এক দশকে পবিপ্রবির রংধনু


Published: 2020-04-15 05:53:30 BdST, Updated: 2020-06-06 23:05:40 BdST

করোনা পরিস্থতিতে দেশে কোথাও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়নি। পহেলা বৈশাখ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রঙধনুর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সংগঠনটির এক দশক পুর্তি উপলক্ষ্যে লিখেছেন উক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ডাঃ মো মুস্তাফিজুর রহমান পাপ্পু।

"রঙধনুর সাত রঙে, রাঙিয়ে দেব সর্বজনে" এই স্লোগান কে ধারন করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, রঙধনু। ১ লা বৈশাখ ১৪১৭ বঙ্গাব্দ ( ২০১০ সালের ১৪ ই এপ্রিল ইং) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রির পড়াশোনাতে এমনিতেই চাপ ছিলো। তারপরেও ক্যাম্পাসে যেদিন প্রথম পা দেই, সে দিন থেকেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন করার ইচ্ছা ছিলো। ভাবতাম এমন একটি সংগঠন হবে যে সংগঠন ক্যাম্পাস ও এর পার্শ্ববর্তী মানুষের বিভিন্ন সহযোগিতা করবে। সেই চিন্তা থেকেই এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাচের বন্ধুদের সাথে আলোচনা করি।

তখন আমরা এনেক্সে (গনরুম ছিলো, এখন যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভেটেরিনারি ক্লিনিক) থাকতাম, এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে বন্ধু রিয়াজ, জয়ন্ত, মহসিন, এহসান, ইমরান, বিলাস, রুবেল, শশী, ইউসুফ, শহীদ সহ অন্যদের সাথে আলোচনা করি। এর পর ব্যাচের সবাইকে নিয়ে রাত্রে মিটিং করি। নাম নির্ধারন নিয়ে বাধে ঝামেলা। কি নাম হবে?এই চিন্তা করি। হটাত করে সৌরভ প্রস্তাব দেয়, নাম হবে রঙধনু। রঙধনুর সাত রঙ। উপস্থিত সকলের ভালো লেগে গেলো। ব্যাস হয়ে গেল নামকরণ।

তাহলে আনুষ্ঠানিক যাত্রা হবে ১ লা বৈশাখে এই সিদ্ধান্ত নিলাম। ব্যাচের বান্ধবীদের সাথে আলোচনা করলাম। ওরাও সমর্থন দিলো ( বরাবরই আমাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ওরা ১২ জন) । নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা দিয়ে শুরু হলো আয়োজন। ১৩ এপ্রিল আমরা সারারাত জেগে ইলিশ মাছ ভাজি, পান্তা ভাতের আয়োজন, পিঠা পুলি তৈরি, একটা স্টল তৈরি করি। ব্যাচের সকলেই সমানভাবে অংশগ্রহন করেছিল।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা

 

আমাদের কয়েকজন ত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছিলাম। সবাই গেঞ্জি বানিয়েছিলাম, মেয়েরা পড়েছিল বৈশাখী শাড়ি। স্যারদের দাওয়াত করেছিলাম আমাদের রঙধনুর স্টলে। অন্যরকম একটা মজা ছিলো। যেহেতু আমরাই ছিলাম মোস্ট জুনিয়র তাই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ব্যাচের বড় ভাই, বোনদের দাওয়াত দিয়েছিলাম। অনেকেই এসেছিলেন। স্টলের সামনে হারমোনিয়াম নিয়ে দোলা, জয়ন্ত দের সাথে গলা মিলিয়ে গান ও হয়েছিলো বেশ। সব মিলিয়ে দুপুর পর্যন্ত ভালোই জমলো। স্টলে আগত অতিথিরা পান্তা ইলিশ, পিঠা পুলি খেয়ে খুশি হয়ে আমাদের কে ও উপহার দিয়েছিলো।

ক্যাম্পাসের শিক্ষক আর বড় ভাই দের নিকট থেকে উপঢৌকন নেওয়ার দায়িত্ব বরাবরই মুর্শিদা, সালমা, নিজয়া, নন্দিনী, তিথিরাই করতো। বলা চলে এখানে একটু রাজনীতি করা হত। বান্ধবীদের সামনে কেউ সালামী না দিয়ে স্টল থেকে বের হতে পারত না। সব অতিথিরা চলে গেলে তারপর আমরা খাইতাম। এটা অন্য এক ধরনের মজা ছিলো। বিকালে ব্যাচের সবাইকে নিয়ে বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যান, প্লানেট পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ৩০ গোডাউন কিংবা কীর্তনখোলার পাড়ে চলে যেতাম। ঘুরাঘুড়ি শেষে আবার ক্যাম্পাসে। এভাবে ক্যাম্পাসজীবনে ৫ টি বৈশাখ কেটেছে । নতুন নেতৃত্ব এসেছে এখন।

জাতীয় দিবস সহ বিভিন্ন দিবস উদযাপন, শীতকালে অসহায় মানুষদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষ রোপণ অভিযান, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামুল্যে গাছের চারা বিতরন, রক্ত দান, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন, নবীন বরন, প্রবীণ বিদায়, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন চরে নৌ বিহার আয়োজন ছিলো নিয়মিত কাজ। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কেহ যখন রক্তের জন্য ফোন দিত, তখন এটাই শান্তি ছিলো যে মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি। দেখতে দেখতে ক্যাম্পাস জীবন শেষ করে এখন চাকরি জীবনে পদার্পন করেছি। রঙধনুর আজ নতুন সারথী এসেছে। দেখতে দেখতে সেই প্রানের সংগঠনটি আজ এক দশক পার করে ফেললো। যুগ যুগ ধরে নিজের সতন্ত্রতা ধরে রেখে এগিয়ে যাবে রঙধনু। আজকের দিনে এতাই হোক প্রত্যাশা। শুভ জন্মদিন রঙধনু।

লেখকঃ ডাঃ মো মুসাতফিজুর রহমান (পাপ্পু)
প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি, রঙধনু
পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।