প্রচন্ড ইচ্ছে হয় ক্যাম্পাসে ফেরার


Published: 2020-11-01 17:36:12 BdST, Updated: 2021-01-27 16:03:40 BdST

ফরহাদ আলমঃ প্রতিটি ছুটি-ই অনেক আনন্দের। কিন্তু এবারের দীর্ঘকালীন ছুটি যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলে এসেছে একঘেয়েমি ভাব। আর ইচ্ছে হয় না ঘরের এক কোনায় থাকতে। তাই মন বারবার বলতেছে কবে ফিরবো প্রাণের ক্যাম্পাসে ।

সেই মার্চ মাসের ১৬ তারিখ! হঠাৎ ক্লাস থেকে ফেরার সময় নোটিশ পেলাম ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়টি। এবার কিন্তু পূর্বের ন্যায় আনন্দের সহিত হলে ফিরে জামা কাপড় গুছিয়ে নিলাম না। নেই টিকিট সংগ্রহের চিন্তা।

তারপরেও মনে মনে অনেক আনন্দিত কারণ- অনেকদিন পর আর একঘেয়েমি পড়ালেখা করতে হবে না, ঘুম থেকে উঠে অগোছালো মাথার চুল এবং শার্টের বোতাম লাগানোর সময় না পাওয়া ছাত্রকে আর ক্লাসে যেতে হবে না, তাড়াহুড়া করে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ল্যাব ক্লাসের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবেনা, পরীক্ষার কথা শুনে রাত জেগে পড়তে হবে না। প্রয়োজন নেই অ্যাসাইনমেন্ট লেখার। এ যেন পৈশাচিক আনন্দ।

যাদের বাড়ি কাছে তারা রাতারাতি বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে। কেউ পরের দিন। কেউ টিকিট কাটা নিয়ে ব্যস্ত কেউবা আবার কাপড়-চোপড় গোছাতে ব্যস্ত। আমার কোনো ব্যস্ততা নেই। নেই কোন তাড়াহুড়া। কারণ এবার বাড়িতে যাওয়ার চিন্তা আমার নেই।

ভাবতেও অবাক লাগে! অতঃপর ১৯ মার্চ পুরো ক্যাম্পাস যেন সুনশান। কোথাও নেই আড্ডা। খেলোয়ার শূন্য খেলার মাঠ টি পড়ে আছে প্রাণহীন অবস্থায়। প্রেম পুকুরে নেই প্রেমিক-প্রেমিকার আড্ডা। দেখা যায় না শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়া এবং হলে ফেরার দৃশ্য। পারভেজ মার্কেটে নেই কোন কোলাহল। বন্ধ ডাইনিং এবং ক্যান্টিন।

শুধু ক্যাম্পাসের ভেতরেই নয়, পাকা মার্কেট, কলেজ গেইট, বউবাজার যেন জনশূন্য। পরিণত হয়েছে প্রাণহীন নগরীতে। কোথাও কেউ নেই। মনে হয় কোন অদৃশ্য শক্তি আকস্মিকভাবে তাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিটি দোকানে ঝুলছে তালা, দেখা যায় না যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস, সিএনজি, নেই কোন রিক্সা। এ যেন নিষ্প্রাণ নগরীতে পরিণত হয়েছে।

সারাদিন ঘোরাঘুরি এবং সন্ধ্যায় টিউশনি থেকে ফিরে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা স্মরণ করে অনেক কিছুই চিন্তা করলাম। মনের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চঞ্চলতা। যারা বলছিল হলে থাকবে তারাও একেক করে চলে যাচ্ছে। এদিকে আব্বু ফোন দেয় বাড়িতে আসার জন্য। অতঃপর সবকিছু চিন্তা ভাবনা করে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং ট্রেনের টিকিট কাটলাম।সাথে দু-একটি বই এবং কিছু জামা কাপড় গুছিয়ে নিলাম।

ঢাকা থেকে দিনাজপুর প্রায় ১১ ঘন্টার ভ্রমণ। এবারের ভ্রমণ অতীতের ভ্রমণের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন কারণ- খুব সতর্কতার সাথে মুখে মাস্ক পড়তে হয়, কোথাও কোন জিনিস স্পর্শ করার পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয়, বিষয়টি অত্যন্ত আশ্চর্যের। যেখানে সর্বদা কোলাহল পূর্ণ থাকতো, সেখানে নেই কোন জনসমাবেশ। ফাঁকা পড়ে আছে রেল স্টেশনটি। এ যেন নতুন অভিজ্ঞতা।

বাড়িতে বসে লকডাউনের সময়টি ভালোই কাটছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে লাগলো। করোনা ভাইরাস যেন আতঙ্কের আরেক নাম। মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার জ্যামিতিক হারে বাড়তে শুরু করলো। এভাবে দেখতে দেখতে প্রায় সাতটি মাস অতিক্রম হয়ে গেল। যখন থাকার কথা ছিল প্রিয় ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিন্তু এখন শুধুই একা।

ঘুম নষ্ট করে এসাইনমেন্ট লেখার, অথচ এখন ঘুমের জন্য প্রচুর সময়। কথা ছিল বিকেলবেলা কেন্দ্রীয় মাঠে ফুটবল খেলার কিন্তু এখন শূন্য মাঠ পড়ে আছে নেই কোন খেলোয়াড়। কথা ছিল তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে যাওয়ার অথচ এখন আর ঘুম থেকে উঠার তাড়া নেই।

আশার আলো জ্বালিয়ে অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে অতিশীঘ্রই নবাব সিরাজ- উদ-দৌলা হলের দশ তলা ভবনের ছাদে ভোরের আলোয় দেখা মিলবে প্রিয় ক্যাম্পাসে। সেই চিরচেনা ক্যাম্পাস আবারো ফিরে পাবে সজীবতা। মুখরিত হবে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গা ছাত্রটিকে ঘুম ঘুম চোখে নাস্তা না করে রাগান্বিত মুখে রাস্তার ধার বেয়ে হাটবে ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।

লেখক:
ফরহাদ আলম
কৃষি অর্থনীতি বিভাগ,
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ০১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।