গোপালগঞ্জে এগিয়ে যাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আন্দোলন


Published: 2020-03-21 19:01:31 BdST, Updated: 2020-07-07 05:47:07 BdST

আর এস মাহমুদ হাসানঃ ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত বেসরকারি সংস্থা কনসাস কনজুমার সোসাইটি (সিসিএস) এর যুব শাখা কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি)। মূলত এ সংস্থাটি সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে থাকে। সিসিএস বিগত বছর গুলোতে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিওয়াইবির কার্যক্রম শুরু করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় সিওয়াইবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) যাত্রা শুরু করে আহবায়ক তারিক লিটুর হাত ধরে, ২০ মার্চ ২০১৭ সালে।

বশেমুরবিপ্রবিতে সিওয়াইবি ৩ বছর পার করেছে, যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই সংগঠনটির কর্মীরা সবসময় নিজেদেরকে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সক্রিয় রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, ঘোনাপাড়া, গোপালগঞ্জ শহর সহ আশেপাশের এলাকায় যেন কোনভাবে ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয় সে ব্যাপারে সদা তৎপর রয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া সিওয়াইবির কর্মীরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সিসিএস এর সহায়তায় সিওয়াইবি বশেমুরবিপ্রবিতে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলের ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী ও হোটেল মালিকদের অংশগ্রহণে আয়োজন করে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক কর্মশালা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে ও ভোক্তা অধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ক্যারিয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য সিওয়াইবি আয়োজন করে কনজ্যুমার রাইটস এবং ক্যারিয়ার ফেষ্টিভেল ২০২০। যেটি ছিল এখনো পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সর্ববৃহৎ কর্মশালা।

এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঢাকা অঞ্চল এর উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। উপস্থিত ছিলেন কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটি ও কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ এর কার্যকরী পরিচালক পলাশ মাহমুদ, গোপালগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর সহকারী পরিচালক শামীম হাসান ও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ এর গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালকবৃন্দ।

নিয়মিত খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে ও ভোক্তা অধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে থাকে সংগঠনটির সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোতে পরিদর্শনে বের হওয়ার সময় প্রতিদিনই উপস্থিত থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিওয়াইবির উপদেষ্টা হিসেবে থাকা শিক্ষকরা। হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করে থাকে সিওয়াইবি বশেমুরবিপ্রবি শাখা।
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলেন, ভোক্তা অধিকার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রেস্টুরেন্টে জরিমানা হয় এমন অনেক কিছুই অজানা ছিল, যা আমরা সিওয়াইবি থেকে জানতে পেরেছি।

প্রতিবার স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলো ভর্তিচ্ছুদের কাছে থেকে খাবারের দাম বেশি রাখছে কিনা সিওয়াইবির কর্মীরা তার সঠিক তদারকি ও ট্রাফিক কন্ট্রোলে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

সিওয়াইবি বশেমুরবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক বিভাষ বাইন বলেন,"বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সচেতনতা সৃষ্টিতে সিওয়াইবি ক্যাম্পাসে কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংলগ্ন রেস্টুরেস্ট ও ভ্রাম্যমান দোকান গুলোতে সিওয়াইবি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে রেস্টুরেস্ট ও দোকান মালিকদের সচেতনার জন্য সিওয়াইবি প্রচারণা চালিয়েছে যাতে করে ভোক্তারা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেতে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকে। আমরা তাদের কে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং রেস্টুরেস্ট পরিবেশ যাতে জীবনুমত মুক্ত থাকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছি"।

ফরিদপুর অঞ্চলের সম্নয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তারিক লিটু জানান, "ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষার জন্য আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ঘোনাপাড়া, গোপালগঞ্জ শহরের রেস্টুরেন্টে গুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকি। দোকানের মালিক, ছাত্রদের নিয়ে আমরা বসেছি, কিভাবে খাবারের দাম কমানো যায় সেটা নিয়ে কাজ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন প্রতিটি দোকানে আমরা খাবারের মূল্য তালিকা নির্ধারন করে দিয়েছি। সম্প্রতি আমরা গোপালগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সহকারী পরিচালক শামিম হাসানের নেতৃত্বে কয়েকটা দোকানে অভিযান চালিয়ে ছয়টি দোকানিকে সাড়ে এগারো হাজার টাকা জরিমানা করেছি। ভবিষ্যতে সিওয়াইবির এরকম কার্যক্রম চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি"।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান সিওয়াইবির কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে, ভবিষ্যতে এরকম কার্যক্রম চলতে থাকবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, "আমি চাই হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোর পাশাপাশি সিওয়াইবির মাধ্যমে হলগুলোতেও খাবারের আদর্শ মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হোক"।

উপদেষ্টা আরিফ হুসাইন বলেন, "আমরা ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে খাদ্য পরিবেশনকারী হোটেলগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে পরিদর্শন করে থাকি । খাদ্যের মান, খাদ্য মূল্য ও পরিবেশ নিয়ে দোকানদারদের সবসময়ই সচেতন করে আসছি। সিওয়াইবির পক্ষ থেকে আমরা প্রতিটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবারের নিদিষ্ট মূল্য তালিকা তৈরি করে দিয়েছি"।

লেখক: আর এস মাহমুদ হাসান
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ।

ঢাকা, ২১ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।