শোভন-রাব্বানী : ছেলে দুটোকে আমি বেশ পছন্দ করি


Published: 2019-09-21 12:06:40 BdST, Updated: 2019-10-20 22:22:33 BdST

আমিনুল ইসলাম : আমি এই জীবনে কখনো রাজনীতি করিনি। কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তও নই। তবে আমি রাজনীতি সচেতন মানুষ। আমি মনে করি দেশ ও সমাজ নিয়ে চিন্তা করা, অভিমত ব্যক্ত করা আমার দায়িত্বে'র মাঝে পড়ে। সেই দায় থেকেই লেখালেখি করি। রাজনীতি না করলেও প্রতিটা মানুষের ব্যক্তিগত ভালোলাগার ব্যাপার থাকতে পারে। পছন্দের জায়গা থাকতে পারে। সেই ভালো লাগার জায়গা থেকেই বলতে হচ্ছে- আমি ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীকে বেশ পছন্দ করি।

এখন আপনারা বলতেই পারেন- যারা এতসব দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল; যাদেরকে নিজ দলের মানুষই শেষমেশ অপসারণ করেছে; আপনি কি করে তাদের পছন্দ করেন?

হ্যাঁ, এরপরও আমি ওদের পছন্দ করি। আমার এই পছন্দ স্রেফ আমার ব্যক্তিগত ভালো লাগার জায়গা থেকে। যেহেতু ওদের সঙ্গে আমার কোন লেনদেন ছিল না, ছিল না কোন স্বার্থের ব্যাপার। ছিল না রাজনৈতিক কোন আলোচনা কিংবা ফায়দা। যেহেতু আমি এর কোন কিছুর সঙ্গেই জড়িত নই, সুতরাং আমার ব্যক্তিগত ভালো লাগার জায়গাটুকু ওদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই শোভন আর রাব্বানীতো অনেক ছেলেপেলেকে নেতা বানিয়েছে। এইসব নেতা কি এখন বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে- আমরা ওদের পছন্দ করি? না, কেউ কিছু বলছে না। সবাই চুপ করে আছে। খুব স্বাভাবিক, সবাই নিজের স্বার্থ চিন্তা করছে। আমার যেহেতু কোন স্বার্থ নেই; তাই আমি ওদের ভালো লাগাটুকু খোলা ময়দানে বলে দিতে পারছি।

ছাত্রলীগের নামে যত অভিযোগ আছে, সেগুলো যদি নাম ধরে তালিকা করতে হয়, তাহলে উপন্যাস লিখতে হবে। এবং এসকল অভিযোগের দায় শোভন, রাব্বানীর উপরই বর্তায়।
এরপরও আমি ওদের পছন্দ করি। কারণ, ওই যে বললাম- ব্যক্তিগত ভালো লাগার জায়গা।

এই ছেলে দুটোতো চমৎকার ছিল। এরা গল্প- উপন্যাস পড়তো, চমৎকার করে লিখতে পারত, ছাত্র হিসেবেও ভালো'ই ছিল, শিল্প-সাহিত্য চর্চা করতো। সত্যি বলতে কি, এই যুগে ওদের বয়েসি ছেলেপেলেরাতো এই সবের কিছুই করে না। এরা ভিডিও গেমস খেলে, গ্যাং কালচারে অভ্যস্ত থাকে, ভিডিও বানিয়ে মানুষজনকে "রোস্ট" করে! সোজা কোথায় ইয়ো ইয়ো টাইপ!

তো, এই দুটো ছেলে তো বেশ চমৎকার ছিল। এরা এতোটা খারাপ হয়ে গেল কেন? আপনারা যারা বড় বড় নেতা আছেন, আপনাদের মিছিল মিটিং এ মানুষ লাগবে? যাও ছাত্রলীগের কাছে। অমুকের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না? খবর দেও ছাত্রলীগকে! কোথাও আন্দোলন হচ্ছে; থামাতে হবে? এক্ষুনি খবর দেও ছাত্রলীগকে! কোথাও টেন্ডার নিতে হবে? সোজা ছাত্রলীগের কাছে যাও!

আপনারা যারা বড় বড় নেতা আছেন; তারা তো দিনে রাতে এদের ব্যাবহার করেছেন। এই চমৎকার ছেলে গুলোকেতো আপনারাই খারাপ বানিয়েছেন। এটা তো গেল রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের কথা। এই যে এখন কথা হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি ছাত্রলীগ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইত্যাদি। তো, ছাত্রলীগ কী একা একা খাচ্ছিল? আপনারা যারা বিশ্ববিদ্যালয় গুলো'র ভিসি কিংবা অন্যান্য বড় বড় পদে আছেন; আপনারা কি নিজদের প্রয়োজনে এই ছেলে গুলোকে ব্যাবহার করেননি? এদের আপনারাই খারাপ বানিয়েছেন। এতো চমৎকার ছেলে গুলো চোখের সামনে বিপথে চলে গেল।

এখন যেই নতুন ছেলে দুটোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে; আপনারা কি ভাবছেন ওরা ভালো থাকতে পারবে? দিন কয়েক যাক, শুরু হবে ওদেরকে ব্যাবহার করার মিশন। আর যখনই নিজদের স্বার্থ হাসিল করা যাবে না; তখন ওরাও হয়ে যাবে খারাপ।

আপনি যদি গোড়া না ঠিক করে আগা ছাটাই করেন; তাতে কোন ফায়দা নেই! কেবল ঝড়ে পড়া পুরনো পাতার জায়গায় নতুন পাতা গজাবে। গাছটা কিন্তু একই থাকবে!

লেখক : আমিনুল ইসলাম
শিক্ষক ও গবেষক, ইউরোপ
সাবেক শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।