যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে হার্ভার্ড-এমআইটি


Published: 2020-07-09 12:25:45 BdST, Updated: 2020-08-04 12:01:50 BdST

লাইভ ডেস্কঃ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় গত ৬ জুলাই একটি ঘোষণা দেয় মার্কিন প্রশাসন। এতে বলা হয়, যেসব প্রবাসী শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পাবে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। অন্যথায় তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠানো হবে। এতে দেশটিতে লেখাপড়া করতে যাওয়া প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী বিপাকে পড়ে।

তেব ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছে দেশটির বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি এ খবরে এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জারিকৃত নির্দেশনা বাতিল চেয়েছে হার্ভার্ড ও এমআইটি। বুধবার (৮ জুলাই) বোস্টনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে দুই প্রতিষ্ঠান।

মামলায় প্রতিষ্ঠান দু’টি অভিযোগ করেছে, ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের জারিকৃত নির্দেশনায় প্রশাসনিক কার্যবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যৌক্তিকতা দেখাতে পারেননি এবং এর যথার্থতাও উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এ বিষয়ে বুধবার একটি বিবৃতি দিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান লরেন্স ব্যাকো। সেখানে তিনি বলেন, বিনা নোটিশে নির্দেশনাটি এসেছে। এটা কেবল ‘নিষ্ঠুরতা’ নয়, ‘অদূরদর্শিতা’ও। এটাই প্রতীয়মান হয় যে, শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক ও অন্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কোনো বিবেচনা ছাড়াই ওই নির্দেশনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ক্যাম্পাস চালু করে শরৎকালীন সেমিস্টারের ক্লাস নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

এর আগে গত সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেন, অনলাইনে ক্লাস হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের। নতুন আবেদনকারীদেরও কোনো ভিসা দেয়া হবে না। মার্কিন ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তবে অনলাইনে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। করোনা মহামারিতে শিক্ষাদান পদ্ধতি কী হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। সোমবার মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, অনলাইনেই যদি ক্লাস হয়, তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। এ নির্দেশনার আওতায় নতুন আবেদনকারীদেরও ভিসা দেয়া হবে না। আর এর ব্যত্যয় ঘটলে নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

এমন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডেকোটার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মারিয়া জামান বলেন, এখানে অনেক আন্ডার গ্রাজুয়েটস স্টুডেন্ট, মাস্টার্স স্টুডেন্টস আছে। ভিনদেশি হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে গবেষণা (রিসার্চ) করেন। এই সিদ্ধান্তে সব বন্ধ হয়ে যাবে।

ফল সেমিস্টারে পাঠদান প্রক্রিয়া কেমন হবে তা নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিছু প্রতিষ্ঠান সরাসরি ও অনলাইন দুই পদ্ধতিতেই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তাদের সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম অনলাইনে হলেও ৪০ ভাগ স্নাতক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে।

মারিয়া জামান জানান, যারা হাইব্রিড তাদের স্ট্যাটাস লিগ্যাল হবে। তখন তাদের যুক্তরাষ্ট্র তাড়াতে পারবে না। আমরা প্রথমে সরাসরি ক্লাস করেছি। এরপর করোনায় নতুন এই পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা অনলাইনে কোর্স শিফট করেছি।

ঢাকা, ০৯ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।