান জাকির অন্তু ও শাহরিয়ার চৌধুরি" এবং রানার্স আপ হয়েছে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের "মরিয়ম জাহান ও ওমর খসরু সৌরভ"। শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরুষ্কার জিতে নেই দর্শন বিভাগের ইনতিছার বিন ইসমাইল।

বিতর্ক শেষে 'জীবনকে ভালোবাসুন,মাদককে নয়' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মারিয়ম জাহানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ড. ফরিদ উদ্দীন আহমেদ, ডীন,সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,ড. এ এফ এম আওরঙ্গজেব,ডীন,ব্যবসায় প্রশাসন,
অনুষদ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ড. এম. সেকান্দার চৌধুরী,ডীন,কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, মোঃ মজিবুর রহমান পাটওয়ারী, অতিরিক্ত পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল, চট্টগ্রাম, এ. কে. এম শওকত ইসলাম,উপ-পরিচালক , মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চল, চট্টগ্রাম, ড. আদনান মান্নান,সহযোগী অধ্যাপক, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ সহ প্রমুখ।

বক্তারা বিতর্কের বিষয়ের সাথে মিলিয়ে বলেন, আমরা সকল সমস্যা নিয়ে বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানগুলো তুলে ধরবো। আজকে যারা বিতর্ক সাথে যুক্ত রয়েছে তারা আগামীদিনে দেশের হাল ধরবে। এই বিতার্কিকরা কখনো পরাজিত হয় না। বিতর্কে ভুল করার সুযোগ থাকে না।

যা তার ভবিষ্যতেও সফলতার জন্য সহযোগিতা করে। চবির ওয়েবসাইটে এই সিইউডিএসের কথা উল্লেখ রয়েছে। যা আমাদেরকে সারাবিশ্বের মাঝে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই চমৎকার মাধ্যমে যদি আজকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেনতা বৃদ্ধি করে দিতে পারি, তাহলে মাদকের উপর এই বিতর্ক একটি কার্যকরি প্রভাব ফেলবে।

সর্বশেষে সিইউডিএস এর সভাপতি হিমাদ্রি শেখর নাথ এই বিশাল আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।পাশাপাশি বলেন বিতর্কের মাধ্যমে প্রত্যেকটি ব্যাক্তি সচেতন হয়।এই সচেতনতার মাধ্যমেই একদিন আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে,এই সমাজকে,এই রাষ্ট্র কে মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হবো।

আর এভাবেই নব যুক্তির উন্মোচনের উদ্দীপনা আরো বাড়িয়ে শেষ হয় বিতর্ক উৎসব।

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।