চবি জাদুঘরে ছিল মুক্তিযুদ্ধের একখণ্ড প্রতিচ্ছবি


Published: 2019-12-20 00:48:00 BdST, Updated: 2020-04-06 14:10:50 BdST

শরীফুল ইসলাম জুনাইদ,চবিঃ ক্লাস শেষে প্রতিদিনের মতোই শাটল ট্রেন ধরার জন্য যাচ্ছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তিতলী। কিন্তু বন্ধুদের চাপে পড়ে আর নিজের কৌতুহল থেকে দেখতে আসে বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরে চলতে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ও চিত্র প্রদর্শনী।

প্রদর্শনী দেখে বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে যায় সে। নিজ ভূমি স্বাধীন হওয়ার যে সকল ইতিহাস এতদিন শুধু বইতে পড়েছে তা আজ চোখের সামনে। সব ইতিহাস যেন জীবন্ত মনে হচ্ছে।

 জাদুঘরের চিত্র প্রদর্শনী

 

তিতলীর মতো এমন অসংখ্য দর্শনার্থী এসে মুগ্ধ হয়েছিলো বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয়ের বীরগাঁথা এই প্রজন্মের কাছে নতুন ভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশের একমাত্র একাডেমিক জাদুঘর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত ৪ দিন ব্যাপি মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র ও চিত্র প্রদর্শনীতে। প্রতিদিনই সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক দর্শনার্থীর ভীড়ে মুখোরিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর।

গত সোমবার সকাল ৯টায় এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চবি ভিসি প্রফেসর ড. শিরীন আখতার।

প্রদর্শনীতে ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মার্কিন সিনেটর ও বিভিন্ন বিশিষ্ট জনের বক্তব্যের দলিল, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সরকার কতৃক প্রকাশিত প্রকাশনা সমূহ- বাংলাদেশ শোষণের চিত্র, জয় আমাদের কব্জায়, শত শোষণেও বাংলাদেশ স্বর্ণ প্রসবিনী’, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশি-বিদেশী পত্রিকার শিরোনাম, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিভিন্ন বিশিষ্ট লেখকের কলাম।

 জাদুঘরের চিত্র প্রদর্শনী

 

এছাড়াও প্রদর্শনীতে আরো স্থান পেয়েছিল মুক্তি যুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রকাশনা- সংগ্রামী অভিনন্দন, ডেড লাইন বাংলাদেশ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাষণের পাণ্ডুলিপি, স্বাধীন বাংলা বেতারের দলিলপত্র, মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর সৈনিকদের তালিকা,পাকিস্তানি হানাদারদের তান্ডবের চিত্র,তখনকার মানুষের অবস্থার চিত্র,মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের চিত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের সংরক্ষিত আলোকচিত্র।

প্রদর্শনী দেখে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষা বিভাগের ছাত্র রাহাত আল জুবায়ের বলেন এতোদিন শুধু লোকমুখে বা বইতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়েছি বা দেখেছি। কিন্তু চোখের সামনে এসব প্রমাণাদি এই প্রথম। এই প্রদর্শনী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালনে সাহায্য করবে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আশিক আহম্মেদ বলেন একটা গবেষণার জন্য এসব ইতিহাস খুবই দরকার ছিল। এই প্রদর্শনীতে সব পেয়েছি।মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে বুঝতে পেরেছি।

 জাদুঘরের চিত্র প্রদর্শনী

 

ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধা আফতাব আহম্মেদ। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ছেলেকে নিয়ে দেখতে আসেন মুক্তিযুদ্ধের দলিল-প্রমাণ। তিনি বলেন যুদ্ধের সময়ের প্রত্যেকটি মূহুর্ত মনে পড়ে যাচ্ছে।অনেকদিন পরে আবার অতীতে ফিরে গিয়েছি। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের মাহাত্ম্য, মুক্তিযুদ্ধের আহবান আরো বাড়িয়ে নিতে এই প্রদর্শনীগুলো সহায়ক মাধ্যম হিসাবে কাজ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের সেকশন অফিসার আবদুস শুকুর বলেন মুক্তিযুদ্ধের মূহুর্তগুলো আরো ভালোভাবে বর্তমান প্রজন্ম যেন ধারণ করতে পারে তাই আমাদের এই উদ্যোগ।এখানে ছিল প্রায় দুই শতাধিক দলিলপত্র, প্রকাশনা, মুক্তিযুদ্ধকালীন বহিঃবিশ্বের সিনেটরদের বক্তব্যের দলিল।

সঙ্গে ছিল যুদ্ধের সময়ের আরো শতাধিক স্থির চিত্র। এগুলো দেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গবেষণায় শিক্ষার্থীরা আরো বেশি আগ্রহী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।