শহীদ আসাদ দিবস আজ


Published: 2021-01-20 13:54:41 BdST, Updated: 2021-03-05 21:55:48 BdST

রিদুয়ান ইসলামঃ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। ঊনসত্তরের এই দিনে নরসিংদীর এক তরুন লাফিয়ে উঠেছিল মিছিলের নেশায়। মা মতিজান খাদিজা অন্য সব মায়েদের মতই বাঁধা দিয়েছিলেন নিজের ছেলেকে। মায়ের বাঁধাকে অগ্রাহ্য করে সে বেরিয়ে যায় অনিরূদ্ধ অভিলাষ কাঁধে নিয়ে। তার কয়েক ঘণ্টা পরই মায়ের কোলে ফিয়ে আসে লাশ হয়ে।

হ্যাঁ, বলছিলাম গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম স্থপতি শহীদ আসাদের কথা। ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ূব খান সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশি গুলিতে শহীদ হন আসাদুজ্জামান।

আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিন দিনের শোক পালন শেষে, একই বছরের ২৪ই জানুয়ারি আওয়ামী লিগের ৬ দফা ও ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সর্বস্তরের জনগণের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার নেমেছিল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রাজপথে।

সংগঠিত হয় ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ূব খানের৷ তারপর আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচের ঘোষণা দেন। সত্তর সালের সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পায়। কিন্তু ক্ষমতাসীন ইয়াহিয়া খান পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। ক্ষমতা ছাড়তে শুরু করে দেয় নানা ধরনের টাল বাহানা। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছিল একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধ।

পূর্ব ঘোষিত কর্মপ্রণালী প্রণয়ন করার জন্যে ১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি দুপুরের দিকে তার সহযোগী ও ছাত্রদের নিয়ে ঢাক মেডিকেল কলেজের পার্শ্বে চাঁন খার পুলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন আসাদুজ্জামান। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে চাঁন খা ব্রিজের উপর বাঁধা দেয় এবং চলে যাওয়ার জন্য বলে৷

কিন্তু বিক্ষোভকারী ছাত্রজনতা সেখানে একঘন্টা অবস্থান করে এবং স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে৷ ঠিক তখনই এক পুলিশ আসাদকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং আসাদ আহত হয়। পরে তাকে মেডিকেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে৷

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রজনতা বন্যার স্রোতের মতো ছুটে আসতে থাকে মেডিকেল কলেজের দিকে। শহীদ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ পর বেলা আড়াইটার দিকে আরম্ভ হয় আসাদের শোক সভা।

লেখক: রিদুয়ান ইসলাম

 

শহীদ আসাদের স্মৃতি বিজড়িত রাখার জন্য বিভিন্ন জায়গায় স্থাপত্য রয়েছে। ধানমন্ডিতে আসাদ গেট, হাতিরদিয়া বাজারে শহীদ মিনার, নিজ উপজেলায় তার নামে একটি সরকারি কলেজ ইত্যাদি।

উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, রাজপথে জনতার আসাদের রক্তাক্ত শার্ট নিয়ে তাৎক্ষণিক মিছিল দেখে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবি শামসুর রাহমান অনুভূতির প্রাবল্যে তার অমর কবিতা 'আসাদের শার্ট ' লিখেন। এছাড়াও বাংলাদেশের অন্যতম কবি হেলাল হাফিজ ক্রোধান্বিত হয়ে ও মনস্তাপ হয়ে তার কালজয়ী 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' কবিতাটি লিখেন৷

২০১৮ সালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য শহীদ আসাদকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।

শহীদ আসাদের প্রতি বাঙালি জাতি চির ঋণী। এই শহীদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা। তিনি প্রতিটি বাঙালির হৃদয় মাঝে থাকবেন সবসময়। শহীদ আসাদকে নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া দরকার তা না হলেও অন্তত তাঁর শাহাদাত বার্ষিকীতে আমরা প্রতিবছর তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। এটাই প্রত্যাশা।

লেখক:
রিদুয়ান ইসলাম
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।