বসন্ত শেষে বনজুঁই!


Published: 2020-04-01 20:36:46 BdST, Updated: 2020-06-06 23:54:16 BdST

আজাহার ইসলামঃ বনফুলের প্রতি আকুতি প্রকাশ করে কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘যেথা যত ফুল আছে বনে বনে ফুটে, আমার পরশ পেলে খুশি হয়ে ওঠে।’ কবিগুরু ছাড়াও অনেক কবি প্রেমে পড়েছিলেন নানা প্রজাতির বনফুলের। গ্রামাঞ্চলে মাঠে-ঘাটে, পথে প্রান্তরে প্রায়শই দেখা যায় নাম না জানা নানা প্রজাতির বনফুল। আজ বর্ণনা করবো তেমনি একটি বনফুলের যার নাম ‘বনজুঁই’ ফুল। বসন্তে থোকায় থোকায় থোকায় ফুটে থাকে এই সবুজ বহুপত্রী ফুল। যা সাড়া জাগায় ফুলপ্রেমিদের মনে।

অযত্নে অবহেলায় অনেক প্রতিকুলতার মধ্যে প্রকৃতিতে বেড়ে উঠা এক গুল্ম জাতিয় পেরিনিয়াল উদ্ভিদ বনজুঁই। ‘বনজুই’ নামটি সকলের কাছে খুববেশি পরিচিত নয়। এই ফুল ভাটফুল, ভাটিফুল, ঘেঁটুফুল বা ঘন্টাকর্ণ নামেই অধিক পরিচিত। বনজুঁইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম ক্লেরোডেন-ড্রাম-ইনারমি। ইনফরচুনাটাম প্রজাতির ফুল এটি। প্রায় ৪০০ প্রজাতির বনজুঁই আছে যাদের আদিনিবাস এশিয়া মহাদেশের বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায়। এটি মূলত বুনো ফুল। যা বসন্তকালে পথে প্রান্তরে ফুটে থাকে। গ্রামাঞ্চলে ঝোপ-ঝাড়ে, বনে-জঙ্গলে ও রাস্তার ধারে নিজের সৌন্দর্য মেলে ধরে এই ফুল। বিশেষ করে পতিত ভুমি, জঙ্গলের কিনারা, বড় রাস্তার কিনারা এদের আবাসস্থল। এই ফুলের মন মানাতো সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবেন আপনিও। এর মিষ্টি গন্ধ আপনাকে মাতাল করে তুলবে।

ফুলটি নানা কারুকার্জে ভরা। পুংকেশর,পাপড়ি, পাতা ও কান্ডকে প্রকৃতি নিখুঁত ভাবে সাজিয়েছে এই ফুলের। ফুলের মাঝখানের পুংকেশরই এই ফুলের প্রধান সৌন্দর্য বহন করে। এর মনমুগ্ধকর সৌরভে প্রজাপতি আর মৌমাছির আনাগোনা লক্ষণীয়। ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ার পর লালচে বৃতির মাঝখানে সবুজ ও বেগুনী বীজ দেখতে একেবারে নাকফুলের মত। মনে হয় যেন কারুকাজ খচিত লালচে পাথরের মাঝে সবুজ অথবা গাঢ় বেগুনী চকচকে এক ডায়মন্ড খন্ড বসিয়ে রেখেছে।

এই বনজুঁইয়ের সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়াও নানা গুণে গুণান্বিত। এই উদ্ভিদ ভেষজ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ম্যালেরিয়া, চর্মরোগ ও পোকা-মাকড়ের কামড়ে খুবই উপকারী। এই উদ্ভিদের কচি পাতার রস টনিক হিসেবে কাজ করে। পাতায় প্রাপ্ত ক্যামিকেল কৃমিনাশক, জ্বর উপশমকারি ও এক্সপেকটোরেন্ট হিসেবেও কাজ করে। মূল থেকে প্রাপ্ত ক্যামিকেল এজমা, টিউমার ও চর্মরোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ইমপোটেন্সি বা যৌনদুর্বলতায় মুলের উঞ্চ রস চমকপ্রদ ফলপ্রসু।

১৭৫৩ সালে কার্ল লিনিয়াস তাঁর স্পেসিস পান্টেরাম নামক গ্রন্থে এই উদ্ভিদেও নাম উল্লেখ করেন ‘জেনাস’ নামে। যার অর্থ ‘ভাগ্য উদ্ভিদ’। এদের বৃতি সাদার পরিবর্তে প্রথমে সবুজ ও পরে পরিপক্ক অবস্থায় লালচে রং ধারন করে। এই লালচে রঙের কারনেই এদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে ফুলের বৃতিতে যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তার জন্য পলিনেটর আকৃষ্ট হয় ও পরাগায়ন ঘটায়, কারো কারো মতে এজন্যই কার্ল লিনিয়াস এরকম নামকরন করেন।

লেখকঃ আজাহার ইসলাম
শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ঢাকা, ০১ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।